১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যবসায়িরা বিপাকে- ছাতকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ না নেয়ায় কয়েনে ভরে গেছে বাজার

  • Update Time : ০২:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

চান মিয়া, ছাতক থেকে :: সুনামগঞ্জের ছাতকে ব্যবসায়িদের ক্যাশে বস্তা ভর্তি কয়েন জমা পড়েছে। এক, দুই ও পাঁচ টাকার কয়েক লক্ষাধিক টাকার কয়েন জমা পড়ায় ব্যবসায়িরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ছাতক, গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজারের একাধিক ব্যবসায়িদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে ১, ২ ও ৫টাকার কয়েক লক্ষাধিক টাকার কয়েন তাদের ক্যাশে জমা পড়েছে। ক্যাশ ভর্তি হয়ে এখন এখন এগুলো বস্তাজাত করে রেখেছেন। উপজেলার পূবালী ব্যাং, জনতা ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংকসহ উপজেলার ছাতক পৌর শহর, গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট ও বাজারে, জাউয়াবাজারে অবস্থিত এসব কোন ব্যাংকে কয়েনগুলো নিচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়িদের তীলে তীলে জমা পড়া কয়েন এখন বস্তাজাতে পরিণত হয়েছে। এগুলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক না নেয়ায় ব্যবসায়িরা প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ব্যবসায়িরা তাদের ব্যবসার মূল ধনও এখন হারাতে বসেছেন। ব্যবসা ক্ষেত্রে অনেকটাই হুমকির সম্মুখিন হতে হচ্ছে এসব ব্যবসায়িদের। গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত দেশ বন্ধু বেকারির পরিচালক নাজমুল হোসেন বাচ্ছু বলেন, প্রতিদিন তার ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠানে এসব কয়েন জমা হয় প্রায় ৫হাজার। গ্রাম্য দোকানগুলোতে বিস্কুটজাতীয় মালামাল বিক্রির পর সেইসব ব্যবসায়িরা অন্যান্য টাকার সাথে কিছু কয়েনও দিয়ে দেয়। এতে ওইসব কয়েন স্থানীয় গোবিন্দগঞ্জের একাধিক ব্যাংকে জমা দিতে গেলে তারা জমা নিতে পারবেন না বলে ফিরিয়ে দেন। শুধু ডাচবাংলা ব্যাংকে একবার তার কিছু কয়েন নিয়ে ছিলেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কয়েন না নেয়ায় কয়েক মাসে তার ঘরে জমা পড়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা। তিনি বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যদি এসব কয়েন না নেন তাহলে কিছু দিনের মধ্যে ব্যবসার মূলধন হারিয়ে দোকান গুটিয়ে বাড়িতে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। বাচ্ছুর অভিযোগের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেছেন পার্শ্ববর্তী বিসমিল্লাহ বেকারির পরিচালক আবদুশ শহিদ। তিনি বলেন, গোবিন্দগঞ্জের কোন ব্যাংকই তাদের কয়েন নিচ্ছে না। ফলে জমা পড়তে পড়তে কয়েন এখন তারা বস্তাজাত করে রেখেছেন। এভাবে আর কয়দিন অতিবাহিত হলে ব্যবসার মূলধন হারাতে বসতে হবে। গোবিন্দগঞ্জ নতুনবাজারের চা-বিস্কুটের ব্যবসায়ি সাংবাদিক বদর উদ্দিন আহমদ, ব্যাংকে এসব কয়েন না নেয়ায় তার দোকানেও জমা রয়েছে দেড়হাজার টাকার কয়েন। রহমতুন নেছা মার্কেটের বন্ধন প্যাকেজিং এন্ড ভেরাইটিজ স্টোরের পরিচালক আবদুস সত্তার শিপন অভিযোগ করে বলেন, তার ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠানে কয়েন আছে প্রায় ২০হাজার টাকার। এগুলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না। হক ব্রাদার্সের সমুজ আলীরও এমন অভিযোগ। তিনি বলেন, বিভিন্ন কোম্পানীর ডিলারদের কাছে এগুলো কয়েন দেয়া হলে তারা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ডিলাররা আরো বলে থাকেন এসব কয়েন ব্যাংকে জমা নেয় না। তাই তারাও নিতে পারবেন না বলে ব্যবসায়িদের জানিয়ে দেয়া হয়। ব্যবসায়ি নুর উদ্দিন, মাওলানা আবদুল মতিন, আতিকুর রহমান, শিপন আহমদ, আশরাফুর রহমান চৌধুরী, সানোয়ার হোসেনসহ আরো অনেকেই জানিয়েছেন, গ্রামে-গঞ্জে মানুষের কাছে এমন গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, ১, ২ ও ৫টাকার কয়েন ব্যাংক নিচ্ছে না, তাই অচিরেই এগুলো বন্ধ হতে পারে। এমন সংবাদে গ্রাম-গঞ্জের ব্যবসায়ি থেকে শুরু করে প্রত্যেক বাড়িতে সোমনিদের জন্য ছোট ব্যাংকে জমাকৃত কয়েনগুলো বন্ধে অতঙ্কে বাজারে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সচেতনদের ধারণা এ কারণেই বাজারের প্রত্যেক ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠানে জমা পড়েছে কয়েক লক্ষ টাকার কয়েন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন, ব্যবসায়িদের কাছে জমাকৃত অসংখ্য কয়েন উপজেলার সবগুলো ব্যাংকে গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যাংকের ন্যায় গ্রাহকদেরও উচিত হবে এগুলো জমা না করে আস্তে আস্তে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা দেয়া এবং নিকেরাই গ্রহণ করা। এদিকে ডাচ বাংলা ব্যাংক গোবিন্দগঞ্জ শাখার সহকারি ম্যানেজার সঞ্জিত কুমার বলেন, সরকারি ভাবে এগুলো কয়েন বন্ধ হয়নি। তারা মাঝে মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে গ্রহণ করে থাকেন। এখন ব্যাংকে প্রচুর পরিমানের কয়েন জমা রয়েছে। এগুলো গ্রাহকরা নিচ্ছে না। ফলে তারাও রিতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক গোবিন্দগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মকসুদ ইবনে মোস্তফা বলেন, ব্যবসায়িদের কাছ থেকে প্রায়াই সময় কয়েন নিয়ে থাকেন কিন্তু গ্রাহক বা কোন ব্যবসায়িরা এসব কয়েন নিতে রাজি হয়নি। মাঝে মধ্যে অনেক ব্যবসায়িরা এক সাথে অনেকগুলো কয়েন নিয়ে আসেন কিন্তু তাৎক্ষনিক এগুলো হিসেব করে রাখা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে তার ব্যাংকে অনেকগুলো কয়েন জমা পড়েছে। এগুলো গ্রাহকদের কাছে বিতরণের পর আস্তে আস্তে আরো কয়েন নেয়া হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ব্যবসায়িরা বিপাকে- ছাতকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ না নেয়ায় কয়েনে ভরে গেছে বাজার

Update Time : ০২:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৭

চান মিয়া, ছাতক থেকে :: সুনামগঞ্জের ছাতকে ব্যবসায়িদের ক্যাশে বস্তা ভর্তি কয়েন জমা পড়েছে। এক, দুই ও পাঁচ টাকার কয়েক লক্ষাধিক টাকার কয়েন জমা পড়ায় ব্যবসায়িরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ছাতক, গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজারের একাধিক ব্যবসায়িদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে ১, ২ ও ৫টাকার কয়েক লক্ষাধিক টাকার কয়েন তাদের ক্যাশে জমা পড়েছে। ক্যাশ ভর্তি হয়ে এখন এখন এগুলো বস্তাজাত করে রেখেছেন। উপজেলার পূবালী ব্যাং, জনতা ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংকসহ উপজেলার ছাতক পৌর শহর, গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট ও বাজারে, জাউয়াবাজারে অবস্থিত এসব কোন ব্যাংকে কয়েনগুলো নিচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়িদের তীলে তীলে জমা পড়া কয়েন এখন বস্তাজাতে পরিণত হয়েছে। এগুলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক না নেয়ায় ব্যবসায়িরা প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ব্যবসায়িরা তাদের ব্যবসার মূল ধনও এখন হারাতে বসেছেন। ব্যবসা ক্ষেত্রে অনেকটাই হুমকির সম্মুখিন হতে হচ্ছে এসব ব্যবসায়িদের। গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত দেশ বন্ধু বেকারির পরিচালক নাজমুল হোসেন বাচ্ছু বলেন, প্রতিদিন তার ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠানে এসব কয়েন জমা হয় প্রায় ৫হাজার। গ্রাম্য দোকানগুলোতে বিস্কুটজাতীয় মালামাল বিক্রির পর সেইসব ব্যবসায়িরা অন্যান্য টাকার সাথে কিছু কয়েনও দিয়ে দেয়। এতে ওইসব কয়েন স্থানীয় গোবিন্দগঞ্জের একাধিক ব্যাংকে জমা দিতে গেলে তারা জমা নিতে পারবেন না বলে ফিরিয়ে দেন। শুধু ডাচবাংলা ব্যাংকে একবার তার কিছু কয়েন নিয়ে ছিলেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কয়েন না নেয়ায় কয়েক মাসে তার ঘরে জমা পড়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা। তিনি বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যদি এসব কয়েন না নেন তাহলে কিছু দিনের মধ্যে ব্যবসার মূলধন হারিয়ে দোকান গুটিয়ে বাড়িতে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। বাচ্ছুর অভিযোগের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেছেন পার্শ্ববর্তী বিসমিল্লাহ বেকারির পরিচালক আবদুশ শহিদ। তিনি বলেন, গোবিন্দগঞ্জের কোন ব্যাংকই তাদের কয়েন নিচ্ছে না। ফলে জমা পড়তে পড়তে কয়েন এখন তারা বস্তাজাত করে রেখেছেন। এভাবে আর কয়দিন অতিবাহিত হলে ব্যবসার মূলধন হারাতে বসতে হবে। গোবিন্দগঞ্জ নতুনবাজারের চা-বিস্কুটের ব্যবসায়ি সাংবাদিক বদর উদ্দিন আহমদ, ব্যাংকে এসব কয়েন না নেয়ায় তার দোকানেও জমা রয়েছে দেড়হাজার টাকার কয়েন। রহমতুন নেছা মার্কেটের বন্ধন প্যাকেজিং এন্ড ভেরাইটিজ স্টোরের পরিচালক আবদুস সত্তার শিপন অভিযোগ করে বলেন, তার ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠানে কয়েন আছে প্রায় ২০হাজার টাকার। এগুলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না। হক ব্রাদার্সের সমুজ আলীরও এমন অভিযোগ। তিনি বলেন, বিভিন্ন কোম্পানীর ডিলারদের কাছে এগুলো কয়েন দেয়া হলে তারা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ডিলাররা আরো বলে থাকেন এসব কয়েন ব্যাংকে জমা নেয় না। তাই তারাও নিতে পারবেন না বলে ব্যবসায়িদের জানিয়ে দেয়া হয়। ব্যবসায়ি নুর উদ্দিন, মাওলানা আবদুল মতিন, আতিকুর রহমান, শিপন আহমদ, আশরাফুর রহমান চৌধুরী, সানোয়ার হোসেনসহ আরো অনেকেই জানিয়েছেন, গ্রামে-গঞ্জে মানুষের কাছে এমন গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, ১, ২ ও ৫টাকার কয়েন ব্যাংক নিচ্ছে না, তাই অচিরেই এগুলো বন্ধ হতে পারে। এমন সংবাদে গ্রাম-গঞ্জের ব্যবসায়ি থেকে শুরু করে প্রত্যেক বাড়িতে সোমনিদের জন্য ছোট ব্যাংকে জমাকৃত কয়েনগুলো বন্ধে অতঙ্কে বাজারে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সচেতনদের ধারণা এ কারণেই বাজারের প্রত্যেক ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠানে জমা পড়েছে কয়েক লক্ষ টাকার কয়েন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন, ব্যবসায়িদের কাছে জমাকৃত অসংখ্য কয়েন উপজেলার সবগুলো ব্যাংকে গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যাংকের ন্যায় গ্রাহকদেরও উচিত হবে এগুলো জমা না করে আস্তে আস্তে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা দেয়া এবং নিকেরাই গ্রহণ করা। এদিকে ডাচ বাংলা ব্যাংক গোবিন্দগঞ্জ শাখার সহকারি ম্যানেজার সঞ্জিত কুমার বলেন, সরকারি ভাবে এগুলো কয়েন বন্ধ হয়নি। তারা মাঝে মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে গ্রহণ করে থাকেন। এখন ব্যাংকে প্রচুর পরিমানের কয়েন জমা রয়েছে। এগুলো গ্রাহকরা নিচ্ছে না। ফলে তারাও রিতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক গোবিন্দগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মকসুদ ইবনে মোস্তফা বলেন, ব্যবসায়িদের কাছ থেকে প্রায়াই সময় কয়েন নিয়ে থাকেন কিন্তু গ্রাহক বা কোন ব্যবসায়িরা এসব কয়েন নিতে রাজি হয়নি। মাঝে মধ্যে অনেক ব্যবসায়িরা এক সাথে অনেকগুলো কয়েন নিয়ে আসেন কিন্তু তাৎক্ষনিক এগুলো হিসেব করে রাখা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে তার ব্যাংকে অনেকগুলো কয়েন জমা পড়েছে। এগুলো গ্রাহকদের কাছে বিতরণের পর আস্তে আস্তে আরো কয়েন নেয়া হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ