মে দিবসে স্ববেতনে ছুটি ও মজুরীর গেজেট কার্যকরের দাবীতে হোটেল শ্রমিকদের স্মারকলিপি প্রদান
- Update Time : ০২:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ থেকে :: বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিস্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি:নং বিঃ ২১২৬) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে ২৫ এপ্রিল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এতে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস সারাবিশ্বের শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্য ও সংহতি প্রকাশের দিন। দিবসটি উপলক্ষে ১ মে সারাবিশ্বের শ্রমিক শ্রেণীর পাশাপাশি বাংলাদেশেরও সর্বস্তরের সরকারীÑবেসরকারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা ছুটি ভোগ করে থাকেন।
বাংলাদেশের সর্বস্তরের সরকারীÑবেসরকারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা এই ছুটি ভোগ করলেও আমরা সুনামগঞ্জের হোটেল শ্রমিকরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছি। মে দিবসে ছুটি প্রদানের জন্য আমরা দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছি। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নিরবতা পালন করে আসছেন। মে দিবসে ছুটি প্রদানের প্রেক্ষিতে কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। এমন কি শ্রমিক সংহতি দিবস পালনেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বাঁধা নিষেধ ও অনুষ্ঠানে যোগদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকেন।
শুধু তাই নয় বাংলাদেশ শ্রম আইন-এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ২(১০) ধারায় চাকুরীচ্যূতি জনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, প্রতিবছর চাকুরীর জন্য ৪৫ দিনের গ্রাচ্যুয়েটি, ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরী প্রদান, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থাতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১১ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও হোটেল শ্রমিকদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও সুনামগঞ্জের শ্রমিকরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য হন। এছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালের পর নতুন গত ১ মার্চ ২০১৭ হোটেল সেক্টরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য নি¤œতম মজুরীর গেজেট (এসআরও নং ৩৮-আইন/২০১৭) প্রকাশ করলেও অদ্যাবধি তা কার্যকর করা হয়নি। হোটেল শ্রমিকরা দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন, যার কারণে হোটেল শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল ও হোটেল রেস্টুরেন্ট মিস্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক মোঃ লিল মিয়া অবিলম্বে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসকের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




























