০২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সন্তানের মুখ দেখল পাগলী!

  • Update Time : ০৯:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: নানা নেতিবাচক সমালোচনা সত্বেও এখনো সমাজের অধিকাংশ মানবিক কাজগুলি পুলিশ সদস্যরাই করে থাকেন তার একটি উজ্জল দৃষ্ঠান্ত শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে চুমকি নামে মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) এক গর্ভবতী নারী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের পুরান বাজার রাস্তার ধারে প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। গর্ভবতী নারীটিকে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় পড়ে ছটফট করছে এমন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির। তিনি গর্ভবতী নারীটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জরুরি বিভাগে। নিজেই ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। গর্ভবতী নারীর দেখাশোনার জন্য আরেকজন নারীকে নিয়োজিত করেন তিনি। বৃষ্টিতে কাঁদা মাখা অবস্থায় ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন চুমকি। পরে ওসি হুমায়ুন কবির দ্রুত বাসায় গিয়ে নিজের স্ত্রীর কাছ থেকে নতুন কাপড় এনে দেন। ব্যাবস্থা করেন ঔষধ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন এই নারীর নাম চুমকি বেগম (৩০)। তিনি গর্ভবতী ছিলেন। রাত সাড়ে নয়টায় সারা শহর বিদ্যুৎহীন। প্রকৃতিজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি। বৈরী এই আবহাওয়ায় সড়কে মানুষের আনাগোনাও কম ছিল। এসময় চুমকি প্রসববেদনা নিয়ে মানুষের সাহায্যের আশায় রাস্তায় পড়ে ছটফট করতে থাকে। খবর পেয়ে ওসি হুমায়ুন কবির ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চুমকিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এসময় তার সাথে ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার এসআই আমিনুল ইসলাম ও এএসআই ইলিয়াস উদ্দিন সোহেল। হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানকার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মিদের প্রচেষ্টায় মানসিক ভারসাম্যহীন চুমকি ফুটফুটে এক নব জাতক ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কাউন্সিলর আব্দুল জব্বার আজাদ। বর্তমানে চুমকি ও তার নবজাতক শিশু সুস্থ আছেন বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন। সুবিধা বঞ্চিত একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর জন্য শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের এমন মানবিক ভুমিকার জন্য সাধারণ মানুষ ওসি হুমায়ুন কবির ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের প্রশংসা করছেন। এর আগে করোনা কালীন সময়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ক্ষুধার্ত মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছানোর কর্মসূচি পালন করে সাধারণ মানুষের প্রশংসা অর্জন করে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সন্তানের মুখ দেখল পাগলী!

Update Time : ০৯:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

ডেস্ক রিপোর্ট :: নানা নেতিবাচক সমালোচনা সত্বেও এখনো সমাজের অধিকাংশ মানবিক কাজগুলি পুলিশ সদস্যরাই করে থাকেন তার একটি উজ্জল দৃষ্ঠান্ত শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে চুমকি নামে মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) এক গর্ভবতী নারী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের পুরান বাজার রাস্তার ধারে প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। গর্ভবতী নারীটিকে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় পড়ে ছটফট করছে এমন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির। তিনি গর্ভবতী নারীটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জরুরি বিভাগে। নিজেই ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। গর্ভবতী নারীর দেখাশোনার জন্য আরেকজন নারীকে নিয়োজিত করেন তিনি। বৃষ্টিতে কাঁদা মাখা অবস্থায় ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন চুমকি। পরে ওসি হুমায়ুন কবির দ্রুত বাসায় গিয়ে নিজের স্ত্রীর কাছ থেকে নতুন কাপড় এনে দেন। ব্যাবস্থা করেন ঔষধ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন এই নারীর নাম চুমকি বেগম (৩০)। তিনি গর্ভবতী ছিলেন। রাত সাড়ে নয়টায় সারা শহর বিদ্যুৎহীন। প্রকৃতিজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি। বৈরী এই আবহাওয়ায় সড়কে মানুষের আনাগোনাও কম ছিল। এসময় চুমকি প্রসববেদনা নিয়ে মানুষের সাহায্যের আশায় রাস্তায় পড়ে ছটফট করতে থাকে। খবর পেয়ে ওসি হুমায়ুন কবির ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চুমকিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এসময় তার সাথে ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার এসআই আমিনুল ইসলাম ও এএসআই ইলিয়াস উদ্দিন সোহেল। হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানকার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মিদের প্রচেষ্টায় মানসিক ভারসাম্যহীন চুমকি ফুটফুটে এক নব জাতক ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কাউন্সিলর আব্দুল জব্বার আজাদ। বর্তমানে চুমকি ও তার নবজাতক শিশু সুস্থ আছেন বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন। সুবিধা বঞ্চিত একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর জন্য শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের এমন মানবিক ভুমিকার জন্য সাধারণ মানুষ ওসি হুমায়ুন কবির ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের প্রশংসা করছেন। এর আগে করোনা কালীন সময়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ক্ষুধার্ত মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছানোর কর্মসূচি পালন করে সাধারণ মানুষের প্রশংসা অর্জন করে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ