সুনামগঞ্জের মধ্যবাজার ও পশ্চিম বাজারবাসীর উদ্যোগে ড. মোহাম্মদ সাদিকের সমর্থনে নির্বাচনী সভা সম্পন্ন
- Update Time : ১২:৩০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জানুয়ারি ২০২৪
- / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ :: পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিব এবং সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন,গত ১৭ ডিসেম্বর বলা হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর আসনে নৌকা থাকবেনা। এখন শুনছি ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়ে গেছে। নৌকা বদলের জন্য হউক বা ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের জন্য হউক সুনামগঞ্জবাসীর বিরুদ্ধে দফায় দফায় প্রাসাদ ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। অব্যাহত এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ৭ জানুয়ারি নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে ব্যালট বিপ্লব ঘটাতে হবে। প্রয়োজনে ক্রলিং করে হলেও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে সকল ষড়যন্ত্রের দাতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহবাণ জানিয়েছেন তিনি। রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের মধ্যবাজার,পশ্চিম বাজার,রায়পাড়া,মোক্তারপাড়া ও সোমপাড়া এলাকাবাসীর ব্যবসায়ী জনতার উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহবাণ জানান ।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ভোলানাথ চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে ও পৌর কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লোহ এর পরিচালনায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ড.মোহাম্মদ সাদিকের সমর্থনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত,জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিমান চন্দ্র রায়,বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.ফজলুল হক,জেলা কৃষক লীগের আহবায়ক আব্দুল কাদির শান্তি মিয়া,সাবেক কাউন্সিলর মনীষ কান্তি দে মিন্টু, সম্মিলিত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম সজিব,সাবেক কমিশনার মতিলাল চন্দ,সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আল-হেলাল,পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর সামিনা চৌধুরী মনি,সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ চন্দন প্রসাদ রায়,যুব মহিলা লীগ নেত্রী সানজিদা নাসরীন দিনা ডায়না, সাবেক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী চাঁদনী আক্তার ও ব্যবসায়ী দীপ্ত বনিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা। সভায় পবিত্র ক্বোরআন তেলাওয়াৎ করেন ক্বারী মোঃ ইব্রাহিম। গীতা পাঠ করেন রিংকু চক্রবর্ত্তী। নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ড.মোহাম্মদ সাদিক কে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন মধ্যবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বজু বনিক,বিপ্লব বনিক,ফ্রেন্ডস ক্লাব পূজা কমিটির পক্ষ থেকে জগদীশ বনিক ও নন্দন রায়,সন্ধানী পূজা ক্লাব পূজা কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি চন্দন প্রসাদ রায়,ধীরেন্দ্র বনিক,সুব্রত বনিক,গৌরাঙ্গ বনিক গৌরা ও মুক্তি রায়। মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী চন্দন কুমার রায়,রবীন্দ্র কুমার দে,কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অরুন চন্দ্র দে ,শ্রী শ্রী জগন্নাথবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় তালুকদার বিজু ও ঝন্টু তালুকদারসহ শহরের পশ্চিম বাজার ও মধ্যবাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীগণ। সভায় বক্তারা মোক্তারপাড়ায় একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জোরালো দাবী উত্থাপন করেন। এবং নির্বাচনের আগেই শহরের মোক্তারপাড়াস্থ জাতীয় মহিলা সংস্থা ভোট কেন্দ্রটি যথাস্থানে পূণর্বহালের জন্য জেলা নির্বাচন কমিশনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাঙ্গালী হিসেবে জাতিগত ভূলের কথা উল্লেখ করে ড.সাদিক বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা বাঙ্গালী বিজয়ীরা ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু পরাজিতরা কখনও ঘুমায়নি। তাইতো ষড়যন্ত্রকারীরা গভীর রাতে জেগে থেকে ঘুমের ঘোরে জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করেছিলো। তিনি বলেন,পৃথিবীতে একটি পাখি হত্যা করলেও বিচার হয়। সুপারস্টার সালমান খান একটা হরিন শিকার করেছিলেন সেই মামলা এখনও চলছে। অথচ জাতির পিতার হত্যাকান্ডের বিচার হবেনা বলে এদেশে দায়মুক্তি আইন করা হয়েছিল। কিন্তু জাতির পিতার জেষ্ট সন্তান শেখ হাসিনা কোন ট্রাইব্যূনালে নয় সাধারন আদালতেই হত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এই বিচারের মধ্যে দিয়ে তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি নতুন ইতিহাস প্রণয়ন করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন,বঙ্গভবন বা গণভবনে নয় নিজ বাড়ীতেই জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। তৎকালীন সেনা প্রধান বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন বাড়ীর পিছন দিয়ে বের হয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু জাতির পিতা পালিয়ে যাননি। তিনি শত্রæর সামনে সাহস নিয়ে বলেছিলেন,কি চাস তোরা। হাজার বছরের বাঙ্গালীর সেই শ্রেষ্ট সন্তান সন্তান পৃষ্ট দেশে নয় বুক পেতে শত্রæর সামনেই বুকে গুলি নিয়েছিলেন।
ড. সাদিক বলেন, একজন চিকিৎসক যদি ভূল করেন তখন সেই ভুলের জন্য রোগী মারা যায়। একজন প্রকৌশলীর ভুলের কারণে একটি বিল্ডিং ধ্বসে পড়ে যায় আর জননেতারা ভূল করলে করলে জনগণ এবং জনপদ উন্নয়ন বঞ্চিত হয়। আজ উত্তর সুনামগঞ্জের মানুষ এক একটা ছিটমহলের অধিবাসী হয়ে গেছেন। এটিতো কোন তামাশা নয়। এর জবাব কাউকে না কাউকে দিতেই হবে। তিনি বলেন,আমাদের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা কোন ভূল করেননা। তার স্মৃতিশক্তি প্রচন্ড প্রবল। বাংলাদেশে কোন আরব্য উপন্যাসের দৈত্য আসে নাই। আমাদের শুধু একজন শেখ হাসিনা আছেন। যিনি বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন। আমাদের জাতি রাষ্ট্রের কাছে যদি কোন ম্যাজিক থেকে থাকে সেই ম্যাজিকের নাম জননেত্রী শেখ হাসিনা। যিনি নিজেকে শেখের বেটি বলতেই পছন্দ করেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করাই যার জীবনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। ১লা জানুয়ারি বছরের প্রথম দিনে ৪৫ কোটি বই দেয়ার কোন উদাহরন পৃথিবীর কোথায়ও নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জে এসে বলেছিলেন গোপালগঞ্জের উন্নয়ন হলে সুনামগঞ্জের উন্নয়ন হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা তার কোন প্রতিশ্রæতি ভুলেননা। তার স্মৃতিশক্তি অসাধারণ। সুনামগঞ্জের উন্নতি ঠিকই হয়েছে। কিন্তু উন্নয়ন হয়েছে দক্ষিণের দিকে উত্তরের দিকে হয় নাই।
আমি জনগনের ট্যাক্সের টাকায় ২ কোটি টাকা মূল্যের গাড়ী চড়েছি। মিন্টু রোডের সরকারী বাসায় ঘুমিয়েছি। পিএসসির চেয়ারম্যান ও নির্বাচন কমিশনের সচিব থেকে জীবনে অনেক বড় বড় দায়িত্ব পালন করেছি। তারপরও আমার এলাকার মানুষের কাছে আমার একটা দায়বদ্ধতা আছে। মঞ্চে বসা চন্দন আমার ক্লাসমেট ভালো ছাত্র ছিলেন। আমার সহকর্মী পূর্নেন্দুর কারণে কেউ ক্লাসে ফার্স্ট হতে পারে নাই। কিন্তু তারা সচিব হতে পারেননি। জীবনে আমি যত বড়ই হইনা কেন,আপনারা আমার জন্ম সহোদর। আমিতো আপনাদের এলাকায় মীরাদীর সন্দেশ খেয়ে উৎসব করেছি। এই শহরে আপনাদের কাছে আমার অনেক দাবী আছে। আমি নেতা হওয়ার জন্য আসিনি। শেখ হাসিনার মানবিক রাষ্ট্রের একজন কর্মী হতে এসেছি।
নবী করিম (সঃ) এর বিদায় হজ্জের ভাষন ও মহাভারতের সারাংস উল্লেখ করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলীর কয়েকটি কবিতার উদ্ধৃত্তি দিয়ে, লাউড়ের কবি সঞ্জয়ের কবিতা পড়ে ও বৈষ্ণব কবি রাধারমনের কৃষ্ণপ্রেমের গানের কথা স্বমহীমায় উচ্চারন করে কবি ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের অভিযাত্রায় গণরায় দিয়ে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায়, সুকান্তের ভাষায় সাবাস বাংলাদেশ মাথা নোয়াবার নয় সেই আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে আমাকে নিজেদের কামলা হিসেবে গ্রহন করে নিন।
ড. মোহাম্মদ সাদিক একই দিন রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে, বনগাঁও হাসাউড়া বাজার ও জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজারে পৃথক ৩টি নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন। অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু সুফিয়ান, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম, সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম বজলু,সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল আলম নিক্কু, দৈনিক সুনামকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি মোঃ জিয়াউল হক, জেলা যুবলীগ নেতা সবুজ কান্তি দাস, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার ডিলার, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলাম, ইউপি সদস্যা মাজেদা বেগম, ইউপি সদস্যা তানজিনা বেগম রুকশানাসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা।



















