১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাঁকো নয়, মরণ ফাঁদ

  • Update Time : ০৬:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০২২
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: স্বাধীনতার পর আমাদের স্বপ্ন ছিল এই নদীর এখানে একটি সেতু হবে। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থাকে। বাস্তবায়ন আর হয় না। সাঁকো নয়, মরণ ফাঁদ!

 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ডাকাতিয়া নদীতে জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো যেন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সাঁকো পার হতে গিয়ে আহত হয়েছেন অনেকেই, আবার নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পথে সাঁকোটি পার হতে গিয়ে হোসাইন ও জুলহাস নামের তৃতীয় শ্রেণির দুই ছাত্রসহ এক কৃষক মারাত্মক আহত হয়েছেন। এছাড়া এর আগে ২০০১ সালে গুরুতর জখম হয়ে হযরত আলী (৩০) ঘটনাস্থলেই এবং শাহজাহান (২৫) নামে এক যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাগলা, চরকাছিয়া, চরবংশি ও দক্ষিণ কুচিয়ামারাসহ পাঁচ গ্রামের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটিতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন গ্রামবাসী। এ জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। প্রতি বছর দুইবার গ্রামবাসীদের চাঁদার টাকায় সাঁকোটি মেরামত হয়। যেকোনো সময় যে কেউ পড়ে গিয়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এলাকাবাসী জানান, নদীর পশ্চিম পাড়ে দক্ষিণ চরপাগলা ও দক্ষিণ কুচিয়ামারাসহ-আশপাশের পাঁচটি গ্রামের ২০ হাজার মানুষের বসবাস। নদীর ওপারে বিশাল চরাঞ্চল ও এলাকার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র মোল্লারহাট, খাসেরহাট বাজার ও কলেজসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাংক, হাসপাতাল। তাই এলাকাবাসীর ডাকাতিয়া নদী পার হয়ে যেতে হয়। বিকল্প রাস্তা হিসেবে দুই কিলোমিটার ঘুরে নতুন ব্রিজ ঘুরে পার হয়ে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করতে হয় তাদের। ওপাশের যাতায়াত অবস্থা ভালো নয়। এতে প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ চরপাগলা ও দক্ষিণ কুচিয়ামারা গ্রামে। নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে এলাকাটি। রাস্তাঘাটের এতোই বেহাল দশা গাড়ি চলাচলেরও অনুপযোগী। জরুরি কোনো মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নিতে হলে রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমতাবস্থায় নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দক্ষিণ কুচিয়ামারা গ্রামের আলী হোসেন, নান্নু সরদার, ওহেদ আলী ও জামাল চৌকিদার বলেন, বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে খুব ভয় লাগে। কখন যে সাঁকো ভেঙে নদীতে পড়ে যাই। আমাদের জন্য এখানে একটি ব্রিজ হওয়া দরকার। ২০০১ সালে দুইজন কৃষক পারাপার হতে গিয়ে মারা যান। প্রতিদিন কেউ না কেউ পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। খাসেরহাটের ব্যবসায়ী আবুল কালাম যুগান্তরকে বলেন, খাসেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আমি। প্রতিদিনই এ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় একটি সেতু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে যত দ্রুত সম্ভব এখানে একটি ব্রিজ দরকার। স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু সাইদ-বিল্লাল তালুকদার, খোরশেদ ও জাকির মাঝি নামের চার বাসিন্দা বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের স্বপ্ন ছিল ডাকাতিয়া নদীর এখানে একটি সেতু হবে। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা শত আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের পর তা কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আমাদের স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থাকে। বাস্তবায়ন আর হয় না। উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন দুই কৃষকের নিহতের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, শুধু এ সাঁকোটিই না আরও কয়েকটা আছে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় এমপি সাহেবের মাধ্যমে আপ্রাণ চেষ্টায় রয়েছি প্রকৌশল অধিদফতরে ফাইল পাঠাতে। রায়পুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ বলেন, উত্তর চরবংশি ইউপির ডাকাতিয়া নদীর উপরে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটির ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি। সেখানে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা আছে। চরাঞ্চলের গ্রামবাসীদের অপেক্ষা করতে হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সাঁকো নয়, মরণ ফাঁদ

Update Time : ০৬:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০২২

ডেস্ক রিপোর্ট :: স্বাধীনতার পর আমাদের স্বপ্ন ছিল এই নদীর এখানে একটি সেতু হবে। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থাকে। বাস্তবায়ন আর হয় না। সাঁকো নয়, মরণ ফাঁদ!

 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ডাকাতিয়া নদীতে জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো যেন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সাঁকো পার হতে গিয়ে আহত হয়েছেন অনেকেই, আবার নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পথে সাঁকোটি পার হতে গিয়ে হোসাইন ও জুলহাস নামের তৃতীয় শ্রেণির দুই ছাত্রসহ এক কৃষক মারাত্মক আহত হয়েছেন। এছাড়া এর আগে ২০০১ সালে গুরুতর জখম হয়ে হযরত আলী (৩০) ঘটনাস্থলেই এবং শাহজাহান (২৫) নামে এক যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাগলা, চরকাছিয়া, চরবংশি ও দক্ষিণ কুচিয়ামারাসহ পাঁচ গ্রামের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটিতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন গ্রামবাসী। এ জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। প্রতি বছর দুইবার গ্রামবাসীদের চাঁদার টাকায় সাঁকোটি মেরামত হয়। যেকোনো সময় যে কেউ পড়ে গিয়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এলাকাবাসী জানান, নদীর পশ্চিম পাড়ে দক্ষিণ চরপাগলা ও দক্ষিণ কুচিয়ামারাসহ-আশপাশের পাঁচটি গ্রামের ২০ হাজার মানুষের বসবাস। নদীর ওপারে বিশাল চরাঞ্চল ও এলাকার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র মোল্লারহাট, খাসেরহাট বাজার ও কলেজসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাংক, হাসপাতাল। তাই এলাকাবাসীর ডাকাতিয়া নদী পার হয়ে যেতে হয়। বিকল্প রাস্তা হিসেবে দুই কিলোমিটার ঘুরে নতুন ব্রিজ ঘুরে পার হয়ে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করতে হয় তাদের। ওপাশের যাতায়াত অবস্থা ভালো নয়। এতে প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ চরপাগলা ও দক্ষিণ কুচিয়ামারা গ্রামে। নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে এলাকাটি। রাস্তাঘাটের এতোই বেহাল দশা গাড়ি চলাচলেরও অনুপযোগী। জরুরি কোনো মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নিতে হলে রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমতাবস্থায় নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দক্ষিণ কুচিয়ামারা গ্রামের আলী হোসেন, নান্নু সরদার, ওহেদ আলী ও জামাল চৌকিদার বলেন, বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে খুব ভয় লাগে। কখন যে সাঁকো ভেঙে নদীতে পড়ে যাই। আমাদের জন্য এখানে একটি ব্রিজ হওয়া দরকার। ২০০১ সালে দুইজন কৃষক পারাপার হতে গিয়ে মারা যান। প্রতিদিন কেউ না কেউ পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। খাসেরহাটের ব্যবসায়ী আবুল কালাম যুগান্তরকে বলেন, খাসেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আমি। প্রতিদিনই এ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় একটি সেতু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে যত দ্রুত সম্ভব এখানে একটি ব্রিজ দরকার। স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু সাইদ-বিল্লাল তালুকদার, খোরশেদ ও জাকির মাঝি নামের চার বাসিন্দা বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের স্বপ্ন ছিল ডাকাতিয়া নদীর এখানে একটি সেতু হবে। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা শত আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের পর তা কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আমাদের স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থাকে। বাস্তবায়ন আর হয় না। উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন দুই কৃষকের নিহতের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, শুধু এ সাঁকোটিই না আরও কয়েকটা আছে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় এমপি সাহেবের মাধ্যমে আপ্রাণ চেষ্টায় রয়েছি প্রকৌশল অধিদফতরে ফাইল পাঠাতে। রায়পুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ বলেন, উত্তর চরবংশি ইউপির ডাকাতিয়া নদীর উপরে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটির ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি। সেখানে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা আছে। চরাঞ্চলের গ্রামবাসীদের অপেক্ষা করতে হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ