মুসা অাল হাফিজ-এর ৬০টি বাণী
- Update Time : ০৩:৩৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০১৯
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবি ও গবেষক মুসা অাল হাফিজ-এর ৬০টি বাণী
১. পিতলকে মজা করেও সোনা বলো না। একসময় সোনা ও পিতলের ব্যবধান ভুলে যাবে।
২. দু’ একটি দেশলাইকাটিতে অগ্নিকাণ্ড হতে পারে। কিন্তু দু’একটি কোকিলে বসন্ত আসে না!
৩. গোলাপের সঙ্গে কাঁটার যে সম্পর্ক, বাঙালির সঙ্গে হুজুগের সেই সম্পর্ক!
৪. অনুচিত কারণে কাউকে শাস্তি দিতে যারা বাঘ হয়ে যায়, উচিত কারণে কাউকে শাস্তি দিতে তারা বেড়াল হয়ে থাকবেই
৫. বাগানের সফলতা ডালের শাখায় ফুল ফোটানোতে, সমাজ ও সংঘের সফলতা ব্যক্তি ও সদস্যের বিকাশে!
৬. মেধা হলো সারের মতো। তাকে ধরে রেখো না, ছিটিয়ে দাও, ফসল ফলবে।
৭. নির্বোধরা যখন আমার প্রশংসা করে, চিন্তায় পড়ে যাই- কোথায়, কী ভুল করলাম!
৮. আমি কাউকে সাধারণত গ্রন্থের লেখক হবার পরামর্শ দিই না, আমি পরামর্শ দিই, যেন একজন নিজেই বিচরণশীল গ্রন্থে পরিণত হয়।
৯. মানুষ সাধারণত তাকেই চায়, যার কাছ থেকে তার দূরে থাকা উচিত
১০. কথা থামাও, যেন লোকেরা বলে-উনি থেমে গেলেন কেন? কথা থামাও, যেন লোকেরা না বলে – উনি থামে না কেন?
১১. আসবাবপত্র অতিব্যবহারে জীর্ণ হয়। কিন্তু যত বেশি ব্যবহৃত হবে, ততই সবল ও চকচকে হবে হৃদয়।
১২. ছাগল নিয়মিত ঘাস খেয়ে চলছে, এতে ঘাসের দোষ নেই। কিন্তু শোষক ধারাবাহিকভাবে শোষণ করেই চলছে,এতে শোষিতের দোষ রয়েছে।
১৩. যে সমাজের কাছে মাথা নয়, পেটই গুরুত্বপূর্ণ, সে সমাজ পৃথিবীকে কেবল বর্জ্য উপহার দেবে!
১৪. হৃদয়ের ব্যবহারে সাবধান। এ নাজুক কাচপাত্র ভেঙ্গে গেলে জোড়া লাগানো মুশকিল!
১৫. যখন তুমি সম্পদ হারালে, সামান্য হারালে। যখন মেজাজ হারালে, নিজের অর্ধেক হারালে। কিন্তু যখন বিবেক হারালে, নিজের সবকিছু হারিয়ে নি:স্ব হয়ে গেলে!
১৬. নদী হও! কতো মাঠ,জনপদ, উপত্যকা,শহর, জঙ্গল দিয়ে সে চলে। কিন্তু কোথাও সে সমুদ্র নামক আপন গন্তব্যকে ভুলে যায় না!
১৭. যদি পোকা শিকার করতে চাও, দোয়েল হলেই চলবে। যদি শিকার করতে চাও হিংস্র সাপ, তোমাকে হতে হবে সমুদ্রঈগল!
১৮. স্বপ্ন হোক বিশাল। স্বপ্ন যদি হয় আকাশ ছাড়ানোর, তাহলে সম্ভবত আকাশে যাওয়া যাবে কিংবা আকাশের কাছাকাছি। স্বপ্ন যদি হয় গাছের মগডালে যাওয়া, তাহলে হয়তো থেমে যেতে হবে গাছের অর্ধেকেই!
১৯. যাদের কাছে জীবন মানে নিছক বেঁচে থাকতে পারা, তারা অচিরেই বেঁচে থাকার স্বাদ ও অধিকার হারাবে!
২০. মানুষ চায় নিজের ঘরে আগুন না লাগুক। কিন্তু যখন সে পাশের ঘরে আগুন নিভাতে যায় না, তখন সে নিজের ঘরে আগুন লাগা নিশ্চিত করে নেয়।
২১. মানুষের মনের ভেতর শিশু আর পশুর বিবাদ চলছে। শিশু যখন জয়ী হয়, মানুষ বিনয়ী হয়, পশু যখন জিতে, অহঙ্কারে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়!
২২. কাউকেই বন্ধু না বানানো ভুল। যাচাই ছাড়া বন্ধু বানানো আরো বড় ভুল।
২৩. হোচটকে ভয় পেতে নেই। হোচট না খেলে শেখা যাবে না – কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়।
২৪. অমুকের পুত্র বা আত্মীয়, এটাই যখন কারো প্রধান পরিচয়, তখন ব্যক্তিত্বহীনতাই তার প্রধান পরিচয়।
২৫. বয়সে বালেগ হলেও সবাই মানসিকভাবে বালেগ হতে পারে না। । অনেকের বয়স হয়তো ষাট বছর, কিন্তু চিন্তা ও মনের বয়স দশ বছরেও পৌছায়নি!
২৬. চিড়িয়াখানায় যাঁরা আছে, তাদেরকে তাচ্ছিল্য করো না, তাদের চেয়ে ইতর অনেকেই সমাজ-রাষ্ট্রে উচ্চাসনে বসে আছে!
২৭. যে সমাজ যুক্তি ও চিন্তাচর্চায় যত অনগ্রসর, সে সমাজ হুজুগে তত অগ্রসর!
২৮. ভালোবাসার চেয়ে ভালো বাসা যখন দামি মনে হবে, তখন তুমি নিজেই নিজের মনের জানাযা পড়ে নিয়ো।
২৯. যারা নিজেদের ঘর-সংসার ও স্ত্রী শাসনে ব্যর্থ ও ব্যথিত, সাধারণত তারা যে কোন উপায়ে বাইরের মানুষকে শাসন করে দু:খ ভুলতে চায়!
৩০. দু’টি কানের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। একটি মুখকে যা বলতে দিচ্ছেন, দু‘টি কান শুনতে দিন তার অন্তত দ্বিগুণ।
৩১. আমার একটি মাতৃভূমি আছে, যেখানে আমি জন্মেছি। আমার আরেকটি মাতৃভূমি আছে, যেখানে আমার মাতৃভূমি জন্মেছে।
৩২. যদি ব্যর্থ না হতে চান, সুঁই দিয়ে আসমান সেলাই করতে যাবেন না।
৩৩. নতুন জোতাও পুরাতন পা কে ব্যঙ্গ করতে চায়। জোতা জানে না পায়ের জন্যই তার জন্ম!
৩৪. এ দেশের মুসলমান মুর্তিপুজা করে না। তবে ব্যক্তিপুজা করে।ধর্মজ্ঞানে একসময়ের মুর্তিপুজা বাদ দিয়ে ধর্মজ্ঞানে ব্যক্তিপুজার মাধ্যমে দুধের স্বাদ ঘোল দিয়ে মেটায়। ঐ যে মাজারপুজা, সেটাও ব্যক্তিপুজার সন্তান।
৩৫. কঠিন সত্যকে যতটা ভয় পায় দূরবর্তি দুশমন, তার চেয়ে বেশি ভয় পায় নিকটবর্তী সুবিধাবাদী!
৩৬. বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঈমানের চেয়ে তাহাজ্জুদের গুরুত্ব বেশি।
৩৭. লক্ষ্যহীন পথচলা পথচলা নয়।
৩৮. উপাসনার স্থান ধ্যানের উপরে।ধ্যানের মধ্যে মন পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবনে ডুবে রয়। উপাসনায় সে আত্মলুপ্তির মধ্য দিয়ে আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।
৩৯. হতাশ হতে নেই। লড়াই যত দীর্ঘ হবে, বিজয় তত টেকসই হবে।
৪০. নামাজে সুকণ্ঠী ইমাম সাহেবের ওজু ছিলো না। মুসল্লি যখন তা জানলো, বললো, ওজু না থাক, তার তেলাওয়াত কিন্তু হৃদয় গলিয়ে দিয়েছে!
ধর্মে কৃত্রিমতার ফলাফল এমনই হয়!
৪১. একটি বলদ নিজেকে সিংহ বলে ঘোষণা করলো!
তার যুক্তি, সিংহ যদি শিং ছাড়াই সিংহ হতে পারে, তাহলে শিং থাকার পরেও সে কেন সিংহ হবে না।
শিক্ষা-সংস্কৃতির জগতে এ জাতিয় বলদের সংখ্যা প্রচুর!
৪২. স্বল্পদৃষ্টির চেয়ে পূর্ণ অন্ধত্ব কম ক্ষতিকর!
৪৩. জীবন যাপন করতে করতে টায়ার্ড হওয়াটাই মৃত্যু।
৪৪. রাজনৈতিক সচেতনতা হচ্ছে, একটি সম্ভাব্য সুযোগের জন্য একটি সুযোগকে পরিহার না করা। কৌশল হচ্ছে, একটি বড় লক্ষ্য অর্জনের পথে ছোট লক্ষ্য দ্বারা প্রতারিত না হওয়া।
৪৫. শিক্ষা আছে, সংস্কৃতি নেই, মানে কোনোটাই নেই।
৪৬. ভেতরে আত্মপরিচয়ের প্রদীপ না জ্বালালে শিক্ষা অন্ধ
৪৭. শিক্ষা শুধু শিক্ষা, সংস্কৃতি শুধু সংস্কৃতি নয়, স্বাধীনতাও!
৪৮. এক জাতি অন্য জাতির কাছে লোভনীয়।যে লোভনীয়, তাকে আত্মরক্ষায় সমর্থ হতে হয়। যে লোভনীয়, আবার আত্মরক্ষায় অসমর্থ, সে লুণ্ঠিত হবার যোগ্য। আর যে লুণ্ঠিত হবার যোগ্য, সে লুণ্ঠিত হবেই।
৪৯. জীবনহীন জন্ম নেয় আর মরে যায়, জীবন্ময় জন্ম নেয় আর জন্ম নেয়।
৫০. শাসকগণ চাইলেই কোনো জাতির মহিমাকে বিক্রি করে দিতে পারে না। যখন শাসকরা তা করে, বুঝতে হবে এই জাতি নিজেকে বাজারের সওদা বানিয়ে দিয়েছে আগেই!
৫১. দুনিয়ার মজদুররা এক হবার মিছিল করে, এক হতে পারে না। কিন্তু দুনিয়ার সব পুঁজিপতি এক।
৫২. পরগাছারা এমনই! ওরা গাছকে আশ্রয় করে বাঁচে। কিন্তু গাছকে আড়াল করে সবার সামনে জাহির করে নিজেকেই।
৫৩. হিংসার হাতের সিগারেট হতে নেই। শুরুতে যার আগুন, সমাপ্তিতে ছাই!
৫৪. যারা প্রবাসী, তারা আপন মাতৃভূমির স্বনিয়োজিত এম্বেসেডর!
৫৫. সংবিধান সব দেশেরই থাকে। সংবিধান থাকার পরও জাতি ডুবে।ডুবে না কেবল সেই জাতি, ইতিহাসের শিক্ষা হয় যাদের সংবিধানের সংবিধান।
৫৬. সে এলো। বললো, আমার কাছে উপহার আছে তিনটি।প্রেম, প্রজ্ঞা ও সুখ। এর মধ্যে কেবল একটিই নিতে পারো। বলো, কোনটি নেবে? লোকেরা সুখ নিয়ে ঘরে ফিরলো। প্রজ্ঞা নিয়ে ঘরে ফিরলো।আমি প্রেম নিয়ে যেই ঘরে ফিরতে যাবো, দেখলাম, সকলের ঘর যেন আমার ঘর!
৫৭. নিজের একাংশকে হত্যা করা চাই। এসো, হত্যা করি অবিরাম।
৫৮. মরে গেলাম, আমি তখন কী ?
চিন্তা। জীবিত হলাম, আমি এখন কী?
চিন্তা।
৫৯. ঘৃণা যখন খোদা হয়, তখনই তুমি খুন করবে।
৬০. আগে ছিলো ডিভাইড এন্ড রোল, ভাগ করো আর শাসন করো।এখন হলো ডিভাইড এন্ড কিল, ভাগ করো আর মেরে ফেলো। যেখানে, যখনই, যতবেশি আমাদের ভাগ করা হয়, সেখানে তখনই , ততবেশি আমরা হত্যার নিকটবর্তি হতে থাকি।
কিন্তু আমরা যেন এ কথার উপর ঐক্যবদ্ধ যে, আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো না।



















