০১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান জরুরি

  • Update Time : ০১:১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: দেশ পরিচালনায় দুই দলই ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

 

তিনি বলেন, তারা মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। এ অবস্থায় দেশের মানুষ বিকল্প খুঁজছে। এ বিকল্প কোনো অসাংবিধানিক শক্তি না। রাজনৈতিক দলই হবে দুই দলের বিকল্প। আমরা যুক্তফ্রন্টকে সেই বিকল্প জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। আইনের শাসন চায়। সুবিচার চায়। দুর্নীতি ও লুটপাটের অবসান চায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান জরুরি। আর এ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হতে পারে যুক্তফ্রন্ট।

 

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বুধবার অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি- এ দ্বিদলীয় ধারার বাইরে নিজেদের জোট ‘যুক্তফ্রন্ট’কে নিয়েই পথ চলতে চান সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। আপাতত তার এই পথচলায় সঙ্গী হবেন ফ্রন্টের আরও দুই শীর্ষ নেতা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

 

বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীকেও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা চলছে বাম প্রগতিশীল ঘরানার আরও কয়েকটি দলকেও।

 

বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে, আশার বাণী শুনিয়ে গত বছর ৪ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করে নতুন রাজনৈতিক জোট যুক্তফ্রন্ট। ওইদিন রাতে অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বারিধারার বাসভবন মায়াবীতে বৈঠক করে নয়া এ জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। জেএসডি, বিকল্প ধারা এবং নাগরিক ঐক্য- প্রাথমিকভাবে এই তিন দল মিলে যাত্রা শুরু হয় যুক্তফ্রন্টের।

 

কথা ছিল, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ বাম প্রগতিশীল ঘরানার আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ জোটে সম্পৃক্ত হবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পিছুটান দেন ড. কামাল হোসেন এবং কাদের সিদ্দিকী। বাম প্রগতিশীল ঘরানার দলগুলোও এ উদ্যোগে সাড়া দেয়নি।

 

এ অবস্থায় শুরুতেই হোঁচট খায় যুক্তফ্রন্ট। তেমন একটা নাড়া দিতে পারেনি তারা মানুষের মধ্যে। তবুও এর উদ্যোক্তারা হাল ছাড়তে নারাজ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঈদের পরপরই পুরোদমে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন জোটের নেতারা।

 

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে যুক্তফ্রন্টের অন্যতম প্রধান শরিক দল জেএসডির সাধারণ সম্পাক আবদুল মালেক রতন যুগান্তরকে বলেন, ‘এটা ঠিক আমরা যুক্তফ্রন্টগতভাবে এখনও সেভাবে মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলতে পারিনি। তবে হতাশার কিছু নেই। ঈদের পরপরই পুরোদমে মাঠে নামব। আট বিভাগে জনসভা আয়োজনের পাশাপাশি আরও বেশকিছু কর্মসূচি পালনের বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে।’

 

সম্প্রতি বিএনপির ইফতার পার্টিতে দেয়া অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বক্তব্য নিয়ে বেশ তোলপাড় চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে হতাশা ব্যক্ত করেন এবং দেশরক্ষায় নতুন শক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর এ বক্তব্যকে ভালো চোখে নেননি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

 

যদিও এ প্রসঙ্গে বি. চৌধুরী জানান, এটি তার একান্ত নিজস্ব মত। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দুই দলের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এখানে বিকল্প শক্তি বলতে কোনো অসাংবিধানিক শক্তিকে বোঝানো হয়নি। বরং নিজেদের জোট যুক্তফ্রন্টকেই বোঝানো হয়েছে। বিষয়টি তিনি আরও পরিষ্কার করবেন বলেও জানিয়েছেন।

 

এ অবস্থায় নিজের সেদিনের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। তার প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, এ ব্যাপারে তিনি আগামী ২৫ মে শুক্রবার উত্তরার পলওয়েল কনভেনশন সেন্টারে মহানগর বিকল্প ধারা আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিস্তারিত বলবেন। ওই ইফতারে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আরও অনেক রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত থাকবেন।

 

এছাড়াও ২৯ মে গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে কূটনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও সুশীলসমাজের সম্মানে এবং ১ জুন পুরানা পল্টনের হোটেল মেট্রোপলিটান-পিকিং গার্ডেনে বিকল্প স্বেচ্ছাসেবক ধারার ইফতার পার্টিতেও দেশের সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য দেবেন অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান জরুরি

Update Time : ০১:১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: দেশ পরিচালনায় দুই দলই ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

 

তিনি বলেন, তারা মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। এ অবস্থায় দেশের মানুষ বিকল্প খুঁজছে। এ বিকল্প কোনো অসাংবিধানিক শক্তি না। রাজনৈতিক দলই হবে দুই দলের বিকল্প। আমরা যুক্তফ্রন্টকে সেই বিকল্প জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। আইনের শাসন চায়। সুবিচার চায়। দুর্নীতি ও লুটপাটের অবসান চায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান জরুরি। আর এ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হতে পারে যুক্তফ্রন্ট।

 

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বুধবার অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি- এ দ্বিদলীয় ধারার বাইরে নিজেদের জোট ‘যুক্তফ্রন্ট’কে নিয়েই পথ চলতে চান সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। আপাতত তার এই পথচলায় সঙ্গী হবেন ফ্রন্টের আরও দুই শীর্ষ নেতা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

 

বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীকেও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা চলছে বাম প্রগতিশীল ঘরানার আরও কয়েকটি দলকেও।

 

বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে, আশার বাণী শুনিয়ে গত বছর ৪ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করে নতুন রাজনৈতিক জোট যুক্তফ্রন্ট। ওইদিন রাতে অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বারিধারার বাসভবন মায়াবীতে বৈঠক করে নয়া এ জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। জেএসডি, বিকল্প ধারা এবং নাগরিক ঐক্য- প্রাথমিকভাবে এই তিন দল মিলে যাত্রা শুরু হয় যুক্তফ্রন্টের।

 

কথা ছিল, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ বাম প্রগতিশীল ঘরানার আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ জোটে সম্পৃক্ত হবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পিছুটান দেন ড. কামাল হোসেন এবং কাদের সিদ্দিকী। বাম প্রগতিশীল ঘরানার দলগুলোও এ উদ্যোগে সাড়া দেয়নি।

 

এ অবস্থায় শুরুতেই হোঁচট খায় যুক্তফ্রন্ট। তেমন একটা নাড়া দিতে পারেনি তারা মানুষের মধ্যে। তবুও এর উদ্যোক্তারা হাল ছাড়তে নারাজ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঈদের পরপরই পুরোদমে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন জোটের নেতারা।

 

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে যুক্তফ্রন্টের অন্যতম প্রধান শরিক দল জেএসডির সাধারণ সম্পাক আবদুল মালেক রতন যুগান্তরকে বলেন, ‘এটা ঠিক আমরা যুক্তফ্রন্টগতভাবে এখনও সেভাবে মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলতে পারিনি। তবে হতাশার কিছু নেই। ঈদের পরপরই পুরোদমে মাঠে নামব। আট বিভাগে জনসভা আয়োজনের পাশাপাশি আরও বেশকিছু কর্মসূচি পালনের বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে।’

 

সম্প্রতি বিএনপির ইফতার পার্টিতে দেয়া অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বক্তব্য নিয়ে বেশ তোলপাড় চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে হতাশা ব্যক্ত করেন এবং দেশরক্ষায় নতুন শক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর এ বক্তব্যকে ভালো চোখে নেননি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

 

যদিও এ প্রসঙ্গে বি. চৌধুরী জানান, এটি তার একান্ত নিজস্ব মত। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দুই দলের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এখানে বিকল্প শক্তি বলতে কোনো অসাংবিধানিক শক্তিকে বোঝানো হয়নি। বরং নিজেদের জোট যুক্তফ্রন্টকেই বোঝানো হয়েছে। বিষয়টি তিনি আরও পরিষ্কার করবেন বলেও জানিয়েছেন।

 

এ অবস্থায় নিজের সেদিনের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। তার প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, এ ব্যাপারে তিনি আগামী ২৫ মে শুক্রবার উত্তরার পলওয়েল কনভেনশন সেন্টারে মহানগর বিকল্প ধারা আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিস্তারিত বলবেন। ওই ইফতারে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আরও অনেক রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত থাকবেন।

 

এছাড়াও ২৯ মে গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে কূটনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও সুশীলসমাজের সম্মানে এবং ১ জুন পুরানা পল্টনের হোটেল মেট্রোপলিটান-পিকিং গার্ডেনে বিকল্প স্বেচ্ছাসেবক ধারার ইফতার পার্টিতেও দেশের সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য দেবেন অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ