সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি : ২৬ জেলায় পানিবন্দি ৩৫ লাখ মানুষ
- Update Time : ০৩:৫৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। চলমান বন্যা প্রায় এক মাস হতে চলল। এই স্থায়িত্ব আরও মাসখানেক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এরই মধ্যে দেশের ২৬টি জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। প্রধান প্রধান সব ক’টি নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। প্রায় ৩৫ লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে বহু বাঁধ। ডুবে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ক্ষেতের ফসল। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। গবাদিপশু, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, থাকা-খাওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে বানভাসিরা। পানি যত বাড়ছে বিভিন্ন স্থানে তত তীব্র হচ্ছে নদী ভাঙন। বন্যা দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সরকারি ত্রাণ অপ্রতুল হওয়ায় অনেক স্থানে বানভাসিরা ত্রাণ পাচ্ছে না। বানভাসিদের দুর্ভোগ এখন চরমে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এই বৃষ্টি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক হবে। এছাড়া ভারতের আসাম মেঘালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রদেশে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে এবং বন্যার অবনতি হচ্ছে। ভারতীয় অংশের পানিতে দ্রুতই দেশের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের গাণিতিক আবহাওয়ার মডেলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এ সময়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, উত্তরাঞ্চলের ধরলা ও তিস্তা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদী এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অববাহিকার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরণের টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশের বন্যাকবলিত জেলাগুলো হচ্ছে- কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, নওগাঁ, রংপুর, নাটোর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, ঢাকা ও ফেনী। বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার পূর্বাঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করেছে। টানাবৃষ্টিতে ডেমরা এলাকার ডিএন্ডডি বাঁধও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।





























