সিয়ামের পাশাপাশি কিয়ামের মাস রমজান : ১০ লাখ হাফেজে কুরআনের তারাবিহ অনিশ্চিত
- Update Time : ০৮:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
।। ড. হাফেজ মাওলানা সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ ।।
সিয়ামের পাশাপাশি কিয়াম তথা নামাজের মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসে মুসলিম উম্মাহ কুরআনের লম্বা তেলাওয়াতে তারাবিহ আদায় করেন। কুরআনের সম্মানিত হাফেজরা এ নামাজের ইমামতি করেন। দেশের অধিকাংশ মসজিদেই হাফেজে কুরআন এ তারাবিহ পড়ান। ‘খতম তারাবিহ’ খ্যাত এ নামাজে দেশের প্রায় ১০ লাখ হাফেজে কুরআন নামাজ পড়ান। হাফেজে কুরআনরা সারা বছরই কুরআন চর্চায় নিয়োজিত থাকেন। রমজান মাসে তারা তাদের সে চেষ্টা-সাধনার প্রয়োগ ঘটান। জ্বালিয়ে নেন তাদের ইয়াদ থাকার বিষয়টি। পবাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই মসজিদ আছে। এমনকি কোনো কোনো গ্রামে একাধিক মসজিদও আছে। দেশের প্রায় ৮০ভাগ মসজিদে হাফেজগণ তারাবির নমাজে কুরআন খতম করে থাকেন। মসজিদ ছাড়াও পারিবারিক উদ্দোগে বিভিন্ন বাসায়-বড়ীতে হাফেজদের মাধ্যমে নমাজে কুরআন খতম শুনার ব্যবস্থা করে থাকেন।
এই মূহূর্তে বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী চলছে লকডাউন। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। এ পরিস্থিতিতে দরজায় কড়া নাড়ছে রহমতের বার্তাবাহী ইবাদতের মাস রমজান। রমজানের মূল ইবাদত হচ্ছে রোজা পালন। যে রোজার পুরস্কার দেবেন রাব্বে কারীম নিজেই দিবেন মর্মে ঘোষণা করেছেন। মাসব্যাপী রোজা পালন মুসলমানের জন্য এক মহাপবিত্র ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। করোনাভাইরাসের কারণে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দিন দিন করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে তারাবিহ স্থগিত ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে দেশের জনগণকে ঘরে তারাবিহ আদায়ের কথা জানিয়েছেন মর্মে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অপরদিকে দেশের আলেম সমাজের বড় একটি অংশ তারাবির বিষয়ে বিশেষ ছাড় দিতে বিভিন্ন বিবৃতি আসলেও দেশের করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদে তারাবির নামাজ এখনও না হওয়ারই সম্ভাবনা রয়েছে।
মুসলিম উম্মাহ এবার রমজানের রাতের ইবাদত নামাজে ‘খতম তারাবিহ’-এর আমেজ ও স্বাদ থেকে যেমন বঞ্চিত থাকবে তেমনি রমজানে প্রথম থেকে শহর ও শহরতলির বাহারি ইফতারির স্বাধ থেকেও বঞ্চিত থাকবে। এতে করে দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলের অনেক মসজিদে গরিব-অসহায় খেটে খাওয়া মানুষের জন্য আয়োজিত ইফতার থাকবে স্থগিত। তারাবির ব্যবস্থা না হলে হাফজদের মাঝে কুরআন তেলাওয়াতের অভ্যস্থ চর্চায় প্রাণবিশেষ ফিরে আসবে না। তাছাড়া তারাবিহ উপলক্ষে এ দেশের অনেক হাফেজে কুরআন মুসল্লিদের থেকে পেয়ে থাকেন হৃদ্যতা, আতিথেয়তা ও উপঢৌকন, যা তাদের ঈদের আনন্দ আরো বাড়িয়ে দেয়। সে রকম কিছু হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনাও এবার নেই। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের সদস্যদের রোজা ও ঈদ উদযাপন এই সম্মানির ওপর নির্ভর করে।
পর্যবেক্ষনে দেখা যায়, দেশের হাফেজে কুরআনদের ৯০ ভাগই সরকারের পক্ষ থেকে দুঃস্থ, অসহায় গরীবদের জন্য বিভিন্ন বরাদ্দকৃত অনুদান বাছাই তালিকায় সম্পৃক্ত নয় বললেই চলে। হাফেজরা এদেশের একদল নিরীহ নাগরিকদের অন্তর্ভূক্ত। তাদের সিনায় রয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ৬৬৬৬ আয়াত। রাব্বে করীম তাদের জন্য রেখেছেন পরকলে নির্ধারিত সম্মান। কুরআনের সম্মানে যেতে পারেনা তারা মানুষের দারে দরে। নিরবে সহ্য করা এমন একটি গোষ্ঠির জন্য নয় কী আমাদের কোন দায় দায়িত্ব?
তাই দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের পক্ষ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকৃত হাফেজদের তালিকা তৈরি করে তাদের জন্য মসজিদভিত্তিক একটা থোক বরাদ্দ প্রদান করা বর্তমান সময়ের দাবী মনে করি। তাছাড়া রমজানের খতমে তারাবীকে সামনে রেখে আমরা প্রতি বছর নিজেদের পক্ষ থেকে এবং নিকট আত্মীয়দের পকেট থেকে হাফেজদের জন্য হাদিয়া স্বরুপ কালেকশন করে তাদের প্রদান করা হত।
আজ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারাবি ভিত্তিক সেই দায়িত্ব থেকে আমাদেরকে এক বছরের জন্য অব্যাহতি নিতে হয়েছে। আমরা কী আমাদের পক্ষ থেকে চলতি প্রেক্ষাপট বছরে স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে দায়িত্ব নিতে পারি না? আমাদের এগিয়ে যাওয়া তৎপরতায় দেশের অবহেলিত বঞ্চিত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের, তাদের পরিবারের সামান্য হলেও উপকার হবে। বিনিময় স্বরুপ ফজিলতের মহিমাণ্বিত মাসে মহান রাব্বুল আলামিন এর প্রতিদান আমাদেন দিবেন। ইনশাল্লাহ।
লেখক: অধ্যক্ষ, সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।



















