০১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশুদ্ধ আকিদা ঈমানের স্তম্ভ

  • Update Time : ০৪:৩৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অক্টোবর ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আব্দুল্লাহ আল-মামুন আশরাফী

 

‘আকিদা’ আরবি শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ সুদৃঢ় বিশ্বাস, আস্থা। পরিভাষায় আকিদা হচ্ছে- এমন সব দ্বিনি বিষয়াদির সমষ্টি, যার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা একজন মুমিনের জন্য অপরিহার্য। এমন সুদৃঢ় বিশ্বাস, যাতে সন্দেহের লেশমাত্র নেই। (আকিদাতুত তাওহিদ ফিল কোরআনিল কারিম : ড. মুহাম্মদ আহমদ মালকাবি)। এখানে দ্বিনি বিষয়াদির সমষ্টি দ্বারা উদ্দেশ্য কোরআন-সুন্নাহ তথা ওহি দ্বারা সাব্যস্ত প্রতিটি বিষয় তথা আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, রাসুল, আখিরাত তথা মৃত্যু-পরবর্তী জীবন, তাকদির, পুনরুত্থান ইত্যাদি। (প্রাগুক্ত)। বিশুদ্ধ আকিদা ঈমানের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। ইসলামের সুবিশাল অট্টালিকা আকিদা নামক সুদৃঢ় স্তম্ভের ওপর স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামে আকিদার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।

নেই কোনো অস্পষ্টতা ও দোদুল্যমানতার সুযোগ। আমৃত্যু বিশুদ্ধ আকিদা সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করে ইসলামী শরিয়াহর পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনের চেষ্টা করে যাওয়ার মধ্যেই মানবজীবনের চূড়ান্ত সফলতা নিহিত। আকিদা বিশুদ্ধ করা বান্দার প্রতি আল্লাহর সর্ব প্রথম নির্দেশনা। বিশুদ্ধ আকিদা সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ। জীবনজুড়ে যা থেকে এক মুহূর্ত বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

 

আকিদা পরিশুদ্ধির মানে কী? আকিদা ও বিশ্বাসের পরিশুদ্ধির মানে হচ্ছে, কোরআন-সুন্নাহে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত ইসলামী আকিদা, যা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা মোতাবেক ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। আর তা সংশয়হীনচিত্তে নিশ্চিত সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং সব ধরনের কুফরি, শিরকি ও বিদআতি আকিদা থেকে মুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ আকিদার ওপর আমৃত্যু অটল অবিচল থাকাই আকিদা বিশ্বাসের পরিশুদ্ধি।

 

আকিদা পরিশুদ্ধির গুরুত্ব কতটুকু?

বান্দার প্রতি আল্লাহর সবচেয়ে বড় হক ও সবচেয়ে বড় ফরজ হচ্ছে ঈমান। পৃথিবীতে ঈমানের চেয়ে মূল্যবান সম্পদ আর কিছু নেই। একজন মুসলমানের কাছে তার জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয় তার ঈমান। আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা অর্জন ও দুনিয়া-আখিরাতে চূড়ান্ত সফলতা অর্জনের প্রধান ও মৌলিক উপায় হচ্ছে ঈমানের আলোয় নিজেকে আলোকিত করা। সব নবীর দাওয়াতের মৌলিক বিষয়ও ছিল এটি। সব নবী-রাসুলের সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক তাগিদ ছিল আকিদা বিশুদ্ধ করার ব্যাপারেই। পবিত্র কোরআনে নবীদের দাওয়াতের যে চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা থেকে এ বিষয়টি সূর্যালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায়। আকিদা পরিশুদ্ধির প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করার মধ্য দিয়েই নবীদের দাওয়াতের সূচনা হতো। আকিদা পরিশুদ্ধ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ আকিদা বিশুদ্ধ না হলে সব আমল বরবাদ হয়ে যায়। পবিত্র  কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি বিশ্বাসের বিষয় অবিশ্বাস করে অর্থাৎ যার ঈমান-আকিদা শুদ্ধ নয়, তার সব কাজ অর্থহীন এবং সে আখিরাতে ব্যর্থ মনোরথ হবে। ’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৫)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘নবী, আপনি বলুন, আমি কি তোমাদের সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সেসব লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে তারা খুব ভালো কাজ করছে। ’ (সুরা : কাহফ, আয়াত :  ১০৩-১০৪)

 

বিখ্যাত মুফাসসির ইমাম ইবনে জারির আত তাবারি (রহ.) তাঁর তাফসির গ্রন্থ ‘জামেউল বায়ান’-এ উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘এখানে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইহুদি-খ্রিস্টান এবং কাফির তথা আকিদা বিশুদ্ধ নয়—এমন সব ব্যক্তি। ’

 

ইসলাম আকিদার বিষয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করেনি। আকিদার বিষয়ে ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সালফে সালেহিন তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত আমাদের সামনে যেসব আকিদা উপস্থাপন করেছেন সেগুলো সর্বান্তকরণে মেনে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এখানে মতামতের স্বাধীনতার মূলনীতি অচল। তাই আসুন আমরা আকিদা পরিশুদ্ধির বিষয়ে যত্নবান হই। শুধু নিজস্ব অধ্যয়নে সীমাবদ্ধ না থেকে আকিদাবিশেষজ্ঞ নির্ভরযোগ্য আলেমদের শরণাপন্ন হয়ে নিজের আকিদা যাচাই করে নিই। দুনিয়া ও আখিরাতে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করি। লেখক : মুহাদ্দিস ও খতিব।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিশুদ্ধ আকিদা ঈমানের স্তম্ভ

Update Time : ০৪:৩৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অক্টোবর ২০২১

আব্দুল্লাহ আল-মামুন আশরাফী

 

‘আকিদা’ আরবি শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ সুদৃঢ় বিশ্বাস, আস্থা। পরিভাষায় আকিদা হচ্ছে- এমন সব দ্বিনি বিষয়াদির সমষ্টি, যার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা একজন মুমিনের জন্য অপরিহার্য। এমন সুদৃঢ় বিশ্বাস, যাতে সন্দেহের লেশমাত্র নেই। (আকিদাতুত তাওহিদ ফিল কোরআনিল কারিম : ড. মুহাম্মদ আহমদ মালকাবি)। এখানে দ্বিনি বিষয়াদির সমষ্টি দ্বারা উদ্দেশ্য কোরআন-সুন্নাহ তথা ওহি দ্বারা সাব্যস্ত প্রতিটি বিষয় তথা আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, রাসুল, আখিরাত তথা মৃত্যু-পরবর্তী জীবন, তাকদির, পুনরুত্থান ইত্যাদি। (প্রাগুক্ত)। বিশুদ্ধ আকিদা ঈমানের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। ইসলামের সুবিশাল অট্টালিকা আকিদা নামক সুদৃঢ় স্তম্ভের ওপর স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামে আকিদার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।

নেই কোনো অস্পষ্টতা ও দোদুল্যমানতার সুযোগ। আমৃত্যু বিশুদ্ধ আকিদা সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করে ইসলামী শরিয়াহর পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনের চেষ্টা করে যাওয়ার মধ্যেই মানবজীবনের চূড়ান্ত সফলতা নিহিত। আকিদা বিশুদ্ধ করা বান্দার প্রতি আল্লাহর সর্ব প্রথম নির্দেশনা। বিশুদ্ধ আকিদা সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ। জীবনজুড়ে যা থেকে এক মুহূর্ত বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

 

আকিদা পরিশুদ্ধির মানে কী? আকিদা ও বিশ্বাসের পরিশুদ্ধির মানে হচ্ছে, কোরআন-সুন্নাহে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত ইসলামী আকিদা, যা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা মোতাবেক ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। আর তা সংশয়হীনচিত্তে নিশ্চিত সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং সব ধরনের কুফরি, শিরকি ও বিদআতি আকিদা থেকে মুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ আকিদার ওপর আমৃত্যু অটল অবিচল থাকাই আকিদা বিশ্বাসের পরিশুদ্ধি।

 

আকিদা পরিশুদ্ধির গুরুত্ব কতটুকু?

বান্দার প্রতি আল্লাহর সবচেয়ে বড় হক ও সবচেয়ে বড় ফরজ হচ্ছে ঈমান। পৃথিবীতে ঈমানের চেয়ে মূল্যবান সম্পদ আর কিছু নেই। একজন মুসলমানের কাছে তার জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয় তার ঈমান। আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা অর্জন ও দুনিয়া-আখিরাতে চূড়ান্ত সফলতা অর্জনের প্রধান ও মৌলিক উপায় হচ্ছে ঈমানের আলোয় নিজেকে আলোকিত করা। সব নবীর দাওয়াতের মৌলিক বিষয়ও ছিল এটি। সব নবী-রাসুলের সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক তাগিদ ছিল আকিদা বিশুদ্ধ করার ব্যাপারেই। পবিত্র কোরআনে নবীদের দাওয়াতের যে চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা থেকে এ বিষয়টি সূর্যালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায়। আকিদা পরিশুদ্ধির প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করার মধ্য দিয়েই নবীদের দাওয়াতের সূচনা হতো। আকিদা পরিশুদ্ধ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ আকিদা বিশুদ্ধ না হলে সব আমল বরবাদ হয়ে যায়। পবিত্র  কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি বিশ্বাসের বিষয় অবিশ্বাস করে অর্থাৎ যার ঈমান-আকিদা শুদ্ধ নয়, তার সব কাজ অর্থহীন এবং সে আখিরাতে ব্যর্থ মনোরথ হবে। ’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৫)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘নবী, আপনি বলুন, আমি কি তোমাদের সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সেসব লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে তারা খুব ভালো কাজ করছে। ’ (সুরা : কাহফ, আয়াত :  ১০৩-১০৪)

 

বিখ্যাত মুফাসসির ইমাম ইবনে জারির আত তাবারি (রহ.) তাঁর তাফসির গ্রন্থ ‘জামেউল বায়ান’-এ উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘এখানে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইহুদি-খ্রিস্টান এবং কাফির তথা আকিদা বিশুদ্ধ নয়—এমন সব ব্যক্তি। ’

 

ইসলাম আকিদার বিষয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করেনি। আকিদার বিষয়ে ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সালফে সালেহিন তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত আমাদের সামনে যেসব আকিদা উপস্থাপন করেছেন সেগুলো সর্বান্তকরণে মেনে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এখানে মতামতের স্বাধীনতার মূলনীতি অচল। তাই আসুন আমরা আকিদা পরিশুদ্ধির বিষয়ে যত্নবান হই। শুধু নিজস্ব অধ্যয়নে সীমাবদ্ধ না থেকে আকিদাবিশেষজ্ঞ নির্ভরযোগ্য আলেমদের শরণাপন্ন হয়ে নিজের আকিদা যাচাই করে নিই। দুনিয়া ও আখিরাতে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করি। লেখক : মুহাদ্দিস ও খতিব।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ