মক্কা থেকে কাবুল- পই পই “ক্ষমা” মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য : শাহ মমশাদ আহমদ
- Update Time : ০৪:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
উত্তম চরিত্রের অন্যতম গুন ‘ক্ষমা’। এটা নবুওতি স্বভাব, প্রকৃত মুসলমানদের বৈশিষ্ট। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অন্যতম একটি গুণ হলো ক্ষমাশীলতা। আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন আয়াতে ‘ক্ষমা’ গুণটির কথা বর্ণনা করেছেন। ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ একথাটি কুরআনে বারবার এসেছে। আল্লাহ তায়ালা নিজের গুণ ক্ষমার উল্লেখের সঙ্গে সঙ্গে নবীজিকে (সা.) এই গুণের আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন ‘আপনি ক্ষমা করতে থাকুন আর ভালো ভালো কাজের আদেশ দিতে থাকুন। আর মূর্খদের এড়িয়ে চলুন’ (সূরা আরাফ)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সর্বাধিক ক্ষমাশীল ব্যক্তি। তিনি তার শত্রুদেরও ক্ষমা করে দিতেন। নির্মম আঘাত দেয়ার পরও তিনি তায়েফবাসীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।
এছাড়া যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বিজয়ীর বেশে মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখনও তিনি মক্কার শত্রুদের ক্ষমা করে দিলেন। যারা রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে বছরের পর বছর; সাহাবাদের নির্যাতন করেছে, অনেককে হত্যা করেছে। তিনি সবাইকে মাফ করে দিলেন। প্রিয় নবী সঃ হযরত হিন্দাকেও ক্ষমা করে দিলেন। যিনি তার চাচা হজরত হামজাকে (রা.)মর্মান্তিকভাবে হত্যা করেছিলেন।
ইসলাম মানুষকে পই পই হিসাব করে প্রতিশোধ নয়, পই পই ক্ষমা করা শিক্ষা দেয়। মুসলমানগণ মক্কা বিজয় থেকে নিয়ে অদ্যাবধি এধারা অব্যাহত রেখেছেন, ছাত্র ভাইয়েরা কাবুল বিজয় করে প্রতিশোধ নেয়ার সামর্থ থাকা সত্বেও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে মুসলমানদের সে ঐতিহ্যের মহৎ গুনের ধারাবাহিকতাকে শানিত করেছেন।
প্রতিশোধ নেয়া মানে সংকীর্ণতা,ক্ষমা করা মানেই উদারতা, প্রতিশোধ মানেই ক্ষত ও আঘাত বৃদ্ধি করা, যা মাছিরগুণ, অপর দিকে ক্ষমা মানেই মিষ্টি খুঁজা, তিক্ততা এড়িয়ে চলা, যা মৌমাছির গুণ। একজন মুমিন মানে উদার মানসিকতার একটি মৌমাছি, যে মিষ্টতা আর ক্ষমা খুঁজে, মাছির মত ক্ষত বা প্রতিশোধ নয়। আল্লাহ আমাদের প্রকৃত মুমিনের স্বভাব লালন করার তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।



















