০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদরাসার শিক্ষকের ওয়ারড্রপ থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার : অাটক ২

  • Update Time : ০৩:১৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক মাদরাসার শিক্ষকের কাপড় রাখার ওয়ারড্রপের কেবিনেটের ভেতর থেকে প্রধান শিক্ষকের চার বছরের শিশুপুত্র মো. আদিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা জান্নাত নুরানি হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মুফতি জোবায়ের আহমেদ বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় দুজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন মাদরাসার শিক্ষক মো. জোনায়েদ আহমেদ (৩০) ও মসজিদের মুয়াজ্জিন খায়রুল ইসলাম (২৫)। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। বুধবার রাতে উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের মরাশবাগে জান্নাত নুরানি হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার সহকারী শিক্ষক মো. জোনায়েদ আহমেদের কেবিনেটের ভেতর থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

গ্রেফতার জোনায়েদ আহমেদ হবিগঞ্জের মৃত ওয়াহব আলীর ছেলে ও খাইরুল ইসলাম একই এলাকার জফু মিয়ার ছেলে। নিহত আদিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি জোবায়ের আহমেদের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ধলাসিয়া এলাকায়।

 

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি জোবায়ের আহমেদ বলেন, চারদিন আগে মাদরাসার মসজিদের মুয়াজ্জিন খায়রুল ইসলামের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে মাদরাসা শিক্ষক জোনায়েদ আহমেদকে সন্দেহ করা হয়। এ ব্যাপারে মুয়াজ্জিন খায়রুল আমার কাছে জোনায়েদের বিরুদ্ধে নালিশ করেন। এ নিয়ে জোনায়েদকে শাসন করা হয়। এরই মধ্যে বুধবার বিকেলে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি জোবায়ের আহমেদের শিশুপুত্র আদিল মাদরাসার পাশেই মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। কোথায়ও না পেয়ে মসজিদের মাইকে ছেলে হারানোর মাইকিং করা হয়। এ সময় শিক্ষক জোনায়েদ ও মুয়াজ্জিন খায়রুলের আচরণ ও ভূমিকা রহস্যজনক মনে হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

 

একপর্যায়ে এলাকাবাসী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার কথা স্বীকার করেন জোনায়েদ। পরে চাবি নিয়ে মাদরাসার সহকারী শিক্ষক জোনায়েদ আহমেদের কক্ষে থাকা ওয়ারড্রপের কেবিনেট থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি একেএম মিজানুল হক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই শিক্ষক জোনায়েদ আহমেদ ও ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. খাইরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

 

কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত এসপি পঙ্কজ দত্ত বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত রয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, মূলত লাঞ্ছিতের প্রতিশোধ নিতেই মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের শিশুপুত্রকে গলা টিপে হত্যা করে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন জোনায়েদ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মাদরাসার শিক্ষকের ওয়ারড্রপ থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার : অাটক ২

Update Time : ০৩:১৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি ২০২০

ডেস্ক রিপোর্ট :: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক মাদরাসার শিক্ষকের কাপড় রাখার ওয়ারড্রপের কেবিনেটের ভেতর থেকে প্রধান শিক্ষকের চার বছরের শিশুপুত্র মো. আদিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা জান্নাত নুরানি হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মুফতি জোবায়ের আহমেদ বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় দুজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন মাদরাসার শিক্ষক মো. জোনায়েদ আহমেদ (৩০) ও মসজিদের মুয়াজ্জিন খায়রুল ইসলাম (২৫)। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। বুধবার রাতে উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের মরাশবাগে জান্নাত নুরানি হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার সহকারী শিক্ষক মো. জোনায়েদ আহমেদের কেবিনেটের ভেতর থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

গ্রেফতার জোনায়েদ আহমেদ হবিগঞ্জের মৃত ওয়াহব আলীর ছেলে ও খাইরুল ইসলাম একই এলাকার জফু মিয়ার ছেলে। নিহত আদিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি জোবায়ের আহমেদের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ধলাসিয়া এলাকায়।

 

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি জোবায়ের আহমেদ বলেন, চারদিন আগে মাদরাসার মসজিদের মুয়াজ্জিন খায়রুল ইসলামের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে মাদরাসা শিক্ষক জোনায়েদ আহমেদকে সন্দেহ করা হয়। এ ব্যাপারে মুয়াজ্জিন খায়রুল আমার কাছে জোনায়েদের বিরুদ্ধে নালিশ করেন। এ নিয়ে জোনায়েদকে শাসন করা হয়। এরই মধ্যে বুধবার বিকেলে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি জোবায়ের আহমেদের শিশুপুত্র আদিল মাদরাসার পাশেই মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। কোথায়ও না পেয়ে মসজিদের মাইকে ছেলে হারানোর মাইকিং করা হয়। এ সময় শিক্ষক জোনায়েদ ও মুয়াজ্জিন খায়রুলের আচরণ ও ভূমিকা রহস্যজনক মনে হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

 

একপর্যায়ে এলাকাবাসী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার কথা স্বীকার করেন জোনায়েদ। পরে চাবি নিয়ে মাদরাসার সহকারী শিক্ষক জোনায়েদ আহমেদের কক্ষে থাকা ওয়ারড্রপের কেবিনেট থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি একেএম মিজানুল হক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই শিক্ষক জোনায়েদ আহমেদ ও ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. খাইরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

 

কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত এসপি পঙ্কজ দত্ত বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত রয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, মূলত লাঞ্ছিতের প্রতিশোধ নিতেই মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের শিশুপুত্রকে গলা টিপে হত্যা করে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন জোনায়েদ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ