সিলেটের জামায়াত নেতা ডা. শফিক ঢাকা-১৫ অাসনে ধান নিয়ে লড়ছেন, সারাদেশে ২৫ প্রার্থী ভোটের মাঠে
- Update Time : ০৫:০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া জামায়াত ইসলামীর ২২ নেতার প্রার্থিতা বহাল থাকল; শেষমেশ তারা ভোটের মাঠে রয়ে গেলেন।
রবিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের নির্বাচন করার বিষয়ে ইসির সিদ্ধান্তের কথা জানান সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।
টিকে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন ডা. শফিকুর রহমান। তার বাড়ি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারে। তিনি যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানো দল জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন।
ডা. শফিকুর রহমান সিলেটের এমসি কলেজে পড়ালেখা করেছেন। সিলেট শহরেই তিনি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। এরপর জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত হওয়ায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভার পড়ে তার কাঁধে। অনেকটা অাড়ালে থেকেই তিনি জামায়াতের রাজনীতি করেছেন। অাসা যাওয়া করেছেন সিলেট নগরীতেও। নগরীতে তার বেশ কিছু ব্যবসা রয়েছে। রয়েছে একটি শিশু ক্লিনিকও। অাওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে তার সখ্যতার খবর বেশ পুরনো। যদিও এই সম্পর্কের কথা কোন পক্ষই স্বীকার করেন না।
রবিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই।
বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন পর্যালোচনা করে দেখেছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের আইনগতভাবে বাতিলের সুযোগ ইসির নেই। কারণ ২৫ জনের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ ছিল। কিন্তু কেউ তখন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেননি বিধায় নির্বাচন কমিশন মনে করে জামায়াত প্রার্থীদের নির্বাচনে আইনগত ভিত্তি আছে।
জানা যায়, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে দেওয়া ২২টি আসন ও স্বতন্ত্রভাবে তিন আসনে জামায়াত নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে ২১টি আসনে বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ এবং চার আসনে ‘আপেল’ প্রতীকে তাঁরা নির্বাচন করছেন।
তারা হচ্ছেন ঢাকা-১৫ আসনে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, চট্টগ্রাম-১৫ আ ন ম শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আযাদ, কুমিল্লা-১১ ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, খুলনা-৫ মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুছ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ-৩ মতিয়ার রহমান, যশোর-২ মুহাদ্দিস আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদৎ হুসাইন, বাগেরহাট-৩ আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ শহীদুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-২ আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৬ আনওয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ ইকবাল হুসাইন, রংপুর-৫ গোলাম রব্বানী ও পিরোজপুর-১ শামীম সাঈদী।
এর মধ্যে কক্সবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ ধানের শীষ প্রতীক পাননি। তিনি আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। আর স্বতন্ত্র হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নুরুল ইসলাম বুলবুল, পাবনা-১ আসনে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।



















