সর্ষেতে ভুত : আজিজুস সামাদ আজাদ ডন
- Update Time : ০১:২৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
দেশে বন্যা পরিস্থিতি চলছে, বিশেষজ্ঞ মত অনুযায়ী বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে। বন্যা মোকাবেলায় সর্বাত্নক প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। তার সাথে চলমান “করোনা” মহামারী সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রনে সেটা বলার অবকাশ নেই, তবে অক্সফোর্ড এবং চীনের একটি কোম্পানীর ভ্যাক্সিন আবিষ্কার এবং অগাষ্টের শুরুতেই সেটির দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা বাংলাদেশে করার এবং বিনামূল্যে আগামীতে বাংলাদেশে সরবরাহ করার ঘোষনায় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পৃথিবীর তাব বৃহৎ অর্থনীতি যখন করোনার আক্রমনে নাকাল সেখানে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছি বলে মনে হচ্ছে।
ওপরের কথা গুলো সব আশা জাগানীয়া তথ্য, কিন্ত একই সাথে কিছু বিষয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছি না, যেমন, জাল কোভিড-১৯ সার্টিফিকেট, অনুমোদনহীন ক্লিনিক, ফার্মেসী গুলোতে মেয়াদোত্তীর্ন ঔষধ সামগ্রী।
শেষেরটা দিয়েই শুরু করি, কারণ, দেশের স্বাস্থ্যখাতের সাথে সংযুক্ত এবং বেশীর ভাগ রোগীর কাছে একটি ফার্মেসীর নাম সুপরিচিত। ঢাকায় আমি যে এলাকায় বসবাস করি, সেখানের আদীবাসিন্দারা এই ফার্মেসীর বিষয়ে গর্বিত, কারণ, আমরা মনে করি, আমার দেশের একটি ব্র্যান্ড তৈরী হয়েছে আমাদের সহযোগীতায়। আমার বাবা-মা যখন মৃত্যু শয্যায়, যখন দেশের কোথায়ও যখন কিছুকিছু ওষুধ পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তারাই সেগুলো জোগাড় করে দিয়েছিল। এহেনো একটি প্রতিষ্ঠানে দু’দিন পরপরই আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী প্রায় সকল বাহিনী, এমনকি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অভিযান চালিয়ে যখন মেয়াদোত্তীর্ন ঔষধ পায় তখন মনে কিছুটা আঘাত লাগে বৈকী।
আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগের কথা, আমরা কিছু বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম একটি আধুনিক ফার্মেসী গড়ে তুলবো, কিন্ত খোঁজ নিয়ে জানলাম, ফার্মেসীর লাইসেন্স নতুন করে নেয়ায় অনেক হ্যাপা, সুতরাং, বাদ। সমস্যা হল, লাইসেন্স পাবার এই কঠিন প্রসেসের পরই কি কর্তৃপক্ষের দায়ীত্ব শেষ? স্বপ্রণোদিত ভাবে যে কেউ কি যেকোন প্রতিষ্ঠানে যেয়ে তাদের লাইসেন্স, স্টক ইত্যাদি দেখতে চাইতে পারে, নাকি ভোক্তা অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা অভিযান চালাবে?
“জেকেজি” এবং “রিজেন্ট” কান্ডের পর ক্লিনিক গুলোর অনুমোদন পরীক্ষায় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। “টাস্ক ফোর্স” একটি জরুরী সময়কালীন পদক্ষেপ বলেই আমার জানা ছিল। কিন্ত আমার প্রশ্ন, এতোদিন কি ভাবে চালছিল? বেশীর ভাগ ক্লিনিক মেয়াদোত্তীর্ন এবং অনুমোদনবিহীন ভাবে যখন চলছিল এবং সাধারণ মানুষের পকেট কাটছিল তখন কি এসব দেখার জন্য কোন কর্তৃপক্ষ ছিল না?
ছোট বেলায় ইংরেজী ব্যকরণ শিক্ষা দিতে যেয়ে যে উদাহরণটি আমাদের মাথায় গেঁথে দেয়া হয়েছে, “ডাক্তার আসিবার পূর্বেই রোগী মারা গেল”, সেটাই বোধহয় জাতির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে হচ্ছে, সমাজের ওপরতলার মানুষ গুলোর হুশ ফেরে কেবল মাত্র রোগী মারা যাবার পরই।
এই ব্যাকরণ শিক্ষার সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে পাটিগণিতের সেই অংক গুলো; ‘বানরের তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে তিন হাত ওপরে ওঠার পর দুই হাত নেমে যাওয়া” এবং “তিন কেজি দুধের সাথে এক কেজি পানি মেশানো” ধরনের পাটিগনিত গুলোই মনে হয় জাতির সর্বনাশ করে ছেড়েছে। এই শিক্ষা গুলো এখন প্রায়োগীক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে ভয়াবহ ভাবে। বিশেষ করে, আমাদের বর্তমান শিক্ষিত কিছু তথাকথিত মানুষ, আগে তৈলাক্ত বাঁশ তৈরী করে তারপর সেই বাঁশ বেয়ে দুই হাত উঠবার পর মাটি ভেদ করে তিন হাত নেমে যাচ্ছে এবং তিন কেজি দুধের সাথে পাঁচ কেজি পানি মেশাচ্ছে।
“সর্বাঙ্গে ব্যাথা ঔষধ দেবো কোথা”। এখন বোধহয় সময় এসেছে ৩৬০ ডিগ্রীতেই কামান দাগানোর, যেখানেই কামানের গোলা পরুক না কেন, নিশানা ভেদ করবেই।
সব দেখে মনে হচ্ছে, “Judgement is nothing but luck and bad luck”.



















