০৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজয়ী হাফেজ তরিকুলকে বিপুল সংবর্ধনা

  • Update Time : ০১:১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বাংলাদেশি কিশোর হাফেজ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিশ্বের ১০৩টি দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বিশ্ব মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে হাফেজ তরিকুলের এ সাফল্য। মাত্র ১৩ বছর বয়সী এ হাফেজ তরিকুল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর হাফেজ ক্বারী নেছার আহমদ আন নাছিরী পরিচালিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদরাসার ছাত্র। সে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে।
জানা যায়, দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ২১তম দুবাই হলি কুরআন অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে কুমিল্লার সন্তান হাফেজ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। দুবাই চেম্বার অব কমার্স অডিটরিয়ামে ১০৪ দেশের হাফেজগণের অংশগ্রহণে টানা ৯ রাত প্রতিযোগিতা চলার পর ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম। কোরআন তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জন করে হাফেজ তরিকুল ইসলাম। পুরস্কার হিসেবে হাফেজ তরিকুল পেয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম (বাংলাদেশি প্রায় ৬০ লাখ টাকা)। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হুজায়ফা সিদ্দিকী। হুজায়ফা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে দুই লাখ দিরহাম। হুজায়ফা সিদ্দিকী সুন্দর কণ্ঠের জন্যও পুরস্কার পেয়েছে। তৃতীয় পুরস্কারটি যৌথভাবে পেয়েছে গাম্বিয়ার মোডুউ জোবে এবং সৌদি আরবের আবদুল আজিজ আল ওবায়দান। তারা দুজনে ১ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম পেয়েছে। ওই প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন মিশর, বাহরাইন, সৌদি আরব, দুবাই ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা হাফেজ ও ক্বারিগণ। তার বাবা জানান, জাতীয়ভাবে অনেক পুরস্কার পাওয়ার পর তরিকুলের স্বপ্ন ছিল আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কার পাওয়ার, আল্লাহ তার সে স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এখন তার ও আমাদের পরিবারের স্বপ্ন হলো- তরিকুল মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটিতে পড়ার। এদিকে গত শুক্রবার বিকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আসার পর তরিকুলের শিক্ষক, সহপাঠী ও স্বজনরা তাকে সংবর্ধনা জানান। এ সময় তাঁরা বলেন, বিশ্বজয়ী হাফেজ তরিকুলের এ সাফল্য দেশের জন্য অনেক গৌরবের। তাই তার পরিবারের স্বপ্ন পূরণে (মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটিতে পড়ার) সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। হাফেজ তরিকুল ইসলাম জানায়, ‘আল্লাহ আমার আশা পূরণ করেছেন, আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে যাতে আমি দ্বীনের পথে কাজ করতে পারি, সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। পরিবারের উৎসাহ এবং শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় আমার এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।’
উল্লেখ্য, হাফেজ তরিকুলের বাবা আবু বকর সিদ্দিক পেশায় একজন শিক্ষক। তার ৪ মেয়ে ও ৩ ছেলে। ছেলেদের মধ্যে তরিকুল সবার বড়। সে এ বছর জেডিসি পরীক্ষার্থী।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিশ্বজয়ী হাফেজ তরিকুলকে বিপুল সংবর্ধনা

Update Time : ০১:১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বাংলাদেশি কিশোর হাফেজ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিশ্বের ১০৩টি দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বিশ্ব মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে হাফেজ তরিকুলের এ সাফল্য। মাত্র ১৩ বছর বয়সী এ হাফেজ তরিকুল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর হাফেজ ক্বারী নেছার আহমদ আন নাছিরী পরিচালিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদরাসার ছাত্র। সে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে।
জানা যায়, দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ২১তম দুবাই হলি কুরআন অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে কুমিল্লার সন্তান হাফেজ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। দুবাই চেম্বার অব কমার্স অডিটরিয়ামে ১০৪ দেশের হাফেজগণের অংশগ্রহণে টানা ৯ রাত প্রতিযোগিতা চলার পর ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম। কোরআন তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জন করে হাফেজ তরিকুল ইসলাম। পুরস্কার হিসেবে হাফেজ তরিকুল পেয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম (বাংলাদেশি প্রায় ৬০ লাখ টাকা)। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হুজায়ফা সিদ্দিকী। হুজায়ফা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে দুই লাখ দিরহাম। হুজায়ফা সিদ্দিকী সুন্দর কণ্ঠের জন্যও পুরস্কার পেয়েছে। তৃতীয় পুরস্কারটি যৌথভাবে পেয়েছে গাম্বিয়ার মোডুউ জোবে এবং সৌদি আরবের আবদুল আজিজ আল ওবায়দান। তারা দুজনে ১ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম পেয়েছে। ওই প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন মিশর, বাহরাইন, সৌদি আরব, দুবাই ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা হাফেজ ও ক্বারিগণ। তার বাবা জানান, জাতীয়ভাবে অনেক পুরস্কার পাওয়ার পর তরিকুলের স্বপ্ন ছিল আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কার পাওয়ার, আল্লাহ তার সে স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এখন তার ও আমাদের পরিবারের স্বপ্ন হলো- তরিকুল মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটিতে পড়ার। এদিকে গত শুক্রবার বিকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আসার পর তরিকুলের শিক্ষক, সহপাঠী ও স্বজনরা তাকে সংবর্ধনা জানান। এ সময় তাঁরা বলেন, বিশ্বজয়ী হাফেজ তরিকুলের এ সাফল্য দেশের জন্য অনেক গৌরবের। তাই তার পরিবারের স্বপ্ন পূরণে (মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটিতে পড়ার) সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। হাফেজ তরিকুল ইসলাম জানায়, ‘আল্লাহ আমার আশা পূরণ করেছেন, আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে যাতে আমি দ্বীনের পথে কাজ করতে পারি, সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। পরিবারের উৎসাহ এবং শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় আমার এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।’
উল্লেখ্য, হাফেজ তরিকুলের বাবা আবু বকর সিদ্দিক পেশায় একজন শিক্ষক। তার ৪ মেয়ে ও ৩ ছেলে। ছেলেদের মধ্যে তরিকুল সবার বড়। সে এ বছর জেডিসি পরীক্ষার্থী।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ