মিয়ানমারের কাঁটাতার ডিঙাতে না পেরে আটকা বহু রোহিঙ্গা রোহিঙ্গাদের ধান কেটে নিচ্ছে সেনারা
- Update Time : ০২:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: রোহিঙ্গাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন বন্ধ হলেও বেড়েছে মানসিক নির্যাতনের মাত্রা। ফলে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্রোত কোনমতেই থামছে না। বাংলাদেশ অভিমুখে রয়েছে আরো ৮ থেকে ১০ হাজার রোহিঙ্গা। তবে তারা উখিয়ার পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গাতে পারেনি। গত রবিবার রাত থেকে তারা ওখানে আটকা পড়ে আছে। এদিকে, রোহিঙ্গাদের ক্ষেতের পাকা ধান কেটে নিচ্ছে মিয়ানমারের সেনারা। কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা ডা. জাফর আলম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ডা. জাফর আলম আরো বলেন, রাখাইনের সীমান্তবর্তী এলাকা চাকমাকাটা, রাইমংখালী ও প্রংচোমং এলাকায় রোহিঙ্গাদের লাগানো ধান পাকা ধরেছে। সেই পাকা ধানগুলো সেনা ও বিজিপি কেটে নিচ্ছে। বাড়ি বাড়ি থেকে পুরুষদের ধরে নিয়ে ধান কাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। যারা যেতে চান না তাদের ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেওয়া এক ধরনের কার্ড। যেসব বাড়িতে পুরুষ নেই সেখানে থাকা নারীদের সাথে অশালীন আচরণ করা হচ্ছে। মানসিক নির্যাতনের কারণে বাপ-দাদার ভিটে ছেড়ে বাংলাদেশের পথে পা বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা। এখানেও তাদের ভাগ্য মন্দ। চলতি সংকট শুরুর পর নতুন করে মেরামত করা কাঁটাতারের বেড়া কোনমতেই ডিঙ্গাতে না পেরে সেখানেই দু’দিন ধরে অবস্থান করছেন তারা। মোবাইল ফোনে তিনি এসব জেনেছেন বলে দাবি করেন। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মো. ইকবাল আহমেদ বলেন, প্রায় সময় বিচ্ছিন্নভাবে রোহিঙ্গাদের আগমন ঘটছে। আমাদের জোয়ানরা তাদের ধরে জিরো পয়েন্টে জমায়েত করে। ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনা পেলে আমরা তাদের ক্যাম্পে পৌঁছে দেই। এভাবে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার কুতুপালং ক্যাম্পে নতুন প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে আশ্রয়ে দেওয়া হয়। রবিবার সকাল থেকে খবর পাচ্ছিলাম ওপার থেকে বেশ কয়েক হাজার রোহিঙ্গার একটি দল বাংলাদেশ অভিমুখে রওনা দিয়েছে। আবার শুনলাম তারা নাকি মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়াতে আটকে পড়েছে। সোমবার এমনটি জেনেছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু একবার মানবিকতা দেখিয়েছে সেহেতু কেউ সীমান্ত অতিক্রম করলে তাকে নিয়মানুসারে ক্যাম্পে নেওয়া হচ্ছে। বিজিবি কর্মকর্তা ইকবাল আরো বলেন, যারা নতুন করে ঢুকছেন তাদের পালিয়ে আসার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। তারা খাদ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেতে সমস্যা ও তাদের ধান কেটে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।



















