০৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রমজানে তারাবির ফজিলত

  • Update Time : ০৬:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ মে ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা :: মহান আল্লাহতাআলার কৃপায় পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় রোজা অতিবাহিত করার আমরা সৌভাগ্য পাচ্ছি, আলহামদুলিল্লাহ। পবিত্র রমজান হলো বিশেষ ইবাদত-বন্দেগির মাস। মুমিন-মুত্তাকিরা অধির আগ্রহে অপেক্ষমাণ থাকেন এই বিশেষ মাসটির জন্য। রমজানের রোজা পালনের পাশাপাশি যে ইবাদতটির নাম সর্বাগ্রে আসে, তা হলো তারাবির নামাজ। তারাবি শব্দের আভিধানিক অর্থ বিশ্রাম বা আরাম। তারাবির নামাজ আসলে তাহাজ্জুদ নামাজেরই আরেকটি নাম, কিন্তু রমজান মাসে সর্বসাধারণ যেন এ থেকে কল্যাণম-িত হতে পারে, এ জন্য সাধারণ মানুষকে রাতের প্রথম ভাগে, অর্থাৎ এশার নামাজের পর পরই এ নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

তারাবির নামাজ সম্পর্কে হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন গভীর রাতে মহানবী (সা.) মসজিদে গেলেন এবং নামাজ পড়লেন, কিছু লোকও তার (সা.) পেছনে নামাজ পড়লেন। ভোর হওয়ার পর লোকজন পরস্পরের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করায় দ্বিতীয় রাতে লোকসংখ্যা আরও বেড়ে গেল এবং তারা মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে নামাজ পড়লেন। এ দিন ভোর হওয়ার পর লোকদের মাঝে আরও বেশি আলোচনা হলো এবং তৃতীয় রাতে মসজিদের লোকসমাগম আরও বেশি হলো, মহানবী (সা.) বাইরে বের হয়ে নামাজ পড়লেন আর তারাও তার (সা.) সঙ্গে নামাজ পড়লেন। যখন চতুর্থ রাত এলো তখন এত লোকসমাগম হলো যে, মসজিদে স্থানসংকুলান হলো না। কিন্তু তিনি এ রাতে তারাবির নামাজের জন্য বের হলেন না, ভোর হলে ফজরের নামাজের জন্য বের হলেন এবং ফজরের নামাজ শেষে লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাশাউদ পাঠের পর বললেন, তোমাদের বিষয়টি আমার কাছে গোপন ছিল না। কিন্তু আমি আশঙ্কা করছিলাম, এ নামাজ না আবার তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হয় আর তোমরা তা পালনে ব্যর্থ হও। মহানবী (সা.) ইন্তেকাল করলেন এবং এ নামাজের বিষয়টি তেমনই রইল’ (বোখারি)।

 

হজরত আবদুর রহমান বিন আবদিল ক্বারি (রা.) বর্ণনা করেছেন, রমজানের এক রাতে আমি হজরত উমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর সঙ্গে মসজিদের উদ্দেশে বের হলাম এবং দেখলাম, লোকেরা পৃথক পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে আছে। কেউ একা একা নামাজ পড়ছিল, আবার কেউ কেউ এভাবে নামাজ পড়ছিল যে, তার পেছনে কিছু লোক নামাজ পড়ছিল। এ অবস্থা দেখে হজরত উমর (রা.) বললেন, আমার মনে হয় সবাইকে একজন ক্বারির পেছনে একত্রিত করে দিলে ভালো হয়। অতঃপর তিনি (রা.) দৃঢ় প্রত্যয় করলেন এবং উবাই বিন কাবের পেছনে তাদের সবাইকে মুক্তাদি হিসেবে একত্রিত করে দিলেন। মহানবী (সা.) নিজে তারাবি নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে পড়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। তারাবি নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে উল্লেখ আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানে তারাবির নামাজ আদায় করে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়’ (বোখারি ও মুসলিম)। এ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় তারাবির নামাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন মসজিদে খতম তারাবির ব্যবস্থা রয়েছে, আমরা যদি অন্যদিকে অযথা সময় নষ্ট না করে তারাবির নামাজে যোগদান করে পুরো রমজান অতিবাহিত করি, তাহলে আল্লাহতাআলা হয়তো আমাদের আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তার নৈকট্যও লাভ করব। এ ছাড়া খতম তারাবিতে যোগদানের ফলে বিশেষ যে কল্যাণ আমরা লাভ করব তা হলো পুরো কোরআন একবার পড়া হয়ে যাবে। তাই আসুন, আজ থেকেই এই অঙ্গীকার করি যে, প্রত্যেক দিন তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাব আর শুধু আমি নিজেই নয়, বরং আমার পরিবারসহ এই নামাজে অংশ নেব।

 

আসলে আল্লাহতাআলার ভালোবাসা পেতে হলে নফল ইবাদতের একান্ত প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যেন পবিত্র এই রমজানে ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি অনেক বেশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহতাআলার নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি। আল্লাহতাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র এই রমজানে বাজামাত তারাবি নামাজে অংশ নেওয়ার তৌফিক দান করুন, আমিন।

 

মাহমুদ আহমদ : ইসলামি গবেষক ও কলাম লেখক

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

রমজানে তারাবির ফজিলত

Update Time : ০৬:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ মে ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা :: মহান আল্লাহতাআলার কৃপায় পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় রোজা অতিবাহিত করার আমরা সৌভাগ্য পাচ্ছি, আলহামদুলিল্লাহ। পবিত্র রমজান হলো বিশেষ ইবাদত-বন্দেগির মাস। মুমিন-মুত্তাকিরা অধির আগ্রহে অপেক্ষমাণ থাকেন এই বিশেষ মাসটির জন্য। রমজানের রোজা পালনের পাশাপাশি যে ইবাদতটির নাম সর্বাগ্রে আসে, তা হলো তারাবির নামাজ। তারাবি শব্দের আভিধানিক অর্থ বিশ্রাম বা আরাম। তারাবির নামাজ আসলে তাহাজ্জুদ নামাজেরই আরেকটি নাম, কিন্তু রমজান মাসে সর্বসাধারণ যেন এ থেকে কল্যাণম-িত হতে পারে, এ জন্য সাধারণ মানুষকে রাতের প্রথম ভাগে, অর্থাৎ এশার নামাজের পর পরই এ নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

তারাবির নামাজ সম্পর্কে হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন গভীর রাতে মহানবী (সা.) মসজিদে গেলেন এবং নামাজ পড়লেন, কিছু লোকও তার (সা.) পেছনে নামাজ পড়লেন। ভোর হওয়ার পর লোকজন পরস্পরের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করায় দ্বিতীয় রাতে লোকসংখ্যা আরও বেড়ে গেল এবং তারা মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে নামাজ পড়লেন। এ দিন ভোর হওয়ার পর লোকদের মাঝে আরও বেশি আলোচনা হলো এবং তৃতীয় রাতে মসজিদের লোকসমাগম আরও বেশি হলো, মহানবী (সা.) বাইরে বের হয়ে নামাজ পড়লেন আর তারাও তার (সা.) সঙ্গে নামাজ পড়লেন। যখন চতুর্থ রাত এলো তখন এত লোকসমাগম হলো যে, মসজিদে স্থানসংকুলান হলো না। কিন্তু তিনি এ রাতে তারাবির নামাজের জন্য বের হলেন না, ভোর হলে ফজরের নামাজের জন্য বের হলেন এবং ফজরের নামাজ শেষে লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাশাউদ পাঠের পর বললেন, তোমাদের বিষয়টি আমার কাছে গোপন ছিল না। কিন্তু আমি আশঙ্কা করছিলাম, এ নামাজ না আবার তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হয় আর তোমরা তা পালনে ব্যর্থ হও। মহানবী (সা.) ইন্তেকাল করলেন এবং এ নামাজের বিষয়টি তেমনই রইল’ (বোখারি)।

 

হজরত আবদুর রহমান বিন আবদিল ক্বারি (রা.) বর্ণনা করেছেন, রমজানের এক রাতে আমি হজরত উমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর সঙ্গে মসজিদের উদ্দেশে বের হলাম এবং দেখলাম, লোকেরা পৃথক পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে আছে। কেউ একা একা নামাজ পড়ছিল, আবার কেউ কেউ এভাবে নামাজ পড়ছিল যে, তার পেছনে কিছু লোক নামাজ পড়ছিল। এ অবস্থা দেখে হজরত উমর (রা.) বললেন, আমার মনে হয় সবাইকে একজন ক্বারির পেছনে একত্রিত করে দিলে ভালো হয়। অতঃপর তিনি (রা.) দৃঢ় প্রত্যয় করলেন এবং উবাই বিন কাবের পেছনে তাদের সবাইকে মুক্তাদি হিসেবে একত্রিত করে দিলেন। মহানবী (সা.) নিজে তারাবি নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে পড়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। তারাবি নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে উল্লেখ আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানে তারাবির নামাজ আদায় করে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়’ (বোখারি ও মুসলিম)। এ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় তারাবির নামাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন মসজিদে খতম তারাবির ব্যবস্থা রয়েছে, আমরা যদি অন্যদিকে অযথা সময় নষ্ট না করে তারাবির নামাজে যোগদান করে পুরো রমজান অতিবাহিত করি, তাহলে আল্লাহতাআলা হয়তো আমাদের আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তার নৈকট্যও লাভ করব। এ ছাড়া খতম তারাবিতে যোগদানের ফলে বিশেষ যে কল্যাণ আমরা লাভ করব তা হলো পুরো কোরআন একবার পড়া হয়ে যাবে। তাই আসুন, আজ থেকেই এই অঙ্গীকার করি যে, প্রত্যেক দিন তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাব আর শুধু আমি নিজেই নয়, বরং আমার পরিবারসহ এই নামাজে অংশ নেব।

 

আসলে আল্লাহতাআলার ভালোবাসা পেতে হলে নফল ইবাদতের একান্ত প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যেন পবিত্র এই রমজানে ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি অনেক বেশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহতাআলার নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি। আল্লাহতাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র এই রমজানে বাজামাত তারাবি নামাজে অংশ নেওয়ার তৌফিক দান করুন, আমিন।

 

মাহমুদ আহমদ : ইসলামি গবেষক ও কলাম লেখক

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ