সিলেটে শুরু হয়েছে ওরস! চলছে টাকা, গরু-ছাগল দেয়ার মহোৎসব
- Update Time : ০২:২২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
।। সাইফ রাহমান ।।
শুরু হয়েছে ওরস! চলছে টাকা, গরু-ছাগল দেয়ার মহোৎসব। সিলেট নগরীতে শাহজালাল রহঃ-এর কবরে। ওরস উপলক্ষ্যে। কিন্তু যারা এসব কাজ করে, অর্থাৎ গরু-ছাগল, টাকা দান করে। তারা কী আদৌ ভাবে না যে, এই টাকা, গরু-ছাগলগুলো কোথায় যাবে? কী হবে!
শাহজালাল মুজাররদে ইয়ামনী রহঃ-কী টাকা নিবেন? না গরু-ছাগল তাঁর কবরে পাঠানো হবে! কিছুই না। তিনি মৃত। আর মরা মানুষ কিছু নিতে বা গ্রহণ করতে পারে না। অবশ্যই এটা সবাই বুঝে। কিন্তু এই জানাশুনার পরও কেন এমন করে থাকে, বুঝে আসেনা।
এই যে ওরস চলছে! নারী-পুরুষদের অবাধ মিলামেশা, ধাক্কাধাক্কি। পর্দা ছাড়াই। মদ-গাঁজা খেয়ে টাল হওয়া, শিরনী বিতরণ করা, হৈ-হুল্লোড় করা! এটা কী ইসলাম সমর্থন করে? একটু সার্চ করে দেখছেন আপনারা! ইসলাম কী বলে? কোনো হুজুরদের কাছে জিজ্ঞেস করেছেন? না, আমার মনে হয় না। তাহলে আপনি কিভাবে কাল কিয়ামাতের দিন দায় এড়াবেন?
হ্যাঁ, আপনি সেখানে যাবেন। যান। যিয়ারাত করেন। তাঁর জন্য দোয়া করুন। তাঁর ওসীলা কামনা করে নিজেদের জন্যও দোয়া করুন। এটুকুই। ব্যস। আর না। বাড়াবাড়ি। কিন্তু তাঁর কাছে কোনকিছু চাওয়া, কবরে পেট লাগিয়ে বাচ্চা কামনা করা, এসব হারাম। শিরক। যে গোনাহর কোন ক্ষমা নেই। একমাত্র আল্লাহর দয়া ছাড়া। তাঁর সাথে শিরক করবেন, আর তিনি দয়া করবেন, ভাবা যায়!
একবার এক কবরপূজারীকে পেয়েছিলাম। তিনি গাড়ি দাঁড় করিয়ে সেখানে সালাম সালাম করে টাকা দিলেন। আমার আর বুঝতে বাকী রইলো না যে, তিনি মাজারপূজারী। মাজারে টাকা দিয়ে থাকেন। এভাবেই। পিছু নিলাম। তার গন্তব্য ও আমার গন্তব্য এক। গাড়িতে উঠেই বুঝলাম। তাই একই জায়গায় নামলাম। ভাড়া দিয়ে চলে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় ডাক দিয়ে বললাম ভাই, দাঁড়ান! কথা আছে।
বেচারা হতচকিয়ে উঠলো। হাত ধরে জিজ্ঞেস করলাম কবরের বক্সে টাকা কেন দিলেন? এই টাকা দেয়ার উদ্দেশ্য কী! তিনি বললেন ভাই, বিপদাপদ থেকে যেন রক্ষা পাই, সে উদ্দেশ্যেই গরম বাবার মাজারে টাকা দিলাম। গরম বাবা বলতে! তিনি গরম। কাজ হয় তারাতারি। একটু উল্টাপাল্টা করলে বিনাশ!
আচ্ছা! এই টাকাটা কোথায় যাবে জানেন? তিনি কবরে নিবেন, না তাঁর কোন কাজে আসবে? না ভাই, সেটা তো জানিনা। তাইলে? শুনেন! এই টাকাগুলো মাজারের কমিটির লোকগুলো ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিবে। তারা আয়েশ করবে। ধুমধাম করে খরচ করবে। অথচ এই টাকাগুলো আপনার-আমার হাড়মজানোর টাকা। পরিশ্রমের। কোনোদিন কোনো আলেমকে জিজ্ঞেস করছিলেন? না ভাই। তাইলে তো আর হইছেই। একটু বিবেক খাটান। সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
আপনি টাকা দিবেন। ভালো কথা। উত্তম কাজ। যে কাজের উদ্দেশ্যে দিতে চান, নিয়ত করে মাদরাসা, এতিমখানা, মসজিদ, গরীব-মিসকিন দেখে দিয়ে দিবেন। দেখবেন, এতেই আপনার টাকাটা কাজে লাগবে। পুরোপুরি। পরে বেচারা একদম কাঁদোকাঁদো অবস্থায় তাওবা করে আর জীবনেও কোন মাজারে টাকা দিবে না বলে ওয়াদা করে চলে গেল।
এই যে কোটি কোটি, লাখ লাখ টাকা, বড় বড় ডেগের মধ্যে দেয়া হচ্ছে, খাদিমের কাছেও। আবার সমমূল্যের গরু-ছাগল শাহজালাল-শাহপরাণ মাজারে উঠতেছে, এগুলো কোথায় যাবে? জানেন আপনারা? ভালো কোন কাজে! জানলে আমাকে সঠিক খবর জানান। আমি ক্ষমা চেয়ে নিবো। আর লিখবো না। আমি জানি, এসব টাকা দিয়ে কোথাও কিছু হয়না। ভাগ-ভাটোয়ারা করে মাজার কমিটির লোকজন ভোগ করে থাকেন। সাথে মুখবন্ধের জন্য প্রশাসনকেও কিছু…..
এই হলো অবস্থা। দেশের প্রতিটা মাজারগুলোর। বড় বড় আলেমদের কবরকে মাজার বানিয়ে বাণিজ্য করা হয়। রমরমা ব্যবসা।
তাই আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। আরো আরো। বেশি করে। সচেতনতার সহিত সবাইকে বুঝাতে হবে। দ্বীনের স্বার্থে। ইসলামের জন্য। ভণ্ডামীকে রহিত করতে। মসজিদে মসজিদে, পাড়ায়-মহল্লায়, প্রতিটা ওয়াজে এসব ভণ্ডামী তুলে ধরতে হবে। ক্ষতির দিক, এসব গোনাহের কাজ, শিরক করার নামান্তর। বর্তমানে যে পরিমাণে এগুলো বাড়তেছে, এখনই এদের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে আগামীতে কন্ট্রোল করা মুশকিল হয়ে পড়বে। বেদাতিদের আস্তানায় পরিণত হবে পুরো বাংলাদেশ। তখন আর কিছুই করার থাকবে না। জাযাকুমুল্লাহ



















