১২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জকে দুর্গত ঘোষণা ও বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি’র তদন্তে গণশুনানীর দাবি

  • Update Time : ০৩:০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা :: সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা ও ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে গণশুনানীর দাবি ওঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের আহবায়ক অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, অ্যাড. স্বপন কুমার দাস রায়, বিজন সেন রায়, অ্যাড. সালেহ আহমদ, সদস্যসচিব বিন্দু তালুকদার, সংগঠনের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীর, বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী, অ্যাড. রুহুল তুহিন, অ্যাড. শেরেনুর আলী, অ্যাড. এনাম আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম, রুহুল আমিন, সাহাব উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, মাহবুব হোসেন পীর, মাসুম হেলাল, সালেহীন চৌধুরী শুভ, একে কুদরত পাশা, রাজু আহমদ আহমদ, প্রদীপ পাল, দিপাল ভট্টাচার্য, আসাদ মনি, শহীদনুর আহমদ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘জেলার সকল বোরো জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফসল হারিয়ে কৃষক পরিবারগুলোতে হাহাকার ও আহাজারি চলছে। ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমপেক্ষ ২ হাজার কোটি টাকা। সুনামগঞ্জের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন, পিআইসি ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগের পর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে আড়াল করার জন্য সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বেঁঁচে থাকার তাগিদে ও গো-খাদ্যের অভাবে প্রায় সকল কৃষক গৃহপালিত গবাদিপশু কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। সরকার কর্তৃক খাদ্য সহায়তার জন্য কর্মসূচি পর্যাপ্ত নয়। এজন্যই সুনামগঞ্জ জেলাকে অবিলম্বে দুর্গত এলাকা ঘোষণা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে- কৃষকদের বিনামূল্যে ত্রাণ সহায়তা প্রদান, রেশনিং প্রথা চালু ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ওএমএস’র কার্যক্রম চালু। ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে প্রাধান্য দিতে হবে।  সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকসহ এনজিও সংস্থার ঋণ ও কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা, সকল কৃষি ঋণ মওকুফ, সুদমুক্ত নতুন কৃষি ঋণ প্রদান ও আগামী বোরো মৌসুমে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়। কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি খাজনা আদায় স্থগিত করা ও হাওরের ভাসান পানিতে মাছ ধরার সুযোগ এবং হাওরের ফসল রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে  টেকসই বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়।
বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দুদক’এর গণশুনানী গ্রহণ এবং এর আগে যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারির দাবি জানানো হয়।
এছাড়া ফসল রক্ষায় জেলার প্রত্যেকটি নদ-নদী, খাল-বিল ও হাওর খনন, নির্মাণের গতানুগতিক পদ্ধতি পরিহার করে টেকসই বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগ গ্রহণ। ফসলহানির প্রভাবে ধান পঁচে হাওরের মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকের পাশাপাশি মৎস্য আহরণ পেশায় জড়িতদের সুরক্ষার জন্য সরকারি পুনর্বাসন ও মাছ ধরার জন্য জেলার সকল জলমহাল উন্মুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সুনামগঞ্জকে দুর্গত ঘোষণা ও বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি’র তদন্তে গণশুনানীর দাবি

Update Time : ০৩:০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা :: সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা ও ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে গণশুনানীর দাবি ওঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের আহবায়ক অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, অ্যাড. স্বপন কুমার দাস রায়, বিজন সেন রায়, অ্যাড. সালেহ আহমদ, সদস্যসচিব বিন্দু তালুকদার, সংগঠনের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীর, বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী, অ্যাড. রুহুল তুহিন, অ্যাড. শেরেনুর আলী, অ্যাড. এনাম আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম, রুহুল আমিন, সাহাব উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, মাহবুব হোসেন পীর, মাসুম হেলাল, সালেহীন চৌধুরী শুভ, একে কুদরত পাশা, রাজু আহমদ আহমদ, প্রদীপ পাল, দিপাল ভট্টাচার্য, আসাদ মনি, শহীদনুর আহমদ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘জেলার সকল বোরো জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফসল হারিয়ে কৃষক পরিবারগুলোতে হাহাকার ও আহাজারি চলছে। ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমপেক্ষ ২ হাজার কোটি টাকা। সুনামগঞ্জের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন, পিআইসি ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগের পর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে আড়াল করার জন্য সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বেঁঁচে থাকার তাগিদে ও গো-খাদ্যের অভাবে প্রায় সকল কৃষক গৃহপালিত গবাদিপশু কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। সরকার কর্তৃক খাদ্য সহায়তার জন্য কর্মসূচি পর্যাপ্ত নয়। এজন্যই সুনামগঞ্জ জেলাকে অবিলম্বে দুর্গত এলাকা ঘোষণা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে- কৃষকদের বিনামূল্যে ত্রাণ সহায়তা প্রদান, রেশনিং প্রথা চালু ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ওএমএস’র কার্যক্রম চালু। ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে প্রাধান্য দিতে হবে।  সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকসহ এনজিও সংস্থার ঋণ ও কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা, সকল কৃষি ঋণ মওকুফ, সুদমুক্ত নতুন কৃষি ঋণ প্রদান ও আগামী বোরো মৌসুমে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়। কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি খাজনা আদায় স্থগিত করা ও হাওরের ভাসান পানিতে মাছ ধরার সুযোগ এবং হাওরের ফসল রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে  টেকসই বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়।
বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দুদক’এর গণশুনানী গ্রহণ এবং এর আগে যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারির দাবি জানানো হয়।
এছাড়া ফসল রক্ষায় জেলার প্রত্যেকটি নদ-নদী, খাল-বিল ও হাওর খনন, নির্মাণের গতানুগতিক পদ্ধতি পরিহার করে টেকসই বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগ গ্রহণ। ফসলহানির প্রভাবে ধান পঁচে হাওরের মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকের পাশাপাশি মৎস্য আহরণ পেশায় জড়িতদের সুরক্ষার জন্য সরকারি পুনর্বাসন ও মাছ ধরার জন্য জেলার সকল জলমহাল উন্মুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ