মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ
- Update Time : ০৪:১৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: বিজয়ের পঞ্চাশতম বার্ষিকী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ। একসঙ্গে হাজির হয়েছে এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণ। শূন্য থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ আজ পূর্ণতার পথে। দারিদ্র্যপীড়িত দেশের কাতারে থাকা বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন, অর্থনীতিতে ঈর্ষণীয় সাফল্য এসেছে ৫০ বছরে। নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য এক নজির সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। শিক্ষা, যোগাযোগ অবকাঠামোতেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। রাজনীতি, সুশাসন আর বৈষম্যের ঘাটতি বাদ দিলে পঞ্চাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে অনন্য এক উচ্চতায়। অর্জন, সমৃদ্ধির নানা উপাখ্যান আর প্রত্যাশার বিশাল ফর্দ সামনে রেখে আজ বিজয়ের পঞ্চাশতম বার্ষিকী পালন করছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানমালার সমাপনী হচ্ছে আজ। এই দুই উপলক্ষকে ঘিরে উৎসবমুখর পুরো দেশ। আজ আনন্দে উদ্বেলিত হওয়ার দিন। মহান বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। পঞ্চাশের অর্জনের উপর দাঁড়িয়ে আগামীর প্রত্যাশা পূরণের বজ্রমুষ্টি শপথ নেয়ার দিন। বৈষম্যের প্রাচীর মুছে দিয়ে সাম্যের দেশ গড়ার প্রত্যয়ে জেগে উঠার দিন। পাকিস্তানি শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপিত হয়েছে গত মার্চে। আজ বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী। এই দিনে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। বিজয়ের পঞ্চাশ বছরে কেমন দেশ পেয়েছি আমরা? প্রত্যাশাই বা কি ছিল? এমন প্রশ্নে বিভিন্ন খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ের অনেক অর্জন ঈর্ষণীয়। তলাবিহীন ঝুড়ির খ্যাতি পাওয়া এক সময়ের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। গতিশীল অর্থনীতি রোল মডেল হয়ে উঠেছে অন্য অনেক দেশের জন্য। যেই পাকিস্তানের শোষণ যন্ত্রণা থেকে বেরিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ সেই পাকিস্তান এখন বাংলাদেশকে অনুসরণের কথা বলছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্বকীয়তার পরিচয় দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিশ্ব নেতৃত্বের চওড়া নজরে। এতসব অর্জনের বিপরীতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামীর বাংলাদেশ সম্ভাবনার এক বড় ক্ষেত্র। সময় আর সুযোগ কাজে লাগালে সামনের বাংলাদেশ হয়ে উঠবে আরও অনন্য। সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্রটি এই দেশের তরুণ প্রজন্ম। তাদের সুশিক্ষা আর খাতভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিলে স্বাধীনতার আসল সাফল্যটি তাদের হাত দিয়ে ধরা দেবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পঞ্চাশ বছরে দেশের অর্থনীতি, জীবনমানের যেভাবে অগ্রগতি হয়েছে রাজনীতি ততোটা মসৃণভাবে এগোয়নি। বার বার হোঁচট খাওয়া গণতন্ত্র এখনো পূর্ণ রূপ পায়নি। রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতার কাঙ্ক্ষিত অর্জন এখনো আসেনি। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা তৈরি হয়নি ৫০ বছরেও। একইসঙ্গে যেভাবে জীবনমানের উন্নতি হয়েছে ঠিক একইভাবে বেড়েছে ধনী-গরিবের বৈষম্য। মাথাপিছু আয় বাড়লেও এখনো একটি শ্রেণির মানুষের জীবন-জীবিকার বৈষম্য ঘুচেনি। দেশের তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশের কর্মসংস্থান নেই। এই অবস্থায় সামনে বৈষম্য দূরীকরণ ও ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈষম্য নিরসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের নেয়া অনেক পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য আশাপ্রদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সরকারের নেয়া সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, কর্মসংস্থানমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ দৃঢ়তার সঙ্গে বাস্তবায়িত করা হলে সামনের চ্যালেঞ্জ উতরানো সহজতর হবে। বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে এমন এক সময়ে যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। টানা তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তার দৃঢ় নেতৃত্বে সুবর্ণ সময় পার করছে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ প্রতিপাদ্যে আজ থেকে দুই দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এ আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানমালার ১ম দিন আজ শুরু হবে বিকাল সাড়ে ৪টায় এবং অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিচালনায় থাকবে সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। শপথ গ্রহণ শেষে আলোচনা পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। সম্মানীয় অতিথির বক্তব্য রাখবেন ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা সম্মানীয় অতিথিকে ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধাস্মারক প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। জাতীয় পর্যায়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরস্থ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমভিত্তিক যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীও এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এবারের কুচকাওয়াজে চারটি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরাও বিজয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। আজ সরকারি ছুটির দিন। বিজয় দিবস উপলক্ষে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত হবে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিনটি উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ নানা ইভেন্ট। বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলোতেও নানা আয়োজনে পালিত হবে বিজয় দিবসের কর্মসূচি। সুত্র: মানবজমিন





























