১২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুমিনের বিপদে বিদ্রুপ করা, মুনাফেকদের চরিত্র : শাহ মমশাদ আহমদ

  • Update Time : ০৩:২০:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মে ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মুসলিম ভাইয়ের বিপদ দেখে আনন্দ প্রকাশ করা, বিপদের দির্ঘতা কামনা করা সত্যিকার কোন মুমিনের কাজ হতে পারেনা। এটা মুনাফেকদের চরিত্র। পবিত্র কুরআন ও সাহীহ হাদীসে মুমিনদের পারস্পরিক বিপদকালীন করণীয় সুস্পষ্টভাবে বর্ননা করা হয়েছে।

 

& পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, মুমিনরা পরস্পর ভাই। কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোনো নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাকে মন্দ নামে ডাকা গুনাহ। যারা এরূপ কাজ থেকে তওবা না করে তারা জালেম।’ (সুরা হুজুরাত :১০-১১)

 

& হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘কোনো ব্যক্তির খারাপ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে অবজ্ঞা করে।’ (সহিহ মুসলিম)

 

& আল্লাহ তায়ালা মুনাফেকদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘তোমাদের যদি কোনো মঙ্গল হয় তাহলে তাদের খারাপ লাগে। আর তোমাদের যদি অমঙ্গল হয় তাহলে তারা আনন্দিত হয়। আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো তবে তাদের প্রতারণায় তোমাদের কোনোই ক্ষতি হবে না।’ (সুরা আলে ইমরান :১২০)

 

& ‘নিশ্চিত ধ্বংস এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনাসামনি) লোকদের উপর গালাগাল করতে এবং (পিছনে) দোষ প্রচার করতে অভ্যস্ত।’ (সুরা হুমাযাহ :১-২)

 

& রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদ্বেষ পোষণ থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়েছেন। তিনি দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে অবিচার, দুর্ভাগ্য ও শত্রুর বিপদে আনন্দ করা থেকে আশ্রয় কামনা করছি।’

 

& ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দিত হয়ো না। কেননা, এতে আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করবেন এবং তোমাকে ঐ বিপদে নিমজ্জিত করবেন।’ (তিরমিজি, রিয়াদুস সলিহীন)

 

& বিপদকালীন অবস্থা উত্তরন ও মুনাফেকদের বিদ্রুপ ও ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষায় মুমিনদের করণীয় বর্ননা করে আল্লাহ বলেন। “অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল- ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে।তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য ও আমরা সবাই তার সান্নিধ্যে ফিরে যাবো। তারা সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এরাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।সুরা বাকারা-১৫৫।
আয়াতটির সার সংক্ষেপ।

 

#মানুষ যখন পাচ প্রকার দুর্ভোগে পতিত হবে

১- (বিপদাপদ ও মুনাফিকের ষড়যন্ত্রের)ভয় ২- অনাহার (ক্ষুধা) ৩-সম্পদের স্বল্পতা ৪- প্রানহানি ৫- ফসলাদি বিনষ্ট।

 

করনীয় আমলঃ-

#সবর, ধৈর্য্য ধরা।

#ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন, বেশী পড়া।

 

ফলাফল

★আল্লাহর অনুগ্রহ।
★রাহমাত।
★হেদায়াত।

হে আল্লাহ, আমাদের ধৈর্যশীলদের অর্ন্তভুক্ত করে দাও।

লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মুমিনের বিপদে বিদ্রুপ করা, মুনাফেকদের চরিত্র : শাহ মমশাদ আহমদ

Update Time : ০৩:২০:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মে ২০২১

মুসলিম ভাইয়ের বিপদ দেখে আনন্দ প্রকাশ করা, বিপদের দির্ঘতা কামনা করা সত্যিকার কোন মুমিনের কাজ হতে পারেনা। এটা মুনাফেকদের চরিত্র। পবিত্র কুরআন ও সাহীহ হাদীসে মুমিনদের পারস্পরিক বিপদকালীন করণীয় সুস্পষ্টভাবে বর্ননা করা হয়েছে।

 

& পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, মুমিনরা পরস্পর ভাই। কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোনো নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাকে মন্দ নামে ডাকা গুনাহ। যারা এরূপ কাজ থেকে তওবা না করে তারা জালেম।’ (সুরা হুজুরাত :১০-১১)

 

& হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘কোনো ব্যক্তির খারাপ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে অবজ্ঞা করে।’ (সহিহ মুসলিম)

 

& আল্লাহ তায়ালা মুনাফেকদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘তোমাদের যদি কোনো মঙ্গল হয় তাহলে তাদের খারাপ লাগে। আর তোমাদের যদি অমঙ্গল হয় তাহলে তারা আনন্দিত হয়। আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো তবে তাদের প্রতারণায় তোমাদের কোনোই ক্ষতি হবে না।’ (সুরা আলে ইমরান :১২০)

 

& ‘নিশ্চিত ধ্বংস এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনাসামনি) লোকদের উপর গালাগাল করতে এবং (পিছনে) দোষ প্রচার করতে অভ্যস্ত।’ (সুরা হুমাযাহ :১-২)

 

& রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদ্বেষ পোষণ থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়েছেন। তিনি দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে অবিচার, দুর্ভাগ্য ও শত্রুর বিপদে আনন্দ করা থেকে আশ্রয় কামনা করছি।’

 

& ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দিত হয়ো না। কেননা, এতে আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করবেন এবং তোমাকে ঐ বিপদে নিমজ্জিত করবেন।’ (তিরমিজি, রিয়াদুস সলিহীন)

 

& বিপদকালীন অবস্থা উত্তরন ও মুনাফেকদের বিদ্রুপ ও ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষায় মুমিনদের করণীয় বর্ননা করে আল্লাহ বলেন। “অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল- ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে।তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য ও আমরা সবাই তার সান্নিধ্যে ফিরে যাবো। তারা সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এরাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।সুরা বাকারা-১৫৫।
আয়াতটির সার সংক্ষেপ।

 

#মানুষ যখন পাচ প্রকার দুর্ভোগে পতিত হবে

১- (বিপদাপদ ও মুনাফিকের ষড়যন্ত্রের)ভয় ২- অনাহার (ক্ষুধা) ৩-সম্পদের স্বল্পতা ৪- প্রানহানি ৫- ফসলাদি বিনষ্ট।

 

করনীয় আমলঃ-

#সবর, ধৈর্য্য ধরা।

#ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন, বেশী পড়া।

 

ফলাফল

★আল্লাহর অনুগ্রহ।
★রাহমাত।
★হেদায়াত।

হে আল্লাহ, আমাদের ধৈর্যশীলদের অর্ন্তভুক্ত করে দাও।

লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ