সরকারের ফাঁদে পা দেবে না বিএনপি
- Update Time : ০১:০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
কাফি কামাল :: সরকারের ফাঁদে পা দেবে না বিএনপি। রোববার রাতে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমনই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারক ফোরাম। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে হঠাৎ পুলিশি তল্লাশির বিষয়টিই ছিল বৈঠকের মূল এজেন্ডা। নেতারা এ ব্যাপারে পর্যালোচনা ও নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন। সেখানে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া, রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা ও কূটনীতিকদের অবহিতকরণসহ নানা ধরনের মত উঠে আসে। তবে নেতারা একমত হয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই এখন পরিবেশ উত্তপ্ত হয় এমন কোনো কর্মসূচি দেয়া উচিত হবে না। যার সুযোগ নিয়ে বিএনপিকে কোণঠাসা ও জনমত নষ্ট করতে পারে সরকার। দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে নেতারা এ ঘটনায় আগামীকাল বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন এবং পরদিন বৃহস্পতিবার সারা দেশে একটি মিছিলের কর্মসূচি চূড়ান্ত করেন। বৈঠকে অংশ নেয়া কয়েকজন নেতা আলাপে এমন কথা জানিয়েছেন। রোববার রাতে বৈঠক শেষে বিএনপির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। তবে বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৪শে মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে গতকাল সকালেই মহানগর পুলিশ কমিশনার ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে চিঠি দেয় বিএনপি। দুপুরে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ সমাবেশ কর্মসূচি ও চিঠির বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ‘গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির প্রতিবাদে আমরা এই জনসভা করতে চাই।’ তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশের তরফে সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি।
বৈঠক সূত্র জানায়, চেয়ারপারসন কার্যালয়ে তল্লাশির ঘটনায় আইনের বিধিগুলো যথাযথ পালন করা হয়নি বলে মত দেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ কয়েকজন। তারা এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার পক্ষেও মতামত দেন। তবে এ ব্যাপারে দ্বিমত করেন কয়েকজন নেতা। তারা বলেন, বর্তমানে আদালতের কাছে এর প্রতিকার চেয়ে কোনো সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাহলে কেন বিষয়টিকে সেদিকে নেয়া হবে। নেতাদের দ্বিমতের কারণে আইনগত পদক্ষেপের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে বিএনপির আদালতে যাবার সম্ভাবনা কম। বৈঠকে কয়েকজন নেতা তল্লাশির বিষয়টিকে রাজনৈতিক মন্তব্য করে এ ব্যাপারে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তারা বলেন, হঠাৎ এ তল্লাশির ঘটনায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের দুশ্চিন্তা তৈরি করবে। যা তাদের মনোবল নষ্ট করতে পারে। নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে সতর্কতার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়া যেতে পারে। যাতে সরকারকে পাল্টা বার্তা দেয়া যায় কিন্তু রাজনৈতিক পরিবেশও যাতে কোনোভাবে উত্তপ্ত না হয়। সরকার যেন তা ব্যবহার করে নতুন কোনো সুযোগ নিতে না পারে। নেতারা সবাই একমত হন, বিএনপির ধীরে চলো নীতির কারণে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন শান্ত। একদিকে ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকাশ, অন্যদিকে নির্বাচনমুখী বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের জন্য দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির ব্যাপারে একটি ইতিবাচক বার্তা গেছে। সারা দেশের মানুষের মুখে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু রয়েছে বিএনপি ও আগামী নির্বাচন। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপি নিয়ে এমন ইতিবাচক আলোচনা ও সমর্থনের কারণে সরকারের মধ্যে একটি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনমুখী আচরণও সরকারকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ইতিবাচক পথচলায় বিএনপির যে মনোযোগ সেটাকে বিচ্যুতে করতে তল্লাশি সরকারের একটি রাজনৈতিক কৌশল। সারা দেশে বিএনপির কর্মিসভাগুলোতে বাধা দেয়ার ঘটনাও এ কৌশলেরই অংশ। বৈঠকে নেতারা বলেন, বিশেষ করে ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকাশের পর নেতাকর্মীরা যেভাবে চাঙা হয়েছেন, তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও বিএনপি যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোচ্ছে, সরকার সেটাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। শান্তিপূর্ণ রাজনীতি থেকে বিচ্যুত, উস্কানির মাধ্যমে পরিবেশ উত্তপ্ত করে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার মাধ্যমে আবার একটি একাকী একটা নির্বাচন করতে চায় সরকার। যা কোনোভাবেই সরকারকে সফল করতে দেয়া যাবে না। সূত্র জানায়, চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশির ঘটনা নিয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাপ করা এবং আগামীতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তল্লাশির ঘটনা ছাড়াও সারা দেশে কর্মিসভা অনুষ্ঠানে পুলিশের অনুমতি জটিলতা, বাধাদান এবং সরকারের লোকজনকে ব্যবহারের মাধ্যমে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতিহাতি-মারামারি লাগিয়ে কর্মিসভাগুলো পণ্ড করা, দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং ‘ভিশন ২০৩০’ নিয়ে সরকার, রাজনৈতিক মহল, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেয়া এক নেতা জানান, নেতাকর্মীদের হাতাহাতির কারণে পণ্ড হয়ে যাওয়া কয়েকটি কর্মিসভায় হাতাহাতির কারণ, উৎস এবং তৎপরদের নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, খুবই তুচ্ছ কোনো কারণ বা বিশেষ কোনো নেতার পক্ষ নিয়ে এমন কিছু লোক ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে, যারা স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় কোনো কর্মী-সমর্থক নয়। এতে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার নিজেদের লোকজন দিয়ে বিএনপির কর্মিসভাগুলো পণ্ড করিয়ে দিচ্ছে। সরকারের তরফে একের পর এক উস্কানিমূলক কৌশল, পদক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব বিবেচনা করেই সামনের দিনগুলোতে সতর্কতার সঙ্গে পথচলার ব্যাপারে একমত হয়েছেন নেতারা। তারা বলছেন, সর্বশেষ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ১লা মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশ করতে চেয়েছিল বিএনপি। সেবার পুলিশের অনুমতি মেলেনি। এবারো সম্ভাবনা কম। সেটা মাথায় রেখে আমরা বিকল্প কর্মসূচিও ঠিক করেছি। সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি সরকার দিক না দিক, এ কর্মসূচির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মনগড়া অভিযোগের ভিত্তিতে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও দেশের সবচেয়ে বড় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এটা যে সরকারের একটি অপরাজনৈতিক কৌশল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তল্লাশি অভিযানের মাধ্যমে সরকার লাভবান নয়, উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ লিখিত দিয়ে গেছে প্রান্তি শূন্য। এখন আমরা কোনো হঠকারি কর্মসূচি বা পদপেক্ষের মাধ্যমে কেন সরকারকে লাভবান করবো। সরকার আমাদের মনোযোগ নষ্ট করতে চায়, নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়। কিন্তু আমরা কেন তাদের পাতা ফাঁদে পা দেব। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির রোববারের বৈঠকে অংশ নেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে রোববার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। সুত্র মানবজমিন





























