০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লন্ডনে বাঙ্গালী পাড়ায় ব্যাপক ধরপাকড় : চরম আতঙ্কে প্রবাসীরা

  • Update Time : ০৩:০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারে পূর্ব লন্ডনে একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃৃখলা বাহিনী। ৫ জুন সোমবার নিউহামের ক্যালেডোন রোডের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পরিবারের নারী-পুরুষ সকল সদস্যকে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রতিবেশিরা বলছেন, বাসাটি বাংলাদেশি পরিবারের।  এর আগে রোববার বার্কিংয়ের একটি বাসা থেকে বোরকা পরিহিত ৭ নারীসহ মোট ১২ জনকে আটক করে পুলিশ।  ম্যানচেস্টারে সন্ত্রাসী হামলার রেশ না কাটতেই লন্ডনে হামলার ঘটনায় অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মত বাংলাদেশিদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৩ মে শনিবার রাতে যে এলাকায় হামলা হয়েছে সেটি বাংলাদেশি অধ্যুষিত বাংলা টাউন এলাকার খুব নিকটে। আবার বার্কিং ও নিউহাম থেকে থেকে গ্রেফতারের ঘটনা বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে। কারণ এসব এলাকায় অনেক বাংলাদেশির বসবাস।

 

 

পত্রিকার সাথে আলাপকালে একাধিক বাংলাদেশি বলেন, হামলাকারী কিংবা গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশি কি-না, তা নিয়েই তাদের উদ্বেগ বেশি। কেননা, এমনিতে বেশিরভাগ ঘটনায় হামলাকারী মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের চাপে থাকতে হয়। এরমধ্যে যদি কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সর্বনাশ।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সোমবার ভোর আনুমানিক চারটার দিকে নিউহামের ক্যালেডন রোড়ের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। পার্শ্ববর্তী ঘরের সোনিয়া জানান, অভিযানকালে প্রচণ্ড শব্দে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘন্টাখানেক পর পুলিশ ওই পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে যায়। সোনিয়া বলেন, দুই সন্তানের একটি  মুসলিম পরিবার ওই ঘরে বসবাস করতো। একই রোড়ের বাসিন্দা ভিজয় টামসিকুমার নামে একজন বলেন, তিনি বিকট আওয়াজ ও গুলির শব্দ শুনতে পান।  মোহাম্মদ অজুপারামবিল নামে একজন বলেন, ওই ঘরে বাংলাদেশি একটি পরিবার বসবাস করে বলে তিনি জানেন।   তিনি বলেন, ৬৫ এর বেশি বয়সী এক পুরুষ এবং তরুণীসহ তিনি নারীকে পুলিশ নিয়ে যায়।

 
এর আগে রোববার ভোরবেলা পূর্ব লন্ডনের বার্কিং এলাকার একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করে পুলিশ। ‘এলিজাবেথ ফ্রাই’ নামের ওই ভবনের নিচ তলায় তিন হামলাকারীর অন্তত একজন বসবাস করতে বলে ধারণা। এখানে আটককৃত ১২ জনের মধ্যে ৭ জন নারী এবং ৫ জন পুরুষ। অবশ্য ৫৫ বছর বয়সী এক পুরুষকে পরদিন ছেড়ে দেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেফতার অভিযানের ছবিতে দেখা যায়, পুলিশ একাধিক বোরকা পরিহিত নারীকে নিয়ে যাচ্ছে। আর পেছনে হাতকড়া পরানো কয়েকজন পুরুষকে ভবনের সামনের মেঝেতে উপড় করে রাখা হয়েছে।
লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশিদের মধ্যে তিন ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। একদিকে তারা যুক্তরাজ্যবাসী হিসেবে অন্যান্য ব্রিটিশদের মতো করেই নিজেদের হামলার লক্ষ্যবস্তু মনে করছেন। অন্যদিকে ‘হেইট ক্রাইমের’ শিকার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হওয়ার ভয়ও কাজ করছে বাঙালিদের মাঝে।
এবারের হামলার পর সেখানে সে মাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা গত বারো বছরে দেখেনি লন্ডনবাসী। কেউ কেউ একে ‘যুদ্ধাবস্থা’ বলেও উল্লেখ করছেন। এর আগে ২০০৫ সালে লন্ডনে জঙ্গি হামলার পর এমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গিয়েছিল।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

লন্ডনে বাঙ্গালী পাড়ায় ব্যাপক ধরপাকড় : চরম আতঙ্কে প্রবাসীরা

Update Time : ০৩:০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারে পূর্ব লন্ডনে একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃৃখলা বাহিনী। ৫ জুন সোমবার নিউহামের ক্যালেডোন রোডের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পরিবারের নারী-পুরুষ সকল সদস্যকে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রতিবেশিরা বলছেন, বাসাটি বাংলাদেশি পরিবারের।  এর আগে রোববার বার্কিংয়ের একটি বাসা থেকে বোরকা পরিহিত ৭ নারীসহ মোট ১২ জনকে আটক করে পুলিশ।  ম্যানচেস্টারে সন্ত্রাসী হামলার রেশ না কাটতেই লন্ডনে হামলার ঘটনায় অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মত বাংলাদেশিদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৩ মে শনিবার রাতে যে এলাকায় হামলা হয়েছে সেটি বাংলাদেশি অধ্যুষিত বাংলা টাউন এলাকার খুব নিকটে। আবার বার্কিং ও নিউহাম থেকে থেকে গ্রেফতারের ঘটনা বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে। কারণ এসব এলাকায় অনেক বাংলাদেশির বসবাস।

 

 

পত্রিকার সাথে আলাপকালে একাধিক বাংলাদেশি বলেন, হামলাকারী কিংবা গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশি কি-না, তা নিয়েই তাদের উদ্বেগ বেশি। কেননা, এমনিতে বেশিরভাগ ঘটনায় হামলাকারী মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের চাপে থাকতে হয়। এরমধ্যে যদি কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সর্বনাশ।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সোমবার ভোর আনুমানিক চারটার দিকে নিউহামের ক্যালেডন রোড়ের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। পার্শ্ববর্তী ঘরের সোনিয়া জানান, অভিযানকালে প্রচণ্ড শব্দে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘন্টাখানেক পর পুলিশ ওই পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে যায়। সোনিয়া বলেন, দুই সন্তানের একটি  মুসলিম পরিবার ওই ঘরে বসবাস করতো। একই রোড়ের বাসিন্দা ভিজয় টামসিকুমার নামে একজন বলেন, তিনি বিকট আওয়াজ ও গুলির শব্দ শুনতে পান।  মোহাম্মদ অজুপারামবিল নামে একজন বলেন, ওই ঘরে বাংলাদেশি একটি পরিবার বসবাস করে বলে তিনি জানেন।   তিনি বলেন, ৬৫ এর বেশি বয়সী এক পুরুষ এবং তরুণীসহ তিনি নারীকে পুলিশ নিয়ে যায়।

 
এর আগে রোববার ভোরবেলা পূর্ব লন্ডনের বার্কিং এলাকার একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করে পুলিশ। ‘এলিজাবেথ ফ্রাই’ নামের ওই ভবনের নিচ তলায় তিন হামলাকারীর অন্তত একজন বসবাস করতে বলে ধারণা। এখানে আটককৃত ১২ জনের মধ্যে ৭ জন নারী এবং ৫ জন পুরুষ। অবশ্য ৫৫ বছর বয়সী এক পুরুষকে পরদিন ছেড়ে দেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেফতার অভিযানের ছবিতে দেখা যায়, পুলিশ একাধিক বোরকা পরিহিত নারীকে নিয়ে যাচ্ছে। আর পেছনে হাতকড়া পরানো কয়েকজন পুরুষকে ভবনের সামনের মেঝেতে উপড় করে রাখা হয়েছে।
লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশিদের মধ্যে তিন ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। একদিকে তারা যুক্তরাজ্যবাসী হিসেবে অন্যান্য ব্রিটিশদের মতো করেই নিজেদের হামলার লক্ষ্যবস্তু মনে করছেন। অন্যদিকে ‘হেইট ক্রাইমের’ শিকার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হওয়ার ভয়ও কাজ করছে বাঙালিদের মাঝে।
এবারের হামলার পর সেখানে সে মাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা গত বারো বছরে দেখেনি লন্ডনবাসী। কেউ কেউ একে ‘যুদ্ধাবস্থা’ বলেও উল্লেখ করছেন। এর আগে ২০০৫ সালে লন্ডনে জঙ্গি হামলার পর এমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গিয়েছিল।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ