সওয়াব কামানোর মৌসুম
- Update Time : ০৩:৪০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী
আজ ১২ রমজান। দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হে মোমিন ভাই! খোদার মাগফিরাত কুড়িয়ে নিতে একনিষ্ঠ সিয়াম সাধনার কোনো বিকল্প নেই। হাদিসে এসেছে, যারা এখলাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ মাসে সিয়াম সাধনা করবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে তাদের প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব দশগুণ থেকে সাতশগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবেন। তবে রোজা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রোজা এ নিয়মের ব্যতিক্রম, কারণ তা শুধু আমার জন্য, আমি স্বয়ং তার প্রতিদান দেব।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘মোমিনের রোজার প্রতিদান আমি নিজে দেব।’
‘রোজা আমার জন্য’-এ কথাটির ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরাম বলেন, রোজা একমাত্র ইবাদত যাতে রিয়া বা লৌকিকতার কোনো সুযোগ নেই। অথচ এর বিপরীতে অন্যসব ইবাদতে রিয়ার আশঙ্কা থাকে। মোমিনের ইবাদতগুলোর মধ্যে রোজা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ইবাদত এবং সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। রোজা এমন একটি গোপন ইবাদত, যার সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ অবহিত হন না। এমনকি এটি ফেরেশতাদের থেকেও গোপন থাকে। তাই আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘রোজা আমার জন্য।’
‘আমি নিজে এর প্রতিদান দেব’-এর ব্যাখ্যা হলো, আল্লাহতায়ালার যেমন খাওয়ার প্রয়োজন হয় না, পান করার প্রয়োজন হয় না, ঘুমের প্রয়োজন হয় না, তেমনই রোজাদারও আল্লাহর প্রেমের পাগল হয়ে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরত থাকেন। বান্দার ফানাফিল্লাহ এ আবেগকে মূল্যায়ন করে আল্লাহ বলেছেন, ‘রোজা আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।’
প্রিয় পাঠক, একটু চিন্তা করে দেখুন! আহকামুল হাকিমিন এ বিশ্ব মহাবিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি, সর্বময় ক্ষমতাশীল আল্লাহপাক যে ইবাদতের বিনিময় হিসাবে বলেছেন, ‘আমি নিজে এর প্রতিদান দেব।’ সেই প্রতিদান কত মহান এবং কত মূল্যবান হতে পারে! এর ক্ষুদ্র ধারণা পাওয়া যায় হাদিসে-হজরত আবু হুরাইরাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি (সা.) বলেন, ‘আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন নেয়ামত তৈরি করে রেখেছি, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং এমনকি কোনো মানুষ তা কল্পনাও করতে পারে না। (বুখারি, মুসলিম) আল কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াত, ‘কেউ জানে না, তার জন্য কী কী নয়নাভিরাম বিনিময় লুকায়িত আছে।’ (সুরা আস্ সাজদাহ)
সওয়াব কামানোর এ মৌসুমে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত পেতে হলে নিজেকে সর্বতোভাবে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করতে হবে। সততা, একনিষ্ঠতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে রমজানের সিয়াম পালন করে আল্লাহর প্রতিশ্র“ত পুরস্কার লাভের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। মোবারক সময়গুলোতে কাকুতি-মিনতি করে দোয়া করতে হবে যেন আল্লাহ দুনিয়ার জিন্দেগিতে আমাদের কামিয়াব করেন। আখিরাতের অনাদি অনন্তকাল জিন্দেগিতে তাঁর রহমতের ছায়ায় স্থান দেন।
হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, রমজানের প্রতিদিন ও প্রতিরাতে আল্লাহপাক জাহান্নামের বহু কয়েদিকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং প্রতিদিন ও প্রতিরাতে মুসলমানদের অন্তত একটি দোয়া অবশ্যই কবুল হয়ে থাকে। আল্লাহতায়ালা আমাদের ইহ-পরকালীন কল্যাণ ও মুক্তিদান করুন। আমিন। লেখক : চেয়ারম্যান নদওয়াতুল ওলামা আল আলামিয়া, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব, লেখক ও গবেষক



















