০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

  • Update Time : ০৮:১০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স মোড়ে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের টানা ৪ বারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়ার উপর গত ২৮ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (৪ মে) রাতে ‘বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল’র ১৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও আরোও ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় অভিযোগপত্রটি দায়ের করেন।।উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হান্নান বাবুলকে প্রধান অভিযুক্ত করে থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্রের অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- ছাত্রদল নেতা রায়হান আহমদ, সুজেল মিয়া, যুবদল নেতা আব্দুর রহমান, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, যুবদল নেতা সোহাগ মিয়া, রুপা মিয়া, আমজাদ আলী, সমর আলী, রুজেল আহমেদ, কামরান আহমদ, আহমদ আলী, মইনুল আহমদ, আব্দুল আজাদ।

বাদী থানায় দায়ের করা নিজের লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, বাদী ২০০৩ সাল হতে টানা চার বারের মতো উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ২৮ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে বাদী উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভা ও মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ গ্রহন করেন। সভা শেষে দুপুর ২টার দিকে সিএনজি চালিত অটোক্সিশা যোগে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরীর বাসায় একটি সালিশ বৈঠকে অংশ নিতে রওয়ানা দিলে উপজেলা পরিষদের কমপ্লেক্স মোড়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উৎপেতে থাকা অভিযুক্ত সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীগণ ‘ছুরি, চাকু, স্টিলের লাঠি, লোহার পাইপ’ ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বাদীর সিএনজি গাড়ির গতিরোধ করে। এসময় অভিযুক্তরা বাদীকে গাড়িসহ ঘিরে ফেলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা আব্দুল হান্নান বাবুল হুকুম দিয়ে বলে যে, পূর্বে চাঁদা দেওয়ার কথা বলার পরও …… ‘(গালিগালাজ) আইজ আমাদেরকে চাঁদা না দিয়ে কিভাবে যায় দেখবো’। একথা বলার সাথে সাথে অন্যান্য অভিযুক্তরা বাদীর গলায় চাকু ধরে তার (বাদী) প্যান্টের পিছনের পকেটে থাকা এক হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড যাহা বাংলাদেশী টাকায় এক লক্ষ ষাট হাজার ও প্যান্টের সামনের পকেটে থাকা ৫৫ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন জোর করে নিয়ে যায়। এতে বাদী বাঁধা দিলে অভিযুক্তরা বাদীকে হত্যার উদ্যোশ্যে এলোপাতাড়িভাবে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রড-লাঠি দিয়ে আঘাত করে। বাদী কোন মতে নিজের প্রাণ রক্ষা করেন। এসময় অভিযুক্তরা পুণঃরায় বাদীর নিকট চাঁদা দাবী করে বলে যে, স্বাধীনভাবে চলতে হলে তাদেরকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে অভিযুক্তরা বাদীকে প্রাণে হত্যার ভয় দেখাতে থাকে। এসময় বাদী হামলাকারীদের হাত থেকে প্রাণে রক্ষার জন্য চিৎকার করলে সমূহ স্বাক্ষী ও পথচারীগণ আসা শুরু করলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থ থেকে পালিয়ে যায়। এসময় স্বাক্ষীগণ ও পথচারীরা না আসলে হয়তো অভিযুক্তরা বাদীকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে গুম বা খুন করে ফেলতে বলে বাদী থানায় দায়ের করা নিজের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। এরপর বাদীয় হামলার বিষয়টি থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি)’কে অবহিত করলে ঘটনাস্থল থেকে বাদীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। বাদী বিষয়টি উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’কে অবহিত করেছেন মর্মে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

নিজের উপর আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত দাবী করে এব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হান্নান বাবুল বলেন, আমি চেয়ারম্যান (ধলা)’কে রক্ষা করতে গিয়ে অনেক মারও খেয়েছি। এখন উনি আমাকে ভাল করার উপহার দিচ্ছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের ফাঁসানোর জন্য এটি কবির হোসেন ধলা মিয়ার একটি সাজানো নাটক। এছাড়া আর কিছু নয়। এঘটনার সাথে বিএনপি কিংবা অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেউই জড়িত নয়।।হামলার ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার লিখিত অভিযোগ দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থ গ্রহন করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিশ্বনাথে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

Update Time : ০৮:১০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স মোড়ে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের টানা ৪ বারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়ার উপর গত ২৮ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (৪ মে) রাতে ‘বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল’র ১৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও আরোও ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় অভিযোগপত্রটি দায়ের করেন।।উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হান্নান বাবুলকে প্রধান অভিযুক্ত করে থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্রের অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- ছাত্রদল নেতা রায়হান আহমদ, সুজেল মিয়া, যুবদল নেতা আব্দুর রহমান, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, যুবদল নেতা সোহাগ মিয়া, রুপা মিয়া, আমজাদ আলী, সমর আলী, রুজেল আহমেদ, কামরান আহমদ, আহমদ আলী, মইনুল আহমদ, আব্দুল আজাদ।

বাদী থানায় দায়ের করা নিজের লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, বাদী ২০০৩ সাল হতে টানা চার বারের মতো উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ২৮ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে বাদী উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভা ও মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ গ্রহন করেন। সভা শেষে দুপুর ২টার দিকে সিএনজি চালিত অটোক্সিশা যোগে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরীর বাসায় একটি সালিশ বৈঠকে অংশ নিতে রওয়ানা দিলে উপজেলা পরিষদের কমপ্লেক্স মোড়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উৎপেতে থাকা অভিযুক্ত সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীগণ ‘ছুরি, চাকু, স্টিলের লাঠি, লোহার পাইপ’ ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বাদীর সিএনজি গাড়ির গতিরোধ করে। এসময় অভিযুক্তরা বাদীকে গাড়িসহ ঘিরে ফেলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা আব্দুল হান্নান বাবুল হুকুম দিয়ে বলে যে, পূর্বে চাঁদা দেওয়ার কথা বলার পরও …… ‘(গালিগালাজ) আইজ আমাদেরকে চাঁদা না দিয়ে কিভাবে যায় দেখবো’। একথা বলার সাথে সাথে অন্যান্য অভিযুক্তরা বাদীর গলায় চাকু ধরে তার (বাদী) প্যান্টের পিছনের পকেটে থাকা এক হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড যাহা বাংলাদেশী টাকায় এক লক্ষ ষাট হাজার ও প্যান্টের সামনের পকেটে থাকা ৫৫ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন জোর করে নিয়ে যায়। এতে বাদী বাঁধা দিলে অভিযুক্তরা বাদীকে হত্যার উদ্যোশ্যে এলোপাতাড়িভাবে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রড-লাঠি দিয়ে আঘাত করে। বাদী কোন মতে নিজের প্রাণ রক্ষা করেন। এসময় অভিযুক্তরা পুণঃরায় বাদীর নিকট চাঁদা দাবী করে বলে যে, স্বাধীনভাবে চলতে হলে তাদেরকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে অভিযুক্তরা বাদীকে প্রাণে হত্যার ভয় দেখাতে থাকে। এসময় বাদী হামলাকারীদের হাত থেকে প্রাণে রক্ষার জন্য চিৎকার করলে সমূহ স্বাক্ষী ও পথচারীগণ আসা শুরু করলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থ থেকে পালিয়ে যায়। এসময় স্বাক্ষীগণ ও পথচারীরা না আসলে হয়তো অভিযুক্তরা বাদীকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে গুম বা খুন করে ফেলতে বলে বাদী থানায় দায়ের করা নিজের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। এরপর বাদীয় হামলার বিষয়টি থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি)’কে অবহিত করলে ঘটনাস্থল থেকে বাদীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। বাদী বিষয়টি উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’কে অবহিত করেছেন মর্মে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

নিজের উপর আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত দাবী করে এব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হান্নান বাবুল বলেন, আমি চেয়ারম্যান (ধলা)’কে রক্ষা করতে গিয়ে অনেক মারও খেয়েছি। এখন উনি আমাকে ভাল করার উপহার দিচ্ছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের ফাঁসানোর জন্য এটি কবির হোসেন ধলা মিয়ার একটি সাজানো নাটক। এছাড়া আর কিছু নয়। এঘটনার সাথে বিএনপি কিংবা অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেউই জড়িত নয়।।হামলার ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার লিখিত অভিযোগ দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থ গ্রহন করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ