১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে ডেঙ্গু আতঙ্ক

  • Update Time : ০৩:৫৪:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯
  • / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জসিম উদ্দিন :: সারাদেশের ন্যায় সুনামগঞ্জে ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন লোকজন ডেঙ্গু সম্পর্কে জ্ঞাত হলেও অধিকাংশই এ রোগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই। তবে আতঙ্ক আছে জনে জনে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে এ রোগ নিয়ে কথা বার্তা বলতে শুনা যাচ্ছে। সচেতন মহল মনে করেন ডেঙ্গু সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা নেয়া উচিত এবং বাড়ির আশপাশ মশক নিধন ঔষধ ছিটিয়ে নিরাপদ রাখতে এক্ষুনি পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

 

জানা গেছে সম্প্রতি এই জেলায় চারজন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছেন। এরা সবাই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এ রোগ সনাক্ত হয়। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চারজন রোগী ঢাকা থেকে ডেঙ্গু নিয়ে এ শহরে আসায় ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ডেঙ্গু রোগটিকে দুর্যোগ মনে করে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন। এবং মশক নিধনে ডোবা নালা, বাসা-বাড়ির আশপাশ, রাস্তাঘাটে জমে থাকা পচা নর্দমা, এলাকায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। এ অভিযান কিছু এলাকায় দৃশ্যমান হলেও পুরোদমে পৌর এলাকায় দেখা যায় নি।

 

এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে মশার বিস্তার দেখা গেলেও নিধনের কোন ভূমিকা চোখে পড়ছে না। জেলা প্রশাসক সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নির্দেশ দিলেও তা পালনে তেমন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শিমুলবাক ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মুমিন জানান, আমরা ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। গ্রামে গ্রামে মশক নিধনের ঔষধ ছিটানোর ইচ্ছা থাকলেও ঔষধ না থাকায় সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার যদি আমাদের ঔষুধ প্রদান করেন তবেই আমরা বাড়ির আশপাশ মশক নিধনের উদ্যোগ গ্রহণ করব। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া মেধাবী শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার জানান, ডেঙ্গু এক ভয়াবহ মহামারি।

 

প্রাকৃতিক সৃষ্ট এ গজব থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির আশপাশ মশক নিধনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ঔষধ ছিটানো উচিত। যেকোন সময় এ রোগে কেউ আক্রান্ত হলে অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসা না করে মরতে পারে। সবার মাঝে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

 

জয়নগর বাজার হাজী গনি বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিলু মিয়া জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পেয়েছি। তবে এখনও স্কুলের আশপাশ পরিচ্ছন্ন করিনি। দু-এক দিনের মধ্যে পরিচ্ছন্ন অভিযান শুরু করব। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশারফ হোসেন জানান ডেঙ্গু মোকাবেলায় শহরে ছয়টি স্প্রে মেশিন দিয়ে ঔষধ ছিটানো হচ্ছে। ডোবা-নালাসহ যেখানে কচুরিপানা জমে আছে সেখানেই ঔষধ ছিটানো হবে। সিভিল সার্জন ডাঃ আশুতোষ দাস জানান, ডেঙ্গু একটি ভয়ানক ব্যাধি। এ পর্যন্ত চার জন রোগী সনাক্ত হয়েছে। এরা সবাই ঢাকা থেকে এ রোগ নিয়ে সুনামগঞ্জ এসেছিলেন। আমরা রোগী সনাক্ত হলেই কার্যকরী চিকিৎসা নিতে প্রস্তুত রয়েছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সুনামগঞ্জে ডেঙ্গু আতঙ্ক

Update Time : ০৩:৫৪:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯

জসিম উদ্দিন :: সারাদেশের ন্যায় সুনামগঞ্জে ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন লোকজন ডেঙ্গু সম্পর্কে জ্ঞাত হলেও অধিকাংশই এ রোগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই। তবে আতঙ্ক আছে জনে জনে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে এ রোগ নিয়ে কথা বার্তা বলতে শুনা যাচ্ছে। সচেতন মহল মনে করেন ডেঙ্গু সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা নেয়া উচিত এবং বাড়ির আশপাশ মশক নিধন ঔষধ ছিটিয়ে নিরাপদ রাখতে এক্ষুনি পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

 

জানা গেছে সম্প্রতি এই জেলায় চারজন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছেন। এরা সবাই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এ রোগ সনাক্ত হয়। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চারজন রোগী ঢাকা থেকে ডেঙ্গু নিয়ে এ শহরে আসায় ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ডেঙ্গু রোগটিকে দুর্যোগ মনে করে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন। এবং মশক নিধনে ডোবা নালা, বাসা-বাড়ির আশপাশ, রাস্তাঘাটে জমে থাকা পচা নর্দমা, এলাকায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। এ অভিযান কিছু এলাকায় দৃশ্যমান হলেও পুরোদমে পৌর এলাকায় দেখা যায় নি।

 

এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে মশার বিস্তার দেখা গেলেও নিধনের কোন ভূমিকা চোখে পড়ছে না। জেলা প্রশাসক সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নির্দেশ দিলেও তা পালনে তেমন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শিমুলবাক ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মুমিন জানান, আমরা ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। গ্রামে গ্রামে মশক নিধনের ঔষধ ছিটানোর ইচ্ছা থাকলেও ঔষধ না থাকায় সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার যদি আমাদের ঔষুধ প্রদান করেন তবেই আমরা বাড়ির আশপাশ মশক নিধনের উদ্যোগ গ্রহণ করব। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া মেধাবী শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার জানান, ডেঙ্গু এক ভয়াবহ মহামারি।

 

প্রাকৃতিক সৃষ্ট এ গজব থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির আশপাশ মশক নিধনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ঔষধ ছিটানো উচিত। যেকোন সময় এ রোগে কেউ আক্রান্ত হলে অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসা না করে মরতে পারে। সবার মাঝে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

 

জয়নগর বাজার হাজী গনি বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিলু মিয়া জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পেয়েছি। তবে এখনও স্কুলের আশপাশ পরিচ্ছন্ন করিনি। দু-এক দিনের মধ্যে পরিচ্ছন্ন অভিযান শুরু করব। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশারফ হোসেন জানান ডেঙ্গু মোকাবেলায় শহরে ছয়টি স্প্রে মেশিন দিয়ে ঔষধ ছিটানো হচ্ছে। ডোবা-নালাসহ যেখানে কচুরিপানা জমে আছে সেখানেই ঔষধ ছিটানো হবে। সিভিল সার্জন ডাঃ আশুতোষ দাস জানান, ডেঙ্গু একটি ভয়ানক ব্যাধি। এ পর্যন্ত চার জন রোগী সনাক্ত হয়েছে। এরা সবাই ঢাকা থেকে এ রোগ নিয়ে সুনামগঞ্জ এসেছিলেন। আমরা রোগী সনাক্ত হলেই কার্যকরী চিকিৎসা নিতে প্রস্তুত রয়েছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ