১২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেট বিএনপির শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে : অনশন ভেঙেই বহিস্কৃত নেতার বাড়িতে ভুরিভোজ!

  • Update Time : ০৫:২১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০১৯
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মো. নাসির উদ্দিন :: দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে করা অনশন শেষে বহিস্কৃত নেতার বাড়িতে ভুরিভোজ সারলেন সিলেট বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বহিস্কৃত নেতাদের আঁতাত করে চলার অভিযোগ ছিল সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এমনকি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গুটি কয়েক নেতার বিরুদ্ধে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির এ ধরণের কিছু ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠেছে।

অবশ্য বিএনপির নেতারা এসব প্রশ্নের যুক্তি খন্ডন করেছেন ভিন্নভাবে। তাদের মতে, দলের বাইরেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানে তারা দাওয়াত খেতে যান। প্রতিবেশি হিসেবে যান নৌকার প্রার্থীর সমাবেশে।

কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও বহিস্কৃত নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলায় নাখোশ সিলেট বিএনপির কর্মী সমর্থকরা।

দলীয় সূত্র জানায়, ৫ম ধাপে সিলেটের ১২টি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়।এরমধ্যে ১০ উপজেলায় বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন ১২ জন। নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা অবজ্ঞা করে প্রার্থী হওয়ায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ৩২জনকে বহিস্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এই বহিস্কৃতদের একজন সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মাজহারুল ইসলাম ডালিম। ৩ মার্চ তিনি বহিস্কার হন।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাকে দলের সকল কর্মকাণ্ড থেকে বহিস্কার করা হলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়  নেতারা তার সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে চলেছেন।

শনিবার (৬ এপ্রিল) সিলেট বিএনপির অনশনে বহিস্কৃত বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম ডালিমের বাড়িতে ভুরিভোজে অংশ নেন কেন্দ্রীয় নেতা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেমসহ অনেকে।একারণে দলের ভেতরেও কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বহিস্কৃত নেতাকে প্রশ্রয় দেওয়া ও তার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ায় কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে জেলা মহানগরের শীর্ষ নেতারা অবজ্ঞা করেছেন মনে করেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা।

এদিকে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট নুরুল হককে জৈন্তপুরে নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে স্থানীয় লামনীগ্রাম মাদরাসার মাঠে আওয়ামী লীগ মনোনীতপ্রার্থী লিয়াকতের পক্ষে জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির এই নেতা। নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও দলেও কারণ দর্শানো নোটিশ পেতে হয়নি ওই নেতার।

অবশ্য এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট নুরুল হক বলেন, নৌকার প্রার্থী লিয়াকত আমার প্রতিবেশী। যে কারণে তিনি আমার কাছে গেছেন। কিন্তু জনসভায় গেলেও নৌকার পক্ষে তিনি কথা বলেননি।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, অনশনে কোনো বহিস্কৃত নেতা ছিলেন না। আর ডালিম যদি উপস্থিত হয়েও থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ হিসেবে হয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে তার বাড়িতে মেজবানে অংশ নেন বলেন তিনি।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, বহিস্কৃত বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সেক্রিফাইস করিনি। তাদের কেউ অনশনে হাজির থাকলেও থাকতে পারেন। কিন্তু বক্তৃতা দিতে দেওয়া হয়নি। আর বহিস্কৃত নেতার বাড়িতে একটি শিরনীতে অংশ নিতে গেছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সিলেট বিএনপির শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে : অনশন ভেঙেই বহিস্কৃত নেতার বাড়িতে ভুরিভোজ!

Update Time : ০৫:২১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০১৯

মো. নাসির উদ্দিন :: দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে করা অনশন শেষে বহিস্কৃত নেতার বাড়িতে ভুরিভোজ সারলেন সিলেট বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বহিস্কৃত নেতাদের আঁতাত করে চলার অভিযোগ ছিল সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এমনকি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গুটি কয়েক নেতার বিরুদ্ধে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির এ ধরণের কিছু ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠেছে।

অবশ্য বিএনপির নেতারা এসব প্রশ্নের যুক্তি খন্ডন করেছেন ভিন্নভাবে। তাদের মতে, দলের বাইরেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানে তারা দাওয়াত খেতে যান। প্রতিবেশি হিসেবে যান নৌকার প্রার্থীর সমাবেশে।

কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও বহিস্কৃত নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলায় নাখোশ সিলেট বিএনপির কর্মী সমর্থকরা।

দলীয় সূত্র জানায়, ৫ম ধাপে সিলেটের ১২টি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়।এরমধ্যে ১০ উপজেলায় বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন ১২ জন। নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা অবজ্ঞা করে প্রার্থী হওয়ায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ৩২জনকে বহিস্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এই বহিস্কৃতদের একজন সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মাজহারুল ইসলাম ডালিম। ৩ মার্চ তিনি বহিস্কার হন।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাকে দলের সকল কর্মকাণ্ড থেকে বহিস্কার করা হলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়  নেতারা তার সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে চলেছেন।

শনিবার (৬ এপ্রিল) সিলেট বিএনপির অনশনে বহিস্কৃত বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম ডালিমের বাড়িতে ভুরিভোজে অংশ নেন কেন্দ্রীয় নেতা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেমসহ অনেকে।একারণে দলের ভেতরেও কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বহিস্কৃত নেতাকে প্রশ্রয় দেওয়া ও তার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ায় কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে জেলা মহানগরের শীর্ষ নেতারা অবজ্ঞা করেছেন মনে করেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা।

এদিকে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট নুরুল হককে জৈন্তপুরে নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে স্থানীয় লামনীগ্রাম মাদরাসার মাঠে আওয়ামী লীগ মনোনীতপ্রার্থী লিয়াকতের পক্ষে জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির এই নেতা। নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও দলেও কারণ দর্শানো নোটিশ পেতে হয়নি ওই নেতার।

অবশ্য এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট নুরুল হক বলেন, নৌকার প্রার্থী লিয়াকত আমার প্রতিবেশী। যে কারণে তিনি আমার কাছে গেছেন। কিন্তু জনসভায় গেলেও নৌকার পক্ষে তিনি কথা বলেননি।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, অনশনে কোনো বহিস্কৃত নেতা ছিলেন না। আর ডালিম যদি উপস্থিত হয়েও থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ হিসেবে হয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে তার বাড়িতে মেজবানে অংশ নেন বলেন তিনি।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, বহিস্কৃত বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সেক্রিফাইস করিনি। তাদের কেউ অনশনে হাজির থাকলেও থাকতে পারেন। কিন্তু বক্তৃতা দিতে দেওয়া হয়নি। আর বহিস্কৃত নেতার বাড়িতে একটি শিরনীতে অংশ নিতে গেছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ