০৯:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাবেক সাংসদ মাওঃ ওবায়দুল হক রহ. কয়েকটি অনুপম চারিত্রিক বৈশিষ্ট : শাহ মমশাদ আহমদ

  • Update Time : ০৪:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২
  • / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জানেন কী? ১-কোন সে নির্ভিক আলেম? যিনি সংসদে দাড়িয়ে বলেছিলেন, যে সংবিধান বারবার পরিবর্তন করতে হয়, এমন সংবিধান দিয়ে মানুষের ভাগ্যের পরির্তন হবেনা। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে পারে এমন সংবিধান দ্ধারা, যে বিধানে কোন পরিবর্তনের সুযোগ নেই।যার সুচনায় বলা হয়েছে”লা রাইবা ফিহী” এ সংবিধান কোন মানব রচিত নয়,যা স্বয়ং আল্লাহ রচনা করেছেন।আর সেই মহান সংবিধান হচ্ছে মহাগ্রন্থ আলকুরআন। ২-মাননীয় স্পীকার, সিলেট বিভাগ সিলেটবাসীর প্রানের দাবী। সংসদে এদাবী কার্যকরের ঘোষণা দিতেই হবে। আমি এককোটি সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে দাড়িয়েছি।আমাকে বসার কথা বলবেননা। ৩- স্পীকার বললেন,আপনার সময় শেষ। বক্তব্য শেষ করুন। তিনি বললেন,মাননীয় স্পীকার, আমি মসজিদের মিনার চিহ্ন নিয়ে নির্বাচিত একমাত্র সংসদ সদস্য। সংসদে ইসলামের আজান দিতে এসেছি। আজান চলাকালীন আমাকে বাধা দিবেননা।
৪- মাননীয় স্পীকার, আমার দেশের মানচিত্র বদলে যাচ্ছে।
মাননীয় সদস্য কিভাবে? আমার জকীগঞ্জের এপার ভাংগে ভারতের
ভুমি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদী ভাংগন রোধে পদক্ষেপ না নিলে দেশের মানচিত্র বদলে যাবে। এমনিভাবে দেশ জাতি ইসলামের পক্ষে কথা বলার মত নির্ভিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য শায়খুল হাদীস আল্লামা ওবায়দুল হক রহঃ। গত ১৭ জানুয়ারি তাঁর ওফাতের চৌদ্দ বছর গত হয়েছে। হুজুরের স্মৃতি স্মরণ করে তাঁর পৌত্র যুক্তরাজ্যের তরুণ মেধাবী আলেম মুফতি সালাতুর রহমান মাহবুবের একটি পোস্ট দেখে এম,পি সাহেব রঃ এর কথা খুব মনে পড়ছে। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি জকীগঞ্জ-কানাইঘাট থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তখন জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার ছাত্র সংসদের জি এস ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, বয়সে তরুণ হলেও হুজুরের সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ লাভ করেছিলাম।তখন পত্র পত্রিকাই ছিল সাধারণ মানুষের সংবাদ জানার প্রধান মাধ্যম। নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিতে হত। এম,পি সাহেব রঃ আমাকে তাঁর বহুমুখী কাজকর্মের সংবাদ লেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আল্লাহর মেহেরবানীতে হযরত এম,পি সাহেব রঃ এর কয়েকটি অনুপম চারিত্রিক বৈশিষ্ট খুব কাছ থেকে অবলোকন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। এগুনগুলো এখনো আমাকে অনুপ্রাণিত করে।জীবনের পরতে পরতে চেতনা যোগায়।

 

★তিনি সময়ের প্রতি খুব যত্নশীল ছিলেন, প্রতিটি প্রোগ্রামে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হওয়া তাঁর স্বভাবের অংশ ছিল। সংসদ সদস্যের মত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্টীয় দায়িত্বশীল হওয়া সত্বেও অনেক প্রোগ্রামে আয়োজকদের পুর্বে হুজুরকে উপস্থিত হতে দেখেছি।

 

★সভা-সমাবেশ, মাদরাসার মাহফিল যথাসময়ে শুরু না হলে, খুব রাগান্বিত হতেন। হুজুর প্রায়ই বলতেন, বিকাল ৩টায় সভা শুরু হওয়ার কথা প্রচার করে চারটায় শুরু করা মানুষের সাথে দেয়া ওয়াদা খেলাফী। তা কখনো উচিত নয়। আল্লাহর কাছে জবাবদেহী হতে হবে।

 

★রাসুলুল্লাহ সঃ এর নাম নিতে খুব মুহাব্বাতের সাথে বলতেন, সায়য়িদুল মুরসালিন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অধিক হারে দুরুদ পাঠ করতেন।

 

★কোনদিন কারো গীবত করতে দেখিনি। এমনিতেই স্বল্পভাষী ছিলেন। পারতপক্ষে অযাচিত মন্তব্য থেকে বিরত থাকতেন।কেউ কারো দোষ চর্চা করলে ধমক দিয়ে বারণ করতেন।

 

★সফরের সময় ব্রিফকেসে জায়নামাজ ও
কয়েকটি কিতাব থাকত।সব সময় অজুর
হালতে থাকতে সচেষ্ট ছিলেন।

★গম্ভীর স্বভাবের ছিলেন।কিন্তু চেহারায় মুচকি হাসি লেগেই থাকত।
★ আলেম উলামার মজলিসে আফসোস করে বলতেন, ইসলাম আমাদের খেদমত করছে।আমরা ইসলামের জন্য কী করেছি?আল্লাহর কাছে, আমরা কি জবাব দিব?
আল্লাহ তাঁর কবরকে জান্নাতের উঁচু মাকাম বানিয়ে দিন।
আমাদের তার পদাংক অনুসরনের তাওফিক দিন।

লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সাবেক সাংসদ মাওঃ ওবায়দুল হক রহ. কয়েকটি অনুপম চারিত্রিক বৈশিষ্ট : শাহ মমশাদ আহমদ

Update Time : ০৪:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

জানেন কী? ১-কোন সে নির্ভিক আলেম? যিনি সংসদে দাড়িয়ে বলেছিলেন, যে সংবিধান বারবার পরিবর্তন করতে হয়, এমন সংবিধান দিয়ে মানুষের ভাগ্যের পরির্তন হবেনা। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে পারে এমন সংবিধান দ্ধারা, যে বিধানে কোন পরিবর্তনের সুযোগ নেই।যার সুচনায় বলা হয়েছে”লা রাইবা ফিহী” এ সংবিধান কোন মানব রচিত নয়,যা স্বয়ং আল্লাহ রচনা করেছেন।আর সেই মহান সংবিধান হচ্ছে মহাগ্রন্থ আলকুরআন। ২-মাননীয় স্পীকার, সিলেট বিভাগ সিলেটবাসীর প্রানের দাবী। সংসদে এদাবী কার্যকরের ঘোষণা দিতেই হবে। আমি এককোটি সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে দাড়িয়েছি।আমাকে বসার কথা বলবেননা। ৩- স্পীকার বললেন,আপনার সময় শেষ। বক্তব্য শেষ করুন। তিনি বললেন,মাননীয় স্পীকার, আমি মসজিদের মিনার চিহ্ন নিয়ে নির্বাচিত একমাত্র সংসদ সদস্য। সংসদে ইসলামের আজান দিতে এসেছি। আজান চলাকালীন আমাকে বাধা দিবেননা।
৪- মাননীয় স্পীকার, আমার দেশের মানচিত্র বদলে যাচ্ছে।
মাননীয় সদস্য কিভাবে? আমার জকীগঞ্জের এপার ভাংগে ভারতের
ভুমি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদী ভাংগন রোধে পদক্ষেপ না নিলে দেশের মানচিত্র বদলে যাবে। এমনিভাবে দেশ জাতি ইসলামের পক্ষে কথা বলার মত নির্ভিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য শায়খুল হাদীস আল্লামা ওবায়দুল হক রহঃ। গত ১৭ জানুয়ারি তাঁর ওফাতের চৌদ্দ বছর গত হয়েছে। হুজুরের স্মৃতি স্মরণ করে তাঁর পৌত্র যুক্তরাজ্যের তরুণ মেধাবী আলেম মুফতি সালাতুর রহমান মাহবুবের একটি পোস্ট দেখে এম,পি সাহেব রঃ এর কথা খুব মনে পড়ছে। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি জকীগঞ্জ-কানাইঘাট থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তখন জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার ছাত্র সংসদের জি এস ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, বয়সে তরুণ হলেও হুজুরের সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ লাভ করেছিলাম।তখন পত্র পত্রিকাই ছিল সাধারণ মানুষের সংবাদ জানার প্রধান মাধ্যম। নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিতে হত। এম,পি সাহেব রঃ আমাকে তাঁর বহুমুখী কাজকর্মের সংবাদ লেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আল্লাহর মেহেরবানীতে হযরত এম,পি সাহেব রঃ এর কয়েকটি অনুপম চারিত্রিক বৈশিষ্ট খুব কাছ থেকে অবলোকন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। এগুনগুলো এখনো আমাকে অনুপ্রাণিত করে।জীবনের পরতে পরতে চেতনা যোগায়।

 

★তিনি সময়ের প্রতি খুব যত্নশীল ছিলেন, প্রতিটি প্রোগ্রামে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হওয়া তাঁর স্বভাবের অংশ ছিল। সংসদ সদস্যের মত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্টীয় দায়িত্বশীল হওয়া সত্বেও অনেক প্রোগ্রামে আয়োজকদের পুর্বে হুজুরকে উপস্থিত হতে দেখেছি।

 

★সভা-সমাবেশ, মাদরাসার মাহফিল যথাসময়ে শুরু না হলে, খুব রাগান্বিত হতেন। হুজুর প্রায়ই বলতেন, বিকাল ৩টায় সভা শুরু হওয়ার কথা প্রচার করে চারটায় শুরু করা মানুষের সাথে দেয়া ওয়াদা খেলাফী। তা কখনো উচিত নয়। আল্লাহর কাছে জবাবদেহী হতে হবে।

 

★রাসুলুল্লাহ সঃ এর নাম নিতে খুব মুহাব্বাতের সাথে বলতেন, সায়য়িদুল মুরসালিন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অধিক হারে দুরুদ পাঠ করতেন।

 

★কোনদিন কারো গীবত করতে দেখিনি। এমনিতেই স্বল্পভাষী ছিলেন। পারতপক্ষে অযাচিত মন্তব্য থেকে বিরত থাকতেন।কেউ কারো দোষ চর্চা করলে ধমক দিয়ে বারণ করতেন।

 

★সফরের সময় ব্রিফকেসে জায়নামাজ ও
কয়েকটি কিতাব থাকত।সব সময় অজুর
হালতে থাকতে সচেষ্ট ছিলেন।

★গম্ভীর স্বভাবের ছিলেন।কিন্তু চেহারায় মুচকি হাসি লেগেই থাকত।
★ আলেম উলামার মজলিসে আফসোস করে বলতেন, ইসলাম আমাদের খেদমত করছে।আমরা ইসলামের জন্য কী করেছি?আল্লাহর কাছে, আমরা কি জবাব দিব?
আল্লাহ তাঁর কবরকে জান্নাতের উঁচু মাকাম বানিয়ে দিন।
আমাদের তার পদাংক অনুসরনের তাওফিক দিন।

লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ