সুনামগঞ্জের ৫টি অাসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী
- Update Time : ১১:১৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন সরগরম সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা এরই মধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন।
এ জেলায় বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তরুণ প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জেলার পাঁচটি (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও ,মধ্যনগর-১ দিরাই-শাল্লা-২, জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-৩, সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর-৪ ও ছাতক, দোয়ারাবাজার-৫) আসনেই এখন পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেটের মাধ্যমে বার্তা পাওয়া যাচ্ছে আগামী নির্বাচনের। প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভিতরে-বাইরে কম-বেশি দ্বন্ধও রয়েছে।
নানা কর্মসূচিতে সমাবেশ-পাল্টা সমাবেশও হচ্ছে আওয়ামী লীগে। গ্রুপিংয়ের কারণে মাঝে মধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সাংগঠনিকভাবে বিএনপি এখন অনেকটাই দুর্বল। তবে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুলের নেতৃত্বে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে আগামী নির্বাচনে সুনামগঞ্জে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে সকল নেতাকর্মী ঐকবদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য কোনো দলের তেমন কোনো তৎপরতা নেই সুনামগঞ্জে। কার্যত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। তবে পাঁচটি আসনেই দুই দলেরই প্রার্থীর ছড়াছড়ি। দুই দলে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও ,মধ্যনগর): আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এ আসনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে চলছে জটিল সমীকরণ। উপজেলায় উপজেলায় কোন্দলে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগ। ফলে এ আসনের বর্তমান এমপি ইউঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতকে ক্ষমতায় দেখতে চায়নি স্থানীয় জনগণ। এই আসনে একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে নেমেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এড. রনজিত সরকার।
নিজের মতো করে প্রস্তুতি হয়ে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও একের পর এক সমাবেশ করছেন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে। তবে মনোনয়ন প্রতিদ্বন্ধিতায় আরও দুজন শক্ত প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষক লীগের মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামীমা শাহারিয়া, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান সেলিম। এ আসনে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন যুদ্ধে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক এমপি নজির হোসেন, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠানিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আনিসুল হক ও ডাক্তার রফিক চৌধুরী, ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি লিটন মনোনয়নের জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই – শাল্লা): দিরাই শাল্লা আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গত ৩৫ বছর ধরে এই আসনে আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত হয়ে আসছে। তবে এ আসনের রাজনীতি এখন বেশ ঘোলাটে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিপর্যস্ত নেতা-কর্মীরা। এই আসনে বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হলেও উপ নির্বচানে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন সুরঞ্জিত সেনের সহধর্মীনি ড. জয়া সেনগুপ্তা। এই আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান ধরে রাখতে আবারও মনোনয়ন পাবেন বলে ড. জয়া সেনগুপ্তা। এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হয়ে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী। দলের প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্র থেকে ‘সবুজ সংকেত’ও পেয়েছেন তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিয়মিত এলাকায় থেকে নেতা-কর্মীদের পাশে রয়েছেন তিনি। এলাকায় দলের সব কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ): এ আসনে আগামী নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় একজনেরই নাম আলোচিত। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন বর্তমান অর্থপ্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড তিনি ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত। নিয়মিত নেতা-কর্মীদের খোঁজখবরও নিচ্ছেন তিনি। তবে এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কাজ মাঠে চষে বেড়াচ্ছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ আজাদ ডন । অন্যদিকে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ লে. কর্ণেল অব. সৈয়দ অালী অাহমদ, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারন সম্পাদক কয়ছর এম রহমান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি এম এ মালেক খান, সুনামগঞ্জ জেলার সহসভাপতি ফারুক অাহমদ, সুনামগঞ্জ জেলার সহসভাপতি মো. আনছার উদ্দিন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় গণসংযোগসহ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর) : গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এই আসনটিতে একক প্রার্থী হয়ে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়। তবে এই আসনে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে নেমেছেন। একের পর এক সভা সমাবেশ করে আসছে তারা। তবে গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করা ও বয়স জনিত কারনে মতিউর রহমান বাদ পড়লে ব্যারিস্টার ইমন এখানে মনোনয়ন পেতে পারেন। এই আসনে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পাওয়ার আশায় পৌর মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুলের গুঞ্জনা শুনা যাচ্ছে। এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সাবেক হুইপ ফজলুল হক আছপিয়া ও বর্তমান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জাকেরিন।
এদিকে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার): আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার আশায় নির্বাচনী এলাকাতে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, তবে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় এলাকার নেতা কর্মীদের নিয়ে প্রায়ই গণসংযোগ করছেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শামিম আহমদ চৌধুরী। আর এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় বিএনপি নেতা কর্মীদের নিয়ে একের পর এক মতবিনিময় করছেন জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন ও সাবেক ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান।



























