রমজানে রোজাদারের জন্য বিশেষ ৬ আমল
- Update Time : ০৬:১৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস পবিত্র রমজান। এ মাসে আল্লাহ তাআলা নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেন এবং বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন। তাই রোজাদার মুমিন মুসলমানের জন্য রমজান মাস ইবাদত-বন্দেগি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানে কিছু আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যেগুলো মাসব্যাপী পালন করলে আল্লাহর রহমত ও কল্যাণ লাভ করা যায়। রমজান মাসজুড়ে রোজাদার মুমিন মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৬টি আমল তুলে ধরা হলো-
১. তারাবিহ নামাজ আদায় করা
রমজানের বিশেষ আমলগুলোর মধ্যে তারাবিহ নামাজ অন্যতম। ইমান ও সওয়াবের আশা নিয়ে তারাবিহ আদায় করলে গুনাহ মাফ হয়ে যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
‘যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়ামুল লাইল (তারাবিহ) আদায় করবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি ২০০৯, মুসলিম ৭৬০)
২. শেষ রাতে সেহরি খাওয়া
সেহরি রোজার গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। অল্প হলেও সেহরি খাওয়া উত্তম। অন্তত একটি খেজুর দিয়ে হলেও সেহরি করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً
‘তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (বুখারি ১৯২৩, মুসলিম ১০৯৫)
৩. খেজুর দিয়ে ইফতার করা
সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে ইফতার করা উত্তম। হাদিসে এসেছে—
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُفْطِرُ عَلَى رُطَبَاتٍ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ رُطَبَاتٌ فَتَمَرَاتٌ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ
‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের আগে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না থাকলে শুকনা খেজুর, আর তা না থাকলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন।’ (আবু দাউদ ২৩৫৬, তিরমিজি ৬৯৬)
৪. ইফতারে দেরি না করা
ইফতারের সময় হলে দেরি না করে দ্রুত ইফতার করা সুন্নত। এতে কল্যাণ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ
‘মানুষ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে।’ (বুখারি ১৯৫৭, মুসলিম ১০৯৮)
৫. মিথ্যা ও মন্দ কাজ পরিহার করা
রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন। তাই রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিহার করে না, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি ১৯০৩)
৬. খারাপ কথার জবাবে উত্তম আচরণ করা
রোজাদারের উচিত ধৈর্যধারণ করা এবং খারাপ কথার জবাবে উত্তম আচরণ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
فَإِنِ امْرُؤٌ سَابَّهُ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ
‘কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা ঝগড়া করতে চায়, তবে সে বলবে—আমি রোজাদার।’ (বুখারি ১৯০৪, নাসাঈ ২২১৫)
রমজান মাস শুধু রোজা রাখার মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। তাই প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত রমজানজুড়ে তারাবিহ, সেহরি, ইফতারসহ সুন্নত আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করা এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকা। এসব আমলের মাধ্যমে একজন রোজাদার আল্লাহর রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভে ধন্য হতে পারে।




























