০২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটসহ সারাদেশে চলছে রোগীকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অারেক নাম লাইফ সাপোর্ট

  • Update Time : ১০:২০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ অক্টোবর ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইয়াকুব মিয়া :: সিলেটসহ সারাদেশে চলছে অসহায রোগীকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অারেক বানিজ্যের নাম লাইফ সাপোর্ট। সিলেটসহ দেশের বিভিন্নস্থানে উন্নত চিকিৎসা সেবার প্রতিশ্রুতিতে গড়ে তোলা বেশিরভাগই অভিজাত হাসপাতালগুলোর বাণিজ্য। চিকিৎসা সেবার নামে রোগীর কাছথেকে টাকা নেওয়ার অন্যতম ব্যবস্থা। রীতিমত পাঁচ তারকা হোটেলের আদলে সাজানো হয়েছে এসব হাসপাতালগুলো। সেখানে প্রস্তুত রয়েছে রোগীদের কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নেয়ার হরেক রকম ফন্দি ফিকির। রোগীদের রীতিমতো জিম্মি করে মুক্তিপণ স্টাইলে টাকা আদায় করা হচ্ছে। একবার ঢুকলে রোগীর টাকা-পয়সা শুষে না নেয়া পর্যন্ত যেন ছাড়াছাড়ি নেই। সাধারণ জ্বর বা পেট ব্যথা নিয়ে কোনো রোগী হাজির হলেও কয়েক ডজন পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অপারেশনসহ রোগীকে লাইফ সাপোর্টে পাঠানো পর্যন্ত প্রতি ধাপেই চলে টাকা আদায়ের ধান্দা। এই হাসপাতালগুলোতে ডাক্তারদের কোনো বেতন নেই, আছে শুধু কমিশন। চিকিৎসায় কমিশন, পরিক্ষায় কমিশন, ঔষধ পথ্যে কমিশন, বিদেশে রোগী পাঠানোর যাবতীয় ব্যবস্থা করে নেয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় অঙ্কের কমিশন। সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে অভিজাত হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারলেই শতকরা ৪০ ভাগ ভর্তি ফি সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের পেটে ঢুকে যায়। যত বেশি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা দিতে পারবেন, ততোই টাকা পাবেন তিনি। অন্যদিকে অত্যাধিক বাড়ার বেড/কেবিনে রোগী রাখার ক্ষেত্রেও ডাক্তারকে শতকরা ২০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমিশন দেয়ার নজির রয়েছে। ফলে জীবিত রোগীকে ছলে বলে কৌশলে হাসপাতালে যেমন আটকে রাখা হয়, তেমনি রোগী মারা গেলেও তার লাশ কয়েক দিন পর্যন্ত লাইফ সাপোর্টে রেখে বিল দেখানোর ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। লাইফ সাপোর্ট ব্যবহার করে বাণিজ্যিক কৌশলটি সাম্প্রতিক সময়ে খুবই পরিচিত করে তোলা হয়েছে। এখানে একজন রোগীর প্রতিদিনের বিল করা হয় ৪০ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

 

আসলেই লাইফ সাপোর্ট মানেই হচ্ছে রোগীকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। অধিকাংশ অভিজাত হাসপাতালগুলোতে এর নামে চলছে অতি নির্দয় ঘৃণ্য ব্যবসা। এই চিত্রটি শুধু সিলেটের নয়, এটি সারা দেশের এক ভয়াবহ চিত্র। লাইফ সাপোর্টের নামে হৃদয়বিদারক এই কাজটি করা হয় হামেশা।

 

যখন একজন মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে শুনতে চায় আল্লাহ তাআলার নাম কিংবা পেতে চায় প্রিয়জনের একটু খানি স্পর্শ। সেখানে এমন অমানবিক আচরণ কতটুকু(?) সমাজের সচেতন মানুষ হিসেবে আমাদেরই বা কি করনীয়? সাধারণত ফুসফুস, হৃদযন্ত্র বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ঠিকমত কাজ না করলে এ সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও সর্দি-কাশি, হাঁচি এমনকি জ্বরের রোগীকেও লাইফ সাপোর্টে পাঠানো হচ্ছে! অপারেশনের রোগী হলে তো কথাই নেই। সাধারণ অপারেশনের রোগীকেও ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত লাইফ সাপোর্টে বন্দী রাখার অসংখ্য নজির রয়েছে। ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের কাছে লাইফ সাপোর্ট রীতিমতো এক আতংকের নাম। প্রতারণার আরেক নাম লাইফ সাপোর্ট।

 

বিভিন্ন সুত্রে জানাগেছে, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় রোগীর সাথে থাকা অাত্মিয়স্বজনরা বড় অসহায চিন্তিত এমন সময় বেশিরভাগই অভিজাত হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সেবার নামে রোগীর কাছথেকে মোটা অংশের টাকা নেওয়ার অন্যতম ব্যবস্থা করেন। লাইফ সাপোর্ট নামে এমন প্রতারণা থেকে ডাক্তারদেরকে বিতর থাকার অনুরোধ জানান অসহায রোগীদের অাত্মিয়স্বজনরা। সেবার নামে এ প্রতারণা বন্ধে সচেতন দেশবাসীকে এগিয়ে অাসার অনুরোধ জানান রোগীদের অসহায অাত্মিয়স্বজনরা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সিলেটসহ সারাদেশে চলছে রোগীকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অারেক নাম লাইফ সাপোর্ট

Update Time : ১০:২০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ অক্টোবর ২০১৮

ইয়াকুব মিয়া :: সিলেটসহ সারাদেশে চলছে অসহায রোগীকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অারেক বানিজ্যের নাম লাইফ সাপোর্ট। সিলেটসহ দেশের বিভিন্নস্থানে উন্নত চিকিৎসা সেবার প্রতিশ্রুতিতে গড়ে তোলা বেশিরভাগই অভিজাত হাসপাতালগুলোর বাণিজ্য। চিকিৎসা সেবার নামে রোগীর কাছথেকে টাকা নেওয়ার অন্যতম ব্যবস্থা। রীতিমত পাঁচ তারকা হোটেলের আদলে সাজানো হয়েছে এসব হাসপাতালগুলো। সেখানে প্রস্তুত রয়েছে রোগীদের কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নেয়ার হরেক রকম ফন্দি ফিকির। রোগীদের রীতিমতো জিম্মি করে মুক্তিপণ স্টাইলে টাকা আদায় করা হচ্ছে। একবার ঢুকলে রোগীর টাকা-পয়সা শুষে না নেয়া পর্যন্ত যেন ছাড়াছাড়ি নেই। সাধারণ জ্বর বা পেট ব্যথা নিয়ে কোনো রোগী হাজির হলেও কয়েক ডজন পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অপারেশনসহ রোগীকে লাইফ সাপোর্টে পাঠানো পর্যন্ত প্রতি ধাপেই চলে টাকা আদায়ের ধান্দা। এই হাসপাতালগুলোতে ডাক্তারদের কোনো বেতন নেই, আছে শুধু কমিশন। চিকিৎসায় কমিশন, পরিক্ষায় কমিশন, ঔষধ পথ্যে কমিশন, বিদেশে রোগী পাঠানোর যাবতীয় ব্যবস্থা করে নেয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় অঙ্কের কমিশন। সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে অভিজাত হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারলেই শতকরা ৪০ ভাগ ভর্তি ফি সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের পেটে ঢুকে যায়। যত বেশি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা দিতে পারবেন, ততোই টাকা পাবেন তিনি। অন্যদিকে অত্যাধিক বাড়ার বেড/কেবিনে রোগী রাখার ক্ষেত্রেও ডাক্তারকে শতকরা ২০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমিশন দেয়ার নজির রয়েছে। ফলে জীবিত রোগীকে ছলে বলে কৌশলে হাসপাতালে যেমন আটকে রাখা হয়, তেমনি রোগী মারা গেলেও তার লাশ কয়েক দিন পর্যন্ত লাইফ সাপোর্টে রেখে বিল দেখানোর ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। লাইফ সাপোর্ট ব্যবহার করে বাণিজ্যিক কৌশলটি সাম্প্রতিক সময়ে খুবই পরিচিত করে তোলা হয়েছে। এখানে একজন রোগীর প্রতিদিনের বিল করা হয় ৪০ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

 

আসলেই লাইফ সাপোর্ট মানেই হচ্ছে রোগীকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। অধিকাংশ অভিজাত হাসপাতালগুলোতে এর নামে চলছে অতি নির্দয় ঘৃণ্য ব্যবসা। এই চিত্রটি শুধু সিলেটের নয়, এটি সারা দেশের এক ভয়াবহ চিত্র। লাইফ সাপোর্টের নামে হৃদয়বিদারক এই কাজটি করা হয় হামেশা।

 

যখন একজন মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে শুনতে চায় আল্লাহ তাআলার নাম কিংবা পেতে চায় প্রিয়জনের একটু খানি স্পর্শ। সেখানে এমন অমানবিক আচরণ কতটুকু(?) সমাজের সচেতন মানুষ হিসেবে আমাদেরই বা কি করনীয়? সাধারণত ফুসফুস, হৃদযন্ত্র বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ঠিকমত কাজ না করলে এ সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও সর্দি-কাশি, হাঁচি এমনকি জ্বরের রোগীকেও লাইফ সাপোর্টে পাঠানো হচ্ছে! অপারেশনের রোগী হলে তো কথাই নেই। সাধারণ অপারেশনের রোগীকেও ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত লাইফ সাপোর্টে বন্দী রাখার অসংখ্য নজির রয়েছে। ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের কাছে লাইফ সাপোর্ট রীতিমতো এক আতংকের নাম। প্রতারণার আরেক নাম লাইফ সাপোর্ট।

 

বিভিন্ন সুত্রে জানাগেছে, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় রোগীর সাথে থাকা অাত্মিয়স্বজনরা বড় অসহায চিন্তিত এমন সময় বেশিরভাগই অভিজাত হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সেবার নামে রোগীর কাছথেকে মোটা অংশের টাকা নেওয়ার অন্যতম ব্যবস্থা করেন। লাইফ সাপোর্ট নামে এমন প্রতারণা থেকে ডাক্তারদেরকে বিতর থাকার অনুরোধ জানান অসহায রোগীদের অাত্মিয়স্বজনরা। সেবার নামে এ প্রতারণা বন্ধে সচেতন দেশবাসীকে এগিয়ে অাসার অনুরোধ জানান রোগীদের অসহায অাত্মিয়স্বজনরা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ