১১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শান্তিগঞ্জে প্রভাবশালীদের বাঁধার মুখে ১০টি দোকান বন্ধ: উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ

  • Update Time : ০৩:১৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজারে স্থানীয় প্রভাবশালী গাজীনগর গ্রামের মৃত হাজী লাল মিয়ার ছেলে মস্তফা মিয়া, আব্দুল কাদিরের ছেলে মক্তছির মিয়া ও একই গ্রামের কাপ্তান মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলীদের বাঁধার মুখে শ্যামনগর গ্রামের ১০টি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার(২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের আলতাফ হোসেন, হিরন মিয়া, সামছু মেম্বার, সাইদুর রহমান, ফারুক মিয়া সহ পাথারিয়া বাজারে শ্যামনগর গ্রামের ১০ ব্যবসায়ী সহ শ্যামনগর গ্রামের প্রায় শতাধিক লোকজন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাসে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও গাজীনগর গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম তার এক ছাত্রীকে বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় অনৈতিক আচরণ করার অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষক জহিরুল ইসলামকে তার কর্মস্থল শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঠদান করা থেকে বিরত রাখেন। পরে শ্যামনগর গ্রামবাসীরাও শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্ত্বতা পোষন করে তারাও শিক্ষক জহিরুল ইসলামকে বিদ্যালয়ের পাঠদান করা থেকে বারণ করেন । একারণে গাজীনগর গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক জহিরুল ইসলাম তার আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন সহ অভিযুক্ত পাথারিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজীনগর গ্রামের মৃত হাজী লাল মিয়ার ছেলে মস্তফা মিয়া, আব্দুল কাদিরের ছেলে মক্তছির মিয়া ও একই গ্রামের কাপ্তান মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী গংরা গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) পাথারিয়া বাজারে ব্যবসায়ী ও শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানের ব্যবসায়ী শামিম আহমদ, আরব আলী, রাশেদ মিয়া, মসলা ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া, ভেরাইটিজ দোকান ব্যবসায়ী শাহ জাহান মিয়া, কাঁচামাল ব্যবসায়ী সুজাত মিয়া,সুমিন মিয়া, প্রসারী ব্যবসায়ী আব্দুল হাসিম, হোটেল ব্যসায়ী কাসেম মিয়ার দোকান সহ ১০টি দোকান বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে শ্যামনগর গ্রামের সাধারণ লোকজনদেরকেও পাথারিয়া বাজারে বাজার সদাই করা থেকে বিরত রাখে অভিযুক্ত ও তার লোকজন ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

পাথারিয়া বাজারের ব্যসায়ী ও শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, পাথারিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজীনগর গ্রামের মৃত হাজী লাল মিয়ার ছেলে মস্তফা মিয়া, আব্দুল কাদিরের ছেলে মক্তছির মিয়া ও একই গ্রামের কাপ্তান মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী গংরা তাহাদের লোক দুশ্চরিত্র ও লম্পট শিক্ষক জহিরুলকে দিয়ে পাঠদান করা এবং আমাদের গ্রামের বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাঁধা দেওয়ায় সে আমাদের গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকান, ব্যবসা বাণিজ্য করা বন্ধ করে দিয়েছে গাজীনগর গ্রামের লোকজন। এতে আমাদের ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পাশপাশি আমাদের প্রাণহানীর আশংকাও রয়েছে।

অভিযুক্ত পাথারিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজীনগর গ্রামের মৃত হাজী লাল মিয়ার ছেলে মস্তফা মিয়া বলেন, জহির মাষ্টারকে নিয়া যে ঘটনাটি ঘটেছে। সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জহিরকে তার বিদ্যালয়ে যেতে শ্যানগর গ্রামের লোকজন বাঁধা দিয়েছে। জহির পরে গাজীনগর গ্রামে এসে বিষয়টি জানায় এবং তার আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে বৈঠকে বসে। বৈঠকের খবর পেয়ে শ্যামনগর গ্রামের পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান পাঠ বন্ধ করে পালিয়ে যায়। আমাদের লোকজন কেউ তাদের দোকান পাঠ বন্ধ করনি।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের আলোকে দুইপক্ষকে ২২ এপ্রিল শুনানীর জন্য উপজেলায় ডেকেছি। পরবর্তীতে দুইপক্ষের কথাবার্তা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

শান্তিগঞ্জে প্রভাবশালীদের বাঁধার মুখে ১০টি দোকান বন্ধ: উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ

Update Time : ০৩:১৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজারে স্থানীয় প্রভাবশালী গাজীনগর গ্রামের মৃত হাজী লাল মিয়ার ছেলে মস্তফা মিয়া, আব্দুল কাদিরের ছেলে মক্তছির মিয়া ও একই গ্রামের কাপ্তান মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলীদের বাঁধার মুখে শ্যামনগর গ্রামের ১০টি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার(২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের আলতাফ হোসেন, হিরন মিয়া, সামছু মেম্বার, সাইদুর রহমান, ফারুক মিয়া সহ পাথারিয়া বাজারে শ্যামনগর গ্রামের ১০ ব্যবসায়ী সহ শ্যামনগর গ্রামের প্রায় শতাধিক লোকজন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাসে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও গাজীনগর গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম তার এক ছাত্রীকে বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় অনৈতিক আচরণ করার অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষক জহিরুল ইসলামকে তার কর্মস্থল শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঠদান করা থেকে বিরত রাখেন। পরে শ্যামনগর গ্রামবাসীরাও শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্ত্বতা পোষন করে তারাও শিক্ষক জহিরুল ইসলামকে বিদ্যালয়ের পাঠদান করা থেকে বারণ করেন । একারণে গাজীনগর গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক জহিরুল ইসলাম তার আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন সহ অভিযুক্ত পাথারিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজীনগর গ্রামের মৃত হাজী লাল মিয়ার ছেলে মস্তফা মিয়া, আব্দুল কাদিরের ছেলে মক্তছির মিয়া ও একই গ্রামের কাপ্তান মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী গংরা গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) পাথারিয়া বাজারে ব্যবসায়ী ও শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানের ব্যবসায়ী শামিম আহমদ, আরব আলী, রাশেদ মিয়া, মসলা ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া, ভেরাইটিজ দোকান ব্যবসায়ী শাহ জাহান মিয়া, কাঁচামাল ব্যবসায়ী সুজাত মিয়া,সুমিন মিয়া, প্রসারী ব্যবসায়ী আব্দুল হাসিম, হোটেল ব্যসায়ী কাসেম মিয়ার দোকান সহ ১০টি দোকান বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে শ্যামনগর গ্রামের সাধারণ লোকজনদেরকেও পাথারিয়া বাজারে বাজার সদাই করা থেকে বিরত রাখে অভিযুক্ত ও তার লোকজন ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

পাথারিয়া বাজারের ব্যসায়ী ও শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, পাথারিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজীনগর গ্রামের মৃত হাজী লাল মিয়ার ছেলে মস্তফা মিয়া, আব্দুল কাদিরের ছেলে মক্তছির মিয়া ও একই গ্রামের কাপ্তান মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী গংরা তাহাদের লোক দুশ্চরিত্র ও লম্পট শিক্ষক জহিরুলকে দিয়ে পাঠদান করা এবং আমাদের গ্রামের বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাঁধা দেওয়ায় সে আমাদের গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকান, ব্যবসা বাণিজ্য করা বন্ধ করে দিয়েছে গাজীনগর গ্রামের লোকজন। এতে আমাদের ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পাশপাশি আমাদের প্রাণহানীর আশংকাও রয়েছে।

অভিযুক্ত পাথারিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজীনগর গ্রামের মৃত হাজী লাল মিয়ার ছেলে মস্তফা মিয়া বলেন, জহির মাষ্টারকে নিয়া যে ঘটনাটি ঘটেছে। সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জহিরকে তার বিদ্যালয়ে যেতে শ্যানগর গ্রামের লোকজন বাঁধা দিয়েছে। জহির পরে গাজীনগর গ্রামে এসে বিষয়টি জানায় এবং তার আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে বৈঠকে বসে। বৈঠকের খবর পেয়ে শ্যামনগর গ্রামের পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান পাঠ বন্ধ করে পালিয়ে যায়। আমাদের লোকজন কেউ তাদের দোকান পাঠ বন্ধ করনি।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের আলোকে দুইপক্ষকে ২২ এপ্রিল শুনানীর জন্য উপজেলায় ডেকেছি। পরবর্তীতে দুইপক্ষের কথাবার্তা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ