মাওলানা আজহারীকে সিলেটে নিষিদ্ধ: কওমী ও আলীয়া পন্থী আলেমদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য
- Update Time : ০৪:০১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা :: দেখতে খুবই সুদর্শন। বয়ানে মুগ্ধ হয়ে যান লাখো শ্রোতা। ইসলামী বিষয়ে বাকপটু হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের তরুণ সমাজের কাছে এই সময়ে হার্টথ্রুব বক্তা তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে ও মালয়েশিয়া থেকে পিএইচডি দিয়ে দেশে এসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন তিনি।
বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে ইংরেজি, বাংলা, আরবিতে কথা বলে ইতোমধ্যে সহজ সরল বাঙ্গালিদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন এই ইসলামী বক্তা। আবার ইসলাম বিষয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য তিনি দূর্নাম কুঁড়াচ্ছেন আলেম-উলামাদের কাছে। ফলে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বাড়তি নিরাপত্তা থাকে এই ইসলামী বক্তার অনুষ্ঠানে। নিন্দিত এবং নন্দিত এই আলোচিত ইসলামী বক্তার নাম ড. মাওলানা আযহারী। বর্তমানে সিলেটে এই মাওলানার আগমন উপলক্ষে সিলেট জোড়ে তোলপার সৃষ্টি হয়েছে।
আলোচনা-সমালোচনার মুখে মাওলানা আজহারীকে সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো প্রশাসন। কওমী ও আলীয়া পন্থী আলেম উলামাদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য, বিবৃতির পর এই সিদ্বান্ত গ্রহণ করে সিলেটের প্রশাসন।
‘হযরত আলী (রা.) মদ খেয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিবি খাদিজা (রা.) তালাকপ্রাপ্ত। নবী (স.) এর শরীর ৬ প্যাক ছিল’-মাওলানা আযহারীর এধরণের বিতর্কিত ওয়াজ আলেম সমাজে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বুধবার সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিলেটের ৩ উপজেলার আলেম, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের সাথে এক বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্বান্ত অনুযায়ী সিলেটে আহুত ওয়াজ মাহফিলে বির্তকিত ইসলামী বক্তা ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীকে বক্তব্য প্রদানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়।
এদিকে, এই ঘটনার জের ধরে সিলেটে এখনও আলীয়া ও কওমীপন্থী মাওলানাদের মধ্যে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য প্রদান অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ঝড় উঠেছে সমালোচনায়। কেউ কেউ আজহারীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করাটাকে ইসলামের উপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সরব হয়ে উঠেছে সিলেট। আবার আজহারীকে বিতর্কিত ইসলামী বক্তা হিসেবে উল্লেখ করে একটি পক্ষ প্রশাসনের হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
কওমীপন্থী আলেমরা বলছেন- ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধী দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষে কথা বলেছেন। তাকে বিশ্বনন্দিত মুফাস্সির উল্লেখ করে তার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। একজন আলেম ইসলামের পক্ষে কথা বলবেন, সাধারণ মানুষকে কীভাবে ইসলামের নিয়ম নীতি পালন করতে হবে তা শিক্ষা দিবেন। কিন্তু তিনি একজন মানবতাবিরোধী অপরাধীকে নিয়ে কথা বলবেন কেন? এমন প্রশ্ন স্বাধীনতা স্বপক্ষের আলেমগণেরও।
কওমীপন্থীরা বলেন, ড. মিজানুর রহমান আজহারী কথা বলার মধ্যে শালীনতা নেই। তিনি আমাদের প্রিয় বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর স্ত্রী মা খাদেজাকে নিয়ে নানা প্রকার অশালীন কথা বলেছেন। যা হাজার হাজার মুসলমানদের কলিজায় আঘাত করেছে। একজন আলেম হয়ে তিনি কীভাবে মা খাদেজাকে নিয়ে অশালীন কথা বললেন?
আগামী ২০ জানুয়ারি সিলেট কানাইঘাটের মুকিগঞ্জ বাজার জামেয়া মাঠে অনুষ্ঠিতব্য তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে আসার কথা ছিল তার। তবে আজাহারির আগমনের সংবাদ নিয়ে ইতোমধ্যে কানাইঘাটে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। মাহফিলের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন উপজেলার আলিয়া ও কওমিপন্থী আলেম-ওলামা এবং দু’পক্ষের সমর্থকরা।
ওই দিন দরবস্তের হাজারী সেনাগ্রাম মাঠে ও সিলেটের ওসমানীনগরসহ ৩টি মাহফিলে তার বয়ান রাখার কথা ছিল। আজহারি সিলেটে আসছেন এমন খবরে গত দুই দিন থেকে কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তাকে প্রতিহতের ডাকও দিয়েছিলেন কানাইঘাট ও জৈন্তাপুরের মানুষ।
এদিকে বুধবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, মাওলানা আযহারীকে সিলেটে ভবিষ্যতে কোনো ওয়াজ মাহফিলে ডাকা হলে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে প্রথমে। কেবল প্রশাসন অনুমতি দিলেই তিনি সিলেটে ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করতে পারবেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আলীম উদ্দিন দৌলতপুরি, হরিপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হিলাল আহমদ, হেম দারুল উলুম মাদ্রাশার মুহতামিম মাওলানা জিল্লুর রহমান, দরবস্ত মাদ্রাশার মুহতামিম মাওলানা আবু হানিফ, জৈন্তাপুর লাম্নিগ্রাম মাদ্রাশার মুহতামিম আব্দুল জব্বার, হরিপুর মাদ্রাশার শায়খুল হাদিছ মাওলানা নজরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আলা উদ্দিন, যুগ্ন সম্পাদক ফয়েজ আহমদ বাবর, উপদপ্তর সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ, কানাইঘাট উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সাকের, কানাইঘাট আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, চতুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, ব্যবসায়ী ফারুক আহমদ। এছাড়া জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।





























