০১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রিটেনে ইউরোপের বাসিন্দাদের বের করে দেওয়ার নানা কৌশল

  • Update Time : ০৪:২৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ মে ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

 

লন্ডন থেকে বিশেষ প্রতিনিধি :: ব্রিটেনে অবস্থানরত ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিকদের স্থায়ী হওয়ার আবেদন করতে নিরুৎসাহিত করছে হোম অফিস। হোম অফিসের পাঠানো ইমেইলে এমন বার্তা নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, ব্রেক্সিটকে সামনে রেখে ব্রিটিশ সরকার ইইউ নাগরিকদের সাথে যে শত্রুভাবাপন্ন আচরণ শুরু করেছে, এমন বার্তাই তার প্রমাণ।  ইইউভুক্ত বাকী ২৭ দেশের প্রায় ৩৩ লাখ নাগরিক বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। এর বিপরীতে প্রায় ১২ লাখ ব্রিটিশ নাগরিক ইইউভুক্ত বাকী ২৭ দেশে বসবাস করছে। গত বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত গণভোটে যুক্তরাজ্যের মানুষ ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিলে ইইউ নাগরিকদের ব্রিটেনে অবস্থানের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। সেই থেকে ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের জন্য ইইউ নাগরিকদের আবেদনের হিড়িক পড়ে। হোম অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মোট ৯২ হাজার ইইউ নাগরিক ব্রিটেনে স্থায়ী হওয়ার আবেদন করেছেন। চলতি বছর এই আবেদনের হার আরও বেশি। বিশেষ করে গত ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানোর পর থেকে ইইউ নাগরিকদের স্থায়ী হওয়ার আবেদন আরও বেশি বেড়ে যায়।
হোম অফিসের ওয়েবসাইটে ইইউ নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়ে আর্টিকেল ফিফটি সক্রিয় করার প্রেক্ষিতে ইইউ নাগরিকদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়মেই ব্রিটেনে বসবাস করতে পারবেন। আর কেউ যদি পরিচয়পত্র তৈরির লক্ষ্যে স্থায়ী হওয়ার আবেদন করতে চান, সেটিও করার দরকার নেই। কারণ ইইউ নাগরিকদের ব্রিটেনে থাকার জন্য আলাদা কোনো পরিচয়পত্রের দরকার নেই। তাদের নিজ দেশের পরিচয়পত্রেই তারা এখানে বসবাস করতে পারবেন। ফলে তাদের ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের কোনো প্রয়োজন নেই।  এরপর হোম অফিসের ওয়েবসাইটে একটি ইমেইল এলার্টের লিঙ্ক দিয়ে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিটের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন ইইউ নাগরিকরা যাত ওই ইমেইল লিঙ্কয়ে গিয়ে হোম অফিসের এলার্ট সাবসক্রাইব করেন। ইইউ নাগরিকদের কাছে ওই ইমেইলে পাঠানো বার্তায় হোম অফিস বলেছে, ইইউ নাগরিকদের ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা দরকার নেই। ব্রেক্সিট ভোটের পর থেকেই ব্রিটেনে বসবাসরত ইইউ নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়ার আহবান জানানো হয়। একইসাথে ইইউর বাকী ২৭টি দেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদেরও একই সুযোগ দেয়ার দাবি উঠে।
ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল বলছে, ব্রেক্সিট সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে ইইউ নাগরিকদের ভাগ্য। তবে বিরোধী দল লেবার পার্টিসহ অন্যান্য দলগুলো বলছে, ইইউ নাগরিকদের ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাস এবং অন্যান্য ইইউ দেশে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন ঘটুক এটা তারা চান না। এ বিষয়টিকে তারা ব্রেক্সিটের রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের মধ্যে না রেখে তাদের স্ব স্ব অবস্থানে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেবে। যুক্তরাজ্যে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকরা টানা পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করলে তারা স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু সম্প্রতি হোম অফিস ইইউ নাগরিকদের এমন কিছু আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে, যারা ১০ বছরের ওপরে ব্রিটেনে বসবাস করছেন এবং এ দেশেই তাদের পরিবার ও সন্তান রয়েছে। এসব আবেদন প্রত্যাখান করার ক্ষেত্রে হোম অফিস অনেকটা অপরিচিত একটি আইনের আশ্রয় নিয়েছে। ওই আইনে বলা হয়েছে, ইইউ নাগরিকরা ব্রিটেনে বসবাস করতে গেলে তাদের একটি হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকতে হয়। কিন্তু এনএইচএস কিংবা ব্রিটেনে স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে ইইউ নাগরিকরা এ আইনের ফলে কোনো বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে কোনো নজির নেই। যে কারণে ইইউ নাগরিকরাও এ ইন্স্যুরেন্স করে ব্রিটেনে আসেন না।  এখন ওই আইন না মানার কারণে স্থায়ী হওয়ার আবেদন নাকচ করায় হোম অফিসকে তীব্র সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, ব্রেক্সিটকে সামনে রেখে হোম অফিস ইইউ নাগরিকদের সাথে শত্রুতামূলক আচরণ করছে। তারা বলছেন, হোম অফিসের এমন আচরণ প্রমাণ করে ব্রেক্সিট কার্যকরের পর ব্রিটিশ সরকার ইইউ নাগরিকদের ব্রিটেনে রাখতে আগ্রহী নয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ব্রিটেনে ইউরোপের বাসিন্দাদের বের করে দেওয়ার নানা কৌশল

Update Time : ০৪:২৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ মে ২০১৭

 

লন্ডন থেকে বিশেষ প্রতিনিধি :: ব্রিটেনে অবস্থানরত ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিকদের স্থায়ী হওয়ার আবেদন করতে নিরুৎসাহিত করছে হোম অফিস। হোম অফিসের পাঠানো ইমেইলে এমন বার্তা নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, ব্রেক্সিটকে সামনে রেখে ব্রিটিশ সরকার ইইউ নাগরিকদের সাথে যে শত্রুভাবাপন্ন আচরণ শুরু করেছে, এমন বার্তাই তার প্রমাণ।  ইইউভুক্ত বাকী ২৭ দেশের প্রায় ৩৩ লাখ নাগরিক বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। এর বিপরীতে প্রায় ১২ লাখ ব্রিটিশ নাগরিক ইইউভুক্ত বাকী ২৭ দেশে বসবাস করছে। গত বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত গণভোটে যুক্তরাজ্যের মানুষ ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিলে ইইউ নাগরিকদের ব্রিটেনে অবস্থানের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। সেই থেকে ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের জন্য ইইউ নাগরিকদের আবেদনের হিড়িক পড়ে। হোম অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মোট ৯২ হাজার ইইউ নাগরিক ব্রিটেনে স্থায়ী হওয়ার আবেদন করেছেন। চলতি বছর এই আবেদনের হার আরও বেশি। বিশেষ করে গত ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানোর পর থেকে ইইউ নাগরিকদের স্থায়ী হওয়ার আবেদন আরও বেশি বেড়ে যায়।
হোম অফিসের ওয়েবসাইটে ইইউ নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়ে আর্টিকেল ফিফটি সক্রিয় করার প্রেক্ষিতে ইইউ নাগরিকদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়মেই ব্রিটেনে বসবাস করতে পারবেন। আর কেউ যদি পরিচয়পত্র তৈরির লক্ষ্যে স্থায়ী হওয়ার আবেদন করতে চান, সেটিও করার দরকার নেই। কারণ ইইউ নাগরিকদের ব্রিটেনে থাকার জন্য আলাদা কোনো পরিচয়পত্রের দরকার নেই। তাদের নিজ দেশের পরিচয়পত্রেই তারা এখানে বসবাস করতে পারবেন। ফলে তাদের ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের কোনো প্রয়োজন নেই।  এরপর হোম অফিসের ওয়েবসাইটে একটি ইমেইল এলার্টের লিঙ্ক দিয়ে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিটের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন ইইউ নাগরিকরা যাত ওই ইমেইল লিঙ্কয়ে গিয়ে হোম অফিসের এলার্ট সাবসক্রাইব করেন। ইইউ নাগরিকদের কাছে ওই ইমেইলে পাঠানো বার্তায় হোম অফিস বলেছে, ইইউ নাগরিকদের ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা দরকার নেই। ব্রেক্সিট ভোটের পর থেকেই ব্রিটেনে বসবাসরত ইইউ নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়ার আহবান জানানো হয়। একইসাথে ইইউর বাকী ২৭টি দেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদেরও একই সুযোগ দেয়ার দাবি উঠে।
ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল বলছে, ব্রেক্সিট সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে ইইউ নাগরিকদের ভাগ্য। তবে বিরোধী দল লেবার পার্টিসহ অন্যান্য দলগুলো বলছে, ইইউ নাগরিকদের ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাস এবং অন্যান্য ইইউ দেশে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন ঘটুক এটা তারা চান না। এ বিষয়টিকে তারা ব্রেক্সিটের রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের মধ্যে না রেখে তাদের স্ব স্ব অবস্থানে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেবে। যুক্তরাজ্যে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকরা টানা পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করলে তারা স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু সম্প্রতি হোম অফিস ইইউ নাগরিকদের এমন কিছু আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে, যারা ১০ বছরের ওপরে ব্রিটেনে বসবাস করছেন এবং এ দেশেই তাদের পরিবার ও সন্তান রয়েছে। এসব আবেদন প্রত্যাখান করার ক্ষেত্রে হোম অফিস অনেকটা অপরিচিত একটি আইনের আশ্রয় নিয়েছে। ওই আইনে বলা হয়েছে, ইইউ নাগরিকরা ব্রিটেনে বসবাস করতে গেলে তাদের একটি হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকতে হয়। কিন্তু এনএইচএস কিংবা ব্রিটেনে স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে ইইউ নাগরিকরা এ আইনের ফলে কোনো বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে কোনো নজির নেই। যে কারণে ইইউ নাগরিকরাও এ ইন্স্যুরেন্স করে ব্রিটেনে আসেন না।  এখন ওই আইন না মানার কারণে স্থায়ী হওয়ার আবেদন নাকচ করায় হোম অফিসকে তীব্র সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, ব্রেক্সিটকে সামনে রেখে হোম অফিস ইইউ নাগরিকদের সাথে শত্রুতামূলক আচরণ করছে। তারা বলছেন, হোম অফিসের এমন আচরণ প্রমাণ করে ব্রেক্সিট কার্যকরের পর ব্রিটিশ সরকার ইইউ নাগরিকদের ব্রিটেনে রাখতে আগ্রহী নয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ