০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“মোল্লা” মানে কী? : শাহ মমশাদ আহমদ

  • Update Time : ০৬:০৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ আগস্ট ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে আলেম- উলামাদের  “মাওলানা” উপাধি প্রদান করা হয়, আফগান ও ইরান সীমান্ত এলাকায় অদ্যাবধি আলেম উলামাদের মর্যাদাপুর্ণ খেতাব হচ্ছে “মৌলভী- মোল্লা”। মুলতঃ “মোল্লা”কোন অমর্যাদাকর শব্দ নয়, “মোল্লা” উলামায়ে কেরামের হারানো ঐতিহ্যের চেতনাবাহী একটি খেতাব।

 

মাওলানা, মৌলভী ও মোল্লা  উৎসগতভাবে একই অর্থবোধক শব্দ, আলেম বিদ্বষী চক্রের ষড়যন্ত্রে আমাদের দেশে মোল্লা ও মৌলভী শব্দদ্বয় জৌলুশ হারালেও মাশাল্লাহ মাওলানা শব্দের স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্র মর্যাদা এখনো বহাল আছে।

 

মাওলানা, মৌলভী আর মোল্লা শব্দত্রয়ের মুল হচ্ছেمولي”মাওলা” আরবী অভিধানে মাওলা শব্দের পঞ্চাশের অধিক অর্থ রয়েছে৷ প্রচলিত কয়েকটি অর্থের মধ্যে রয়েছে, প্রভু, মালিক, প্রতিপালক, পালনকর্তা, লালন কারী, বন্ধু, গোলাম আযাদকারী, আযাদকৃত গোলাম, দয়ালু, নেতা, অনুসরনীয় ইত্যাদি।

 

“মাওলা” থেকেই আলেম-উলামাদের সমাজের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে মাওলানা উপাধি দেয়া হয়েছে, মাওলানা মানে “আমাদের অনুসরনীয় ব্যক্তি”।

 

“মাওলা” শব্দ থেকেই মৌলভী, এখানে মাওলা মানে প্রভু,পালনকর্তা মহান আল্লাহ। হযরত থানবী (রঃ) বলেন, “মাওলা ওয়ালা” অর্থাৎ আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তিই মৌলভী, যার মধ্যে ঈলিম, তাক্বওয়া আর সুন্দর চরিত্রের সমন্বয় হবে তিনিই মৌলভী। (আলবালীগ)

 

“মোল্লা” শব্দটি مولوى শব্দের ফারসি রুপ, ধর্মীয় অনুসরনীয় ব্যক্তিবর্গই মোল্লা। আফগানিস্তানে গ্রহণযোগ্য বিদগ্ধ আলেম-উলামাদের মোল্লা বলা হয়ে থাকে, তুরস্কে বিচারকদের মোল্লা বা মানওয়া বলা হয়ে থাকে।

 

অনেক আলেমদের মতে মুল্লা শব্দটি আরবি مَلَأ শব্দ থেকে এসেছে, মালাআ অর্থ পরিপুর্ন করা, যেমন আল্লাহ ইরশাদ করেন,:

وَأَنَّا لَمَسْنَا ٱلسَّمَآءَ فَوَجَدْنَٰهَا مُلِئَتْ
حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا(سورة الجن)

 

যে আলেম শরীয়তের জ্ঞানে পরিপূর্ণ তাকে মোল্লা বলা
হয়, তেমনি যিনি সমাজের জন্য পরিপূর্ণ তাঁকে মোল্লা
বলা হয়। ইতিহাসখ্যাত অনেক গবেষক- মহাজ্ঞানী আলেমদের মোল্লা উপাধি ছিল, মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) মোল্লা জুয়ুন (রহঃ), মোল্লা আব্দুর রাহমান জামী (রহঃ), মোল্লা জালাল (রহঃ) এদের মধ্যে অন্যতম।

 

একসময় ভারত উপমহাদেশে ও মোল্লা শব্দ আলেম উলামাদের মর্যাদাপুর্ন উপাধি ছিল, বংশের পূর্বসুরী কোন মহান ব্যক্তি আলেম বা বিচারক থাকলে সে সম্ভান্ত  বংশের নাম মোল্লা হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী আন্দোলনের সময় রাজনীতি সংশ্লিষ্ট আলেমদের মুল্লা নামে ডাকা শুরু হয়, পর্যায়ক্রমে বৃটিশ দালালদের ষড়যন্ত্রে কটাক্ষমুলক শব্দে পরিনত হয়।
ইসলামের ঐতিহ্যবাহী শব্দ ও পোশাকে আঘাতহানা সাম্রাজ্যবাদীদের সুপরিকল্পিত বিষয়, এমন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ইসলামী রাষ্ট্রের চেতনাবাহী “খলিফা” শব্দ আজ যত্রতত্র ব্যবহার হয়, অনেক অঞ্চলে দরজীকে ও খলিফা বলা হয় আর পীর সাহেবদের খলিফা তো এখন পানির মত সস্তা।

 

গাগড়ি  ছিল মুসলিম উম্মাহের চেতনা, মুসলিম শাসক নবাব সিরাজুদ্দৌলা রহঃ সহ মুসলিম বাদশাহগন পাগড়ি পরিধান করতেন, ব্রটিশ দুরভিসন্ধিমূলকভাবে পাগড়িকে শাহী দারোয়ানের ইউনিফর্ম করে।

 

আলহামদুলিল্লাহ, যুগসেরা মোল্লাদের নেতৃত্বে ছাত্র ভাইদের বিজয়ের মাধ্যমে “মোল্লা-পাগড়ি”আবারও হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চলেছে। আসলেহা আর মুসলেহাতের সমন্বয়েই হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়া যেতে পারে। আল্লাহ আমাদের বাস্তবতা উপলব্ধি করার তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

“মোল্লা” মানে কী? : শাহ মমশাদ আহমদ

Update Time : ০৬:০৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ আগস্ট ২০২১

ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে আলেম- উলামাদের  “মাওলানা” উপাধি প্রদান করা হয়, আফগান ও ইরান সীমান্ত এলাকায় অদ্যাবধি আলেম উলামাদের মর্যাদাপুর্ণ খেতাব হচ্ছে “মৌলভী- মোল্লা”। মুলতঃ “মোল্লা”কোন অমর্যাদাকর শব্দ নয়, “মোল্লা” উলামায়ে কেরামের হারানো ঐতিহ্যের চেতনাবাহী একটি খেতাব।

 

মাওলানা, মৌলভী ও মোল্লা  উৎসগতভাবে একই অর্থবোধক শব্দ, আলেম বিদ্বষী চক্রের ষড়যন্ত্রে আমাদের দেশে মোল্লা ও মৌলভী শব্দদ্বয় জৌলুশ হারালেও মাশাল্লাহ মাওলানা শব্দের স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্র মর্যাদা এখনো বহাল আছে।

 

মাওলানা, মৌলভী আর মোল্লা শব্দত্রয়ের মুল হচ্ছেمولي”মাওলা” আরবী অভিধানে মাওলা শব্দের পঞ্চাশের অধিক অর্থ রয়েছে৷ প্রচলিত কয়েকটি অর্থের মধ্যে রয়েছে, প্রভু, মালিক, প্রতিপালক, পালনকর্তা, লালন কারী, বন্ধু, গোলাম আযাদকারী, আযাদকৃত গোলাম, দয়ালু, নেতা, অনুসরনীয় ইত্যাদি।

 

“মাওলা” থেকেই আলেম-উলামাদের সমাজের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে মাওলানা উপাধি দেয়া হয়েছে, মাওলানা মানে “আমাদের অনুসরনীয় ব্যক্তি”।

 

“মাওলা” শব্দ থেকেই মৌলভী, এখানে মাওলা মানে প্রভু,পালনকর্তা মহান আল্লাহ। হযরত থানবী (রঃ) বলেন, “মাওলা ওয়ালা” অর্থাৎ আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তিই মৌলভী, যার মধ্যে ঈলিম, তাক্বওয়া আর সুন্দর চরিত্রের সমন্বয় হবে তিনিই মৌলভী। (আলবালীগ)

 

“মোল্লা” শব্দটি مولوى শব্দের ফারসি রুপ, ধর্মীয় অনুসরনীয় ব্যক্তিবর্গই মোল্লা। আফগানিস্তানে গ্রহণযোগ্য বিদগ্ধ আলেম-উলামাদের মোল্লা বলা হয়ে থাকে, তুরস্কে বিচারকদের মোল্লা বা মানওয়া বলা হয়ে থাকে।

 

অনেক আলেমদের মতে মুল্লা শব্দটি আরবি مَلَأ শব্দ থেকে এসেছে, মালাআ অর্থ পরিপুর্ন করা, যেমন আল্লাহ ইরশাদ করেন,:

وَأَنَّا لَمَسْنَا ٱلسَّمَآءَ فَوَجَدْنَٰهَا مُلِئَتْ
حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا(سورة الجن)

 

যে আলেম শরীয়তের জ্ঞানে পরিপূর্ণ তাকে মোল্লা বলা
হয়, তেমনি যিনি সমাজের জন্য পরিপূর্ণ তাঁকে মোল্লা
বলা হয়। ইতিহাসখ্যাত অনেক গবেষক- মহাজ্ঞানী আলেমদের মোল্লা উপাধি ছিল, মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) মোল্লা জুয়ুন (রহঃ), মোল্লা আব্দুর রাহমান জামী (রহঃ), মোল্লা জালাল (রহঃ) এদের মধ্যে অন্যতম।

 

একসময় ভারত উপমহাদেশে ও মোল্লা শব্দ আলেম উলামাদের মর্যাদাপুর্ন উপাধি ছিল, বংশের পূর্বসুরী কোন মহান ব্যক্তি আলেম বা বিচারক থাকলে সে সম্ভান্ত  বংশের নাম মোল্লা হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী আন্দোলনের সময় রাজনীতি সংশ্লিষ্ট আলেমদের মুল্লা নামে ডাকা শুরু হয়, পর্যায়ক্রমে বৃটিশ দালালদের ষড়যন্ত্রে কটাক্ষমুলক শব্দে পরিনত হয়।
ইসলামের ঐতিহ্যবাহী শব্দ ও পোশাকে আঘাতহানা সাম্রাজ্যবাদীদের সুপরিকল্পিত বিষয়, এমন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ইসলামী রাষ্ট্রের চেতনাবাহী “খলিফা” শব্দ আজ যত্রতত্র ব্যবহার হয়, অনেক অঞ্চলে দরজীকে ও খলিফা বলা হয় আর পীর সাহেবদের খলিফা তো এখন পানির মত সস্তা।

 

গাগড়ি  ছিল মুসলিম উম্মাহের চেতনা, মুসলিম শাসক নবাব সিরাজুদ্দৌলা রহঃ সহ মুসলিম বাদশাহগন পাগড়ি পরিধান করতেন, ব্রটিশ দুরভিসন্ধিমূলকভাবে পাগড়িকে শাহী দারোয়ানের ইউনিফর্ম করে।

 

আলহামদুলিল্লাহ, যুগসেরা মোল্লাদের নেতৃত্বে ছাত্র ভাইদের বিজয়ের মাধ্যমে “মোল্লা-পাগড়ি”আবারও হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চলেছে। আসলেহা আর মুসলেহাতের সমন্বয়েই হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়া যেতে পারে। আল্লাহ আমাদের বাস্তবতা উপলব্ধি করার তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ