মরহুম সাহসী আলেমদের যে স্মৃতি আজও কাদায় : শাহ মমশাদ আহমদ
- Update Time : ০৪:৪৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুলাই ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
-দুঃসাহসিকতার যে স্মৃতি আজও প্রেরণার।
★জিয়াউর রহমান সরকারের আমল, ডি সি কার্যালয় মিলনায়তন, সিলেট স্টেডিয়ামে চল্লিশ দিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে অশ্লীল গানবাজনার ব্যাপারে শহরের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আলেম-উলামার সাথে চলছে মতবিনিময় সভা। সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক সুচনা বক্তব্যে বললেন, সচিবালয় থেকে যে কোন মুল্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্টান সফলের নির্দেশ এসেছে, কিভাবে সুন্দর করা যায়? আপনাদের পরামর্শ চাই।
পিনপতন নিরবতা, কেউ কোন কথা বলছেন না, সবাইকে অবাক করে ঠগবগে এক যুবক আলেম দাড়িয়ে গেলেন,
হুংকার ছেড়ে ঘোষণা করলেন, মাননীয় ডি সি মহোদয়,
আপনার কাছে সচিবালয় থেকে নির্দেশ এসেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার আর আমাদের কাছে আসমান থেকে নির্দেশ এসেছে তা বন্ধ করার। হুংকার দিয়েই সভাস্থল ত্যাগ করলেন, সাথে সাথে শহরের আলেম উলামা ও বের হয়ে আসলেন। তীব্র আন্দোলনের ডাক দিলেন, অশ্লীল অনুষ্ঠান বন্ধ করতে প্রশাসন বাধ্য হল।
সেই যুবকটি ছিলেন, তৎকালীন কাজির বাজার পেয়াজ হাঠা মসজিদের ইমাম, সদ্য প্রতিষ্ঠিত জামেয়া মাদানিয়ার প্রিন্সিপাল মুজাহিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা হাবীবুর রহমান (রহঃ)
★২০০৮ সাল, তত্বাবধায়ক সরকারের সময়,
কারান্তরিন প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমান রহঃ।
গ্রেফতার হওয়ার চারদিন হয়ে গেছে আমাদের কারো দেখা করার সুযোগ মিলেনি। শুক্রবার দিন ছিল, খবর পেলাম হযরত শায়খে কাতিয়া রহ; জেল গেইটে আছেন,
গিয়ে দেখলাম হযরত শায়খে কাতিয়া রহঃ ও হযরত মাওলানা আব্দুশ শহীদ শায়খে গলমুকাপনি রহঃ জেল গেটে দুটি চেয়ারে বসা। সহকারী জেল সুপার বলছেন,
হুজুর, জেলা প্রশাসকের নির্দেশ ছাড়া দেখার
সুযোগ নেই। কাতিয়ার হুজুরের এককথা, আমার ভাই হাবীবুর রহমানকে দেখতে এসেছি, কিভাবে দেখার ব্যবস্থা করবেন, আমি জানিনা। প্রয়োজনে জুমার নামাজ এখানে পড়ব। আলহামদুলিল্লাহ, অর্ধ ঘন্টার ভিতরে দেখার সুযোগ করে দেয়া হল।
★১৯৯৪ সাল, নাস্তিক মুর্তাদ বিরুধী আন্দোলনের সুচনায় আমরা তখন কারাগারে হযরত মাওলানা শায়খুল হাদীস ওবায়দুল হক রহঃ তখন সংসদ সদস্য, কোর্ট পয়েন্টে
আমাদের মুক্তির দাবীতে একটি সমাবেশ, স্বল্পসময়ের আয়োজন লোক জমায়েত কম হবে, এতে এম পি সাহেব রহঃ এর উপস্তিতি বেমানান ছিল, সকলেই হুজুরকে অনুরোধ করলেন, আজকের প্রোগ্রামে আপনি না আসাই ভালো হবে। কিন্তু সকলকে অবাক করে হুজুর সমাবেশে
উপস্তিত হয়ে গেলেন। বক্তব্যে বললেন, আমার ছেলেরা কারাগারে, তাদের মুক্তির দাবীতে সমাবেশ যতই ক্ষুদ্র হোক, আমার বিবেক আমাকে ঘরে বসতে দেইনি, আমি উপস্তিত হয়ে গেলাম, আমাকে আল্লাহর কাছে এম পি হিসেবে নয়, একজন ওবায়দুল হক হিসেবে জবাব দিতে হবে।
★উস্তাদে মুহতারাম শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা নেজাম উদ্দিন রহ, প্রিন্সিপাল রহ এর আন্দোলন সংগ্রামের দক্ষিণ হস্ত। তাসলিমা বিরুধী আন্দোলনে আমাদের কারাগারে থাকাকালীন দুর্বার মুক্তি আন্দোলনের দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে, কারণ প্রিন্সিপাল রহ আত্নগোপনে ছিলেন।
এক মাস সাতদিন কারাগারে ছিলাম হুজুর একদিন ও আমাদের দেখতে যাননি, কারাগার থেকে বের হয়ে আমারা দুঃখ প্রকাশ করলাম, হুজুর একদিন ও দেখতে গেলেন না? আনন্দাশ্রু ফেলে আমাকে জড়িয়ে হুজুর বললেন,শপথ নিয়েছিলাম, তোমাদের বন্দি অবস্থায় দেখবনা, মুক্তি করে দেখব। আরেক শপথ করেছিলাম, তোমাদের মুক্ত না করে বাড়িতে যাবনা। তোমারা কারাগারে যাবার পর একদিন ও রাতে ঘুমাতে পারিনি, ছাত্রদের কারাগারে রেখে কিভাবে ঘুমাতে পারি? বিবেক বাধা দিত। আলেম উলামার দুর্দিনে এমন সাহসী, দরদী আলেমদের খুব প্রয়োজন। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এমনি দরদী আলেম তৈরি করে দাও।
মরহুমদের জান্নাতের উঁচু মাকাম দান কর। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।



















