সুনামগঞ্জের এক বিপ্লবী চেতনার নাম কবি ইমামুল ইসলাম রানা
- Update Time : ১২:১০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা :: বাংলা সাহিত্যে কবি ইমামুল ইসলাম রানার অবদান অনেক। হয়তো সেখাবে লক্ষ্যনীয় না হলেও যারা বুঝার তারা ঠিকই জানের বর্তমানে সাহিত্যের বিশাল অঙ্গন জুড়ে তাঁর প্রভাব রয়েছে।
প্রাকৃতির নিবিড় নৈসর্গিক সৌন্দর্যময় সুনামগঞ্জের সুনাম ধন্য ছাতক উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঝিগলী গ্রামে ১৯৭২ সালে কবি ইমামুল ইসলাম রানা জন্মগ্রহন করেন। মাতা মরহুমা আকলিমা খাতুন । পিতা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল হক । পল্লী মায়ের আঁচলে
বেড়ে উঠা মানুষটি ছোট বেলা থেকে সবার প্রিয় হয়ে উঠেন । সেই ছোটবেলা থেকেই গ্রামীণ জনপথের মায়া মমতায় জড়ানো কবির জীবনে আসে কাব্যিক ধ্যান-ধারনা আর আবহমান গ্রাম
বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি এক গভীর
প্রেম যা তাকে পরিণত করেছে সাহিত্যের নিরলস কর্মী হিসেবে।
কবি বলেন —
দেখবে যদি গাঁয়ে আস
পাখপাখালীর বাসা,
পাবদা পুঁটি আছে হেথা
রউয়া বীলে ঠাঁসা।
তিনি একাধারে কবি, ছড়াকার , সাহিত্যিক ও গীতিকার । তিনি চার ভাই ও দুই বোনদের মধ্যে ৩য় । মেঝভাই নজরুল ইসলাম আসলমী প্রগতিশীল ছড়া শিল্পী । তিনি লন্ডনে বসবাস করলেও দেশের কথা বুকে ধারণ করে গেয়ে উঠেন স্বদেশ প্রেমের গান কবিতা ।
ইসলামী আন্দোলনের ধারাকে অব্যাহত রাখতে গেয়ে উঠেন।
ইবলিশের এই হেলি খেলায়
জিহাদ তোরা ডাকরে ,
হুংকারিয়ে জগৎ জুড়ে
লাগিয়ে দে তাকরে ।
বক্ষে তোদের হাদিস কুরআন
এমন করে হাঁকরে,
চিৎকার শুনে ইবলিশ যেন
হারায় তাদের বাঁকরে।
যুগে যুগে তার লিখনি সামাজিক আন্দোলে অগ্রভূমিকা পালন করেন । অন্যায় অবিচারের প্রতি গর্জে উঠে কলমের চিৎকার।
কবি বলেন –
মারবো খোঁছা অস্ত্র হাতে
থকবে শুধু কলম ,
ঘা মুছবেনা ক্ষতস্থানে
লাগালে শত মলম ।
তিনি ১৯৮৯ ইংরেজিতে দৈনিক সিলেট বানীতে “শৈশব স্মৃতি ” কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেন । সিলেট বানীর সম্পাদক জনাব জাহিরুল ইসলামের উৎসাহ উদ্দীপনায় তিনি লিখার খোড়াক পান।
সমাজ ও জাতি ও দেশের জন্য তাঁর কলম গর্জে উঠে বারবার । এই অসাধারণ প্রতিভাবান মনুষটি বলেন –
আমি বিদ্রোহীর উত্তরসুরী ,
গ্রাস করে সব অত্যাচারী ,
হত্যাকারী, নাটের গুরু, ঘাটের মশাই ।
শোন ধুকাবাজ !
রাজার আওয়াজ হাঁকছি মুখে ,
কাঁপছে দেখি জুলুমবাজে , সকল কাজে ।
শোন হারামী !
আর কতকাল ?
চালাবি তোর গোলন্দাজি ,
জাগছি আমরা কাজের কাজি,
জীবন বাজি – ধরবো আজি,
পিঠ ছিল্লা দিব লবন লাগাই
স্বাচ্ছা কথায় আচ্ছা দাওয়াই ।
স্বদেশের তরে তাঁর অসংখ্য কবিতা যেমন –
” স্বদেশ আমার বক্ষে ”
” পতাকা কথা ”
” রক্তাক্ত জনতা ”
” লেলিহান শিখা ”
আরও অসংখ্য শিরোনামের লিখাগুলো আলোচিত হয়েছে । তার সাহিত্যপ্রেম তাকে করেছে এক মুক্ত মানুষ । সাহিত্যাঙ্গনে বাংলাদেশ ও ভারতে তার একটি সক্ষম অবস্থান রয়েছে তা তার সাহিত্য কর্ম থেকেই বুঝা যায়। তিনি একজন দক্ষ সংগঠক। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের স্বনামধন্য লেখকদের সাথে ‘‘সাহিত্য কথা’ ’নামে একটি অনলাইনভিত্তিক প্রগতিশীল গ্রুপের এডমিন হিসাবে কাজ করে নিজেকে পরিচিত করে তুলেন ।
তার প্রকাশিত প্রথম দেয়ালিকা ” কলমী লতা ” ১৯৮৮ ইংরেজি।
অনিয়মিত সাহিত্য পত্র ” শব্দসিঁড়ি ” ১৯৯২ ইংরেজি থেকে যা এখনও প্রকাশিত হয়।
একক কাব্য – পতাকার কথা।
যৌথ কাব্য – স্বদেশ আমার বক্ষে, সেরা প্রেমের কবিতা, স্বপ্ন দিগন্ত, সময়ের কাব্য ইত্যাদি ।
সম্পাদিত ম্যাগাজিন –
শব্দসিঁড়ি, মন ছুঁয়েছে মন , উৎসব, ভাটির কবিতা ইত্যাদি। এছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় তার অসংখ্য লিখা প্রকাশিত হয়। কবিতার জন্য তিনি স্থানীয় অনেক সম্ম্ননা পুরষ্কার পেয়েছেন। আমরা তার দীর্ঘায়ু কামনা করি ।




























