বিশ্বনাথে টানা বর্ষণে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত
- Update Time : ০৮:২২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: বিশ্বনাথে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উপজেলাজুড়ে বন্যা দেখা দিতে পারে। সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের বেশ কয়েক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের সুরমা পাড়ে অবস্থিত মাহতাবপুর, মাধবপুর, শাহপুর, খূজার পাড়া, পূর্ব সোনাপুর, মির্জারগাও ও সাহেব নগর গ্রামের নিম্নাঞ্চলের রাস্তঘাট ইতোমধ্যে পানির নীচে তলিয়ে গেছে। বাড়ি ঘরে এখনো পানি ওঠেনি, তবে ছুঁইছুঁই করছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আজ রবিবার সকালের মধ্যে পানি ওঠার সম্ভাবনা আছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারী করা হচ্ছে। ঐ এলাকার নাগরিকদের সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে। অবস্থার অবনতি ঘটলে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হবে। এছাড়াও লামাকাজী সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড় ভাঙছে।
জানাগেছে, বিশ্বনাথে গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বিভিন্ন হাওর প্লাবিত হয়েছে আশংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আধা-পাঁকা রাস্তা, পুকুর, খাল-বিল, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে যদি আরোও কয়েকদিন বৃষ্টি হলে বন্যার আশংক করেছেন উপজেলাবাসী। টানা বর্ষণের ফলে পুরো উপজেলার জন জীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দূভোগে এবং দিনমজুরি অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এখনও উপজেলায় কোথাও প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলার লামাকাজি, খাজাঞ্চী ও দেওকলস ইউনিয়নের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল রাস্তা পানির নিচের তলিয়ে রয়েছে বলে ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান। বৃষ্টির কারণে লোকজন বাসা-বাড়ি থেকে বের হতে পারছেনা। জরুরী কাজ ছাড়া কেউ বাসা-বাড়ি থেকে বের হচ্ছেনা। উপজেলা সদরের গত দুইদিন ধরে লোকজনের উপস্থিতিও অন্যান্যা দিনের চেয়ে অনেক কম। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এলাকার নিম্মাঞ্চলের আউশ ধান ও রোপা আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আউস ধান ও রোপা আমনের বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন দুঃচিন্তায়। উপজেলা সদরের বাসিয়া নদী, সুরমা নদীসহ পাহাড় থেকে নেমে আসা নদী ও ছড়ার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলার খাজাঞ্চী ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে পানি প্রবেশ করছে। এভাবে যদি আরও দুই-তিনদিন পানি প্রবেশ করে তাহলে বন্যার আশংকা রয়েছে। তবে এলাকায় রোপনকৃত রোপা আমনের চারা তলিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
উপজেলার লামাকাজি ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। বেশিরভাগ গ্রামের মানুষ পানি বন্দি রয়েছেন। এলাকার নিম্মাঞ্চল রাস্তাগুলোও তলিয়ে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার রমজান আলী বলেন, এলাকার নিন্মাঞ্চলে আউশ ধান প্রায় ১০ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা প্রায় ২ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে দুই একদিনের মধ্যে পানি কমে গেলে তেমন ক্ষতি হবেনা। উপজেলা লামাকাজি ও খাজাঞ্চি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোন ইউনিয়নে ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে পানি বৃদ্ধি পেলে আরও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিতাব পরাগ তালুকদার বলেন, এলাকার লামাকাজি ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলার কোথাও ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়নি। তবে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে লামাকাজি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে তিনি জানান।





























