০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ; কি বলছেন ২০ দলীয় জোট নেতারা?

  • Update Time : ০৬:৪০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: রাজশাহী রবিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচন আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাকি মাত্র আর ৮ দিন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনার পাশাপাশি বাড়ছে শঙ্কা। শুরু হয়ে গেছে অনেক জল্পনা- কল্পনা। কে হবেন আগামীর নগর পিতা, কে বসবেন সিটি মেয়র চেয়ারে। কারণ অন্যন্য সময়ের সিটি নির্বাচনের চেয়ে আসন্ন সিটি নির্বাচনে একটু ভিন্নতা এসেছে, এসছে নতুনত্ব, কারণ এবারই প্রথম দলীয় বা জাতীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে সিটি নির্বাচন। আর আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন-সিসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থী সহ মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন মোট ৯ জন। সিলেট সিটি নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নব নির্বাচিত সহ-সভাপতি সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর সাথে।

 

এডভোকেট মাওলানা  শাহীনূর পাশা চৌধুরী বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ জোটের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সফল মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছে।

 

জোটের একাধিক প্রার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রার্থী একাধিক থাকলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিম তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে জোট মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হককে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন। সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে জামায়াতের দাবি ছিলো জোটগতভাবে তাদের প্রার্থীকে সমর্থনের ব্যাপারে। তাদের বক্তব্য হলো বিএনপি বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিয়েছে যে, জোটগত সমর্থন তাদেরকে দিবে। তাদেরকে আশ্বাস দিয়ে তা রাখেনি বলেই তারা একক প্রার্থী দিয়েছে।

 

জামায়াতের প্রার্থী দেয়ার পিছনে সরকারের সাথে কোন যোগসূত্র আছে কিনা; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো সঠিকভাবে বলতে পারবো না। তবে লোক মুখে এসব কথা শুনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তারাই ভালো বলতে পারবে, সরকারের সাথে তাদের কোন গোপন আতাত হয়েছে কিনা।

 

যদি শেষ পর্যন্ত জামায়াত তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার না করে তাহলে নির্বাচনে জোট মনোনীত প্রার্থীর উপর কোন প্রভাব পড়বে কিনা? এ বিষয়ে তিনি বলেন, এতে কোন পড়বে বলে মনে হয় না। কারণ এখানে কিছু নীরব ভোটার আছেন যারা বিবেচনা করে যে, কার মাধ্যমে সিটিতে যানজট নিরসন হবে, মশার উপদ্রব হ্রাস হবে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবে এমন প্রার্থীকেই নগরবাসী নগরপিতা হিসেবে নির্বাচন করবেন। তাই এতে কোন প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।

 

সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হকের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ২০ দলীয় জোটের এই নেতা বলেন, আমি শতভাগ আশা রাখি কারণ তিনি (আরিফুল হক) প্রায় আড়াই বছর কারাগারে থাকার পরও গত ২২ মাসে যে উন্নয়ন বা কাজ করেছেন তাতে মনে হচ্ছে আবারও তিনি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হবেন।

 

খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, খেলাফত মজলিস বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ জোটের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছে।

 

জোটের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী দিতে না পারার বিষয় তিনি বলেন, এটা তো স্থানীয় নির্বাচন, আর এর আগে কখনও স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত বা জাতীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়নি। আর স্থানীয় নির্বাচনে প্রত্যেক দল যার যার মতো করে প্রার্থী দেয়। তবে এবারই প্রথম সিলেটে জাতীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে যদিও এটা স্থানীয় নির্বাচন। তবে একক প্রার্থী দেয়ার ব্যাপার যে সময়ের প্রয়োজন ছিলো তা হয়তো জোটের কাছে ছিলো না। আর জোট নেতাদের আচরণ আরো একটু সহনশীল হলে হয়তো এমনটা হতো না।

 

জামায়াতের সাথে সরকারের যোগসূত্রের বিষয় মুনতাসির আলী বলেন, আমি মাঠপর্যায়ে আরিফুল হকের গণসংযোগে ছিলাম, সেখানে ভোটাদের কাছে থেকে এমন গুঞ্জন শুনেছি যে, হয়তো সরকারের সাথে যোগসূত্রের কারণে প্রার্থী প্রত্যাহার করছে না। সিলেটের প্রত্যেকটা ভোটারের মনে এই সংশয় কাজ করছে যে, হয়তো সরকারের সাথে কোন যোগ সূত্রের কারণে জামায়াত প্রার্থী প্রত্যাহার করছেনা।

 

সিলেটে জোটের একাধিক প্রার্থী হওয়ার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন প্রভাব ফেলবে কিনা এ বিষয় যানতে চাইলে তিনি বলেন, না এর কারণে কোন প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। কারণ সিটি নির্বাচান হলো স্থানীয় নির্বাচন। এতে ভোটারা প্রার্থীকে খুব নিকট থেকেই দেখতে পারে। যা জাতীয় নির্বাচনে প্রায়ই অসম্ভব। আর স্থানীয় নির্বাচনে ভোটার চায় যে প্রাথীর দ্বারা নগরবাসীর উন্নয়ন হয়েছে বা হওয়ার সম্ভবনা রাখে তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে।

 

আরিফুল হকের জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আরিফুল হকের জয়ের ব্যাপারে আমি উজ্জল সম্ভবনা দেখছি শুনছিও এবং জয়ী হওয়ার যথেষ্ট কারণও আছে। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পরও এই ২২ মাসে সিটির উন্নয়ন মূলক কাজে যে অবদান রেখেছেন তা অনেকে পুরো সময় কাজ করেও পারেনি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ; কি বলছেন ২০ দলীয় জোট নেতারা?

Update Time : ০৬:৪০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: রাজশাহী রবিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচন আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাকি মাত্র আর ৮ দিন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনার পাশাপাশি বাড়ছে শঙ্কা। শুরু হয়ে গেছে অনেক জল্পনা- কল্পনা। কে হবেন আগামীর নগর পিতা, কে বসবেন সিটি মেয়র চেয়ারে। কারণ অন্যন্য সময়ের সিটি নির্বাচনের চেয়ে আসন্ন সিটি নির্বাচনে একটু ভিন্নতা এসেছে, এসছে নতুনত্ব, কারণ এবারই প্রথম দলীয় বা জাতীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে সিটি নির্বাচন। আর আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন-সিসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থী সহ মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন মোট ৯ জন। সিলেট সিটি নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নব নির্বাচিত সহ-সভাপতি সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর সাথে।

 

এডভোকেট মাওলানা  শাহীনূর পাশা চৌধুরী বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ জোটের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সফল মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছে।

 

জোটের একাধিক প্রার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রার্থী একাধিক থাকলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিম তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে জোট মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হককে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন। সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে জামায়াতের দাবি ছিলো জোটগতভাবে তাদের প্রার্থীকে সমর্থনের ব্যাপারে। তাদের বক্তব্য হলো বিএনপি বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিয়েছে যে, জোটগত সমর্থন তাদেরকে দিবে। তাদেরকে আশ্বাস দিয়ে তা রাখেনি বলেই তারা একক প্রার্থী দিয়েছে।

 

জামায়াতের প্রার্থী দেয়ার পিছনে সরকারের সাথে কোন যোগসূত্র আছে কিনা; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো সঠিকভাবে বলতে পারবো না। তবে লোক মুখে এসব কথা শুনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তারাই ভালো বলতে পারবে, সরকারের সাথে তাদের কোন গোপন আতাত হয়েছে কিনা।

 

যদি শেষ পর্যন্ত জামায়াত তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার না করে তাহলে নির্বাচনে জোট মনোনীত প্রার্থীর উপর কোন প্রভাব পড়বে কিনা? এ বিষয়ে তিনি বলেন, এতে কোন পড়বে বলে মনে হয় না। কারণ এখানে কিছু নীরব ভোটার আছেন যারা বিবেচনা করে যে, কার মাধ্যমে সিটিতে যানজট নিরসন হবে, মশার উপদ্রব হ্রাস হবে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবে এমন প্রার্থীকেই নগরবাসী নগরপিতা হিসেবে নির্বাচন করবেন। তাই এতে কোন প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।

 

সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হকের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ২০ দলীয় জোটের এই নেতা বলেন, আমি শতভাগ আশা রাখি কারণ তিনি (আরিফুল হক) প্রায় আড়াই বছর কারাগারে থাকার পরও গত ২২ মাসে যে উন্নয়ন বা কাজ করেছেন তাতে মনে হচ্ছে আবারও তিনি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হবেন।

 

খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, খেলাফত মজলিস বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ জোটের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছে।

 

জোটের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী দিতে না পারার বিষয় তিনি বলেন, এটা তো স্থানীয় নির্বাচন, আর এর আগে কখনও স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত বা জাতীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়নি। আর স্থানীয় নির্বাচনে প্রত্যেক দল যার যার মতো করে প্রার্থী দেয়। তবে এবারই প্রথম সিলেটে জাতীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে যদিও এটা স্থানীয় নির্বাচন। তবে একক প্রার্থী দেয়ার ব্যাপার যে সময়ের প্রয়োজন ছিলো তা হয়তো জোটের কাছে ছিলো না। আর জোট নেতাদের আচরণ আরো একটু সহনশীল হলে হয়তো এমনটা হতো না।

 

জামায়াতের সাথে সরকারের যোগসূত্রের বিষয় মুনতাসির আলী বলেন, আমি মাঠপর্যায়ে আরিফুল হকের গণসংযোগে ছিলাম, সেখানে ভোটাদের কাছে থেকে এমন গুঞ্জন শুনেছি যে, হয়তো সরকারের সাথে যোগসূত্রের কারণে প্রার্থী প্রত্যাহার করছে না। সিলেটের প্রত্যেকটা ভোটারের মনে এই সংশয় কাজ করছে যে, হয়তো সরকারের সাথে কোন যোগ সূত্রের কারণে জামায়াত প্রার্থী প্রত্যাহার করছেনা।

 

সিলেটে জোটের একাধিক প্রার্থী হওয়ার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন প্রভাব ফেলবে কিনা এ বিষয় যানতে চাইলে তিনি বলেন, না এর কারণে কোন প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। কারণ সিটি নির্বাচান হলো স্থানীয় নির্বাচন। এতে ভোটারা প্রার্থীকে খুব নিকট থেকেই দেখতে পারে। যা জাতীয় নির্বাচনে প্রায়ই অসম্ভব। আর স্থানীয় নির্বাচনে ভোটার চায় যে প্রাথীর দ্বারা নগরবাসীর উন্নয়ন হয়েছে বা হওয়ার সম্ভবনা রাখে তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে।

 

আরিফুল হকের জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আরিফুল হকের জয়ের ব্যাপারে আমি উজ্জল সম্ভবনা দেখছি শুনছিও এবং জয়ী হওয়ার যথেষ্ট কারণও আছে। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পরও এই ২২ মাসে সিটির উন্নয়ন মূলক কাজে যে অবদান রেখেছেন তা অনেকে পুরো সময় কাজ করেও পারেনি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ