০১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের কথা ‘ফাঁস করলেন’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Update Time : ০৭:৪৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল জনগণের রুদ্ররোষে। এটা বিএনপির জানা দরকার, মনে রাখা দরকার। জনগণের ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না। জনগণও জানে কীভাবে সেই সরকার উৎখাত করতে হয়। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। আমরা ভোট চুরি করতে যাব কেন? জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর বিএনপি জিতবে কীভাবে, ২০১৮ সালের নির্বাচন এক সিটে যদি তিন জন করে মনোনয়ন দেয়। এখানে ফখরুল একজনকে মনোনয়ন দেয়, রিজভী একজনকে দেয় আর লন্ডন থেকে তারেক দেয় আরেকজনকে। যে যত টাকা পায় সে ততটা মনোনয়ন দেয়, সেখানে হলো টাকার খেলা। তারপরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে বলে আমাদের নির্বাচন করতে দিলো না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেতা, অন্তত দুই জন আমার কাছে এসে নালিশ করে গেছে। সিলেটের ইনাম আহমেদ চৌধুরী এসে বললেন, দেখো আমার কাছে টাকা চেয়েছে তারেক জিয়া, আমি দিতে পারিনি। তাই আমার মনোনয়ন বাতিল করে যার কাছ থেকে টাকা পেয়েছে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। মোর্শেদ খান, তিনি নিজে এসে বলেছেন, তার কাছে মোটা অংকের টাকা চেয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি এ টাকা দিতে পারবো না। এর জন্য মনোনয়ন ক্যান্সেল (বাতিল)।’’ এই হলো তাদের ২০১৮-এর নির্বাচন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা আমাদের দেশের যারা বুদ্ধিজীবী অনেকে ভুলেই গেছে, এ কথাগুলো লিখবে। ওইভাবে নির্বাচন করে নির্বাচনে জেতা যায় না, এটা হলো বাস্তবতা। সকালে এক জনের নাম দেয়, দুপুরে আরেকটা নাম দেয়, বিকেলে আরেকটা নাম যায়। এইভাবেই হলো তাদের ইলেকশন যে ঢালো কড়ি, মাখো তেল। যে টাকা দেবে পেয়ে যাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে দলের এই অবস্থা তারা গণতন্ত্র উদ্ধার করবে! যাদের জন্মই হয়নি গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে। জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের পকেট থেকে। হ্যাঁ, সেই দল কিছু রাজনীতি শিখেছে আমাদের কাছে যৌথ আন্দোলন করে। কারণ এরশাদবিরোধী আন্দোলন যখন আমরা করি ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কিছু শিখেছে। এটা হলো বাস্তব কথা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দারিদ্র্যের হার কমে গেছে। মানুষের খাবারের অভাব নেই। প্রচুর পরিমাণে খাবার আছে। আল্লাহর রহমতে উৎপাদনও ভালো হয়েছে। প্রত্যেকটা জিনিস আমরা আগে থেকে লক্ষ রাখি, ব্যবস্থা নিই।’

তিনি বলেন, ‘আমি ইংল্যান্ডের কথা জানি, দোকানে গেলে একটা পরিবার এক প্যাকেটের বেশি পাউরুটি কিনতে পারবে না। একটার বেশি ডিম খেতে পারবে না। সবকিছুই রেশন। বিদ্যুতের দাম দেড়শ’গুণ বাড়িয়েছে। একটি রুমের মধ্যে পরিবারের সবাই হিটার জ্বালিয়ে বসে থাকে। ওই ঠান্ডায় হিটার না জ্বালিয়ে তো আর টিকতে পারে না। কাজেই ওভাবে তাদের থাকতে হয়। সেই অবস্থায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, অর্থাৎ মন্দা দেখা দেয়—তার ধাক্কাটা আমাদের দেশে লাগবেই। কাজেই আমাদের আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে। খাদ্য যেমন উৎপাদন করতে হবে বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি তেল সবকিছু ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা, সেই ধাক্কা যেন বাংলাদেশে না লাগে। এদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে।’
গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকে টাকার কোনও সমস্যা নেই। দেশের প্রতিটি ব্যাংকে টাকা আছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি কথা আমি বলতে চাই, কিছু গুজব ছড়াচ্ছে। ব্যাংকে টাকা নাই, টাকা নাই বলে মানুষ টাকা তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমি আগেও বলেছি—ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ঘরে রাখলে চোরের পোয়া বারো। চোর চুরি করে খেতে পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি এসডিজি সচিব, অর্থ সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। আজ সকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের কোনও সমস্যা নেই, প্রতিটি ব্যাংকেই টাকা আছে। কাজেই আমি বলবো—গুজবে কেউ কান দেবেন না। এসব মিথ্যা কথা বলে একটা শ্রেণি বিভ্রান্ত করতে চায়। কারণ মিথ্যা কথায় তারা পারদর্শী।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগবিরোধী অপপ্রচারের যথাযথ জবাব দিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছিলাম বলে ঘর ভরে গেছে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এর উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, জবাবটা বেশি কিছু না, ওরা যখন আমাদের বিরুদ্ধে যেটা লেখে তার জবাবে ওদের অপকর্মটা যদি কমেন্টে ছেড়ে দেওয়া যায়, তাহলেই ওরা ওটা বন্ধ করে দেবে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে ভালো। ওরা যা বলবে বিএনপি ক্ষমতায় থেকে কি করেছে, তাদের অগ্নিসন্ত্রাস, তাদের খুন, কাকে কাকে মেরেছে, তাদের ভোট চুরি, ডাকাতি- এগুলো তুলে দিলেই যথেষ্ট। আমার মনে হয় ছাত্রলীগ এই কাজটা করতে পারবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাংকে টাকা নাই বলে কিছু গুজব ছড়ানো হচ্ছে। টাকা নেই বলে অনেকে টাকা তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকের থেকে টাকা নিয়ে ঘরে রাখলে চোরের পোয়াবারো, তারা চুরি করে খেতে পারবে। সে ব্যবস্থা করে দিচ্ছে কেউ কেউ, এদের সঙ্গে চোরের সখ্য রয়েছে কি না- সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতকাল রাতে তিনি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণবিষয়ক বৈঠক করেছেন এবং অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গেও কথা বলেছেন। আজ সকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও এ ব্যাপারে আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমাদের কোথাও কোনো সমস্যা নাই। প্রতিটি ব্যাংকেই টাকা আছে। কাজেই আমি বলব গুজবে কেউ কান দেবেন না। এটাই সবার কাছে আমার অনুরোধ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিথ্যে কথা বলে মানুষকে তারা বিভ্রান্ত করতে চায়। একটা শ্রেণি আছে তারা এটা করবেই আমি জানি। কারণ মিথ্যে কথায় তারা পারদর্শী। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি আর সেটাকেই আমাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগায় তারা। কাজেই এদিকে সবার বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দোয়া ও আশীর্বাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকেরই, যারা মেধাবী তাদের নিজেদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা যেমন নিজেদের করতে হবে, কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষাও দিতে হবে। কারণ, আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হলে দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থার দরকার। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনীতিও যেমন দরকার আবার সেইভাবে আমাদের প্রশাসন বা কারিগরি সব ধরনের শিক্ষার দরকার রয়েছে বলে জানান তিনি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের কথা ‘ফাঁস করলেন’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Update Time : ০৭:৪৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২

ডেস্ক রিপোর্ট :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল জনগণের রুদ্ররোষে। এটা বিএনপির জানা দরকার, মনে রাখা দরকার। জনগণের ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না। জনগণও জানে কীভাবে সেই সরকার উৎখাত করতে হয়। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। আমরা ভোট চুরি করতে যাব কেন? জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর বিএনপি জিতবে কীভাবে, ২০১৮ সালের নির্বাচন এক সিটে যদি তিন জন করে মনোনয়ন দেয়। এখানে ফখরুল একজনকে মনোনয়ন দেয়, রিজভী একজনকে দেয় আর লন্ডন থেকে তারেক দেয় আরেকজনকে। যে যত টাকা পায় সে ততটা মনোনয়ন দেয়, সেখানে হলো টাকার খেলা। তারপরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে বলে আমাদের নির্বাচন করতে দিলো না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেতা, অন্তত দুই জন আমার কাছে এসে নালিশ করে গেছে। সিলেটের ইনাম আহমেদ চৌধুরী এসে বললেন, দেখো আমার কাছে টাকা চেয়েছে তারেক জিয়া, আমি দিতে পারিনি। তাই আমার মনোনয়ন বাতিল করে যার কাছ থেকে টাকা পেয়েছে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। মোর্শেদ খান, তিনি নিজে এসে বলেছেন, তার কাছে মোটা অংকের টাকা চেয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি এ টাকা দিতে পারবো না। এর জন্য মনোনয়ন ক্যান্সেল (বাতিল)।’’ এই হলো তাদের ২০১৮-এর নির্বাচন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা আমাদের দেশের যারা বুদ্ধিজীবী অনেকে ভুলেই গেছে, এ কথাগুলো লিখবে। ওইভাবে নির্বাচন করে নির্বাচনে জেতা যায় না, এটা হলো বাস্তবতা। সকালে এক জনের নাম দেয়, দুপুরে আরেকটা নাম দেয়, বিকেলে আরেকটা নাম যায়। এইভাবেই হলো তাদের ইলেকশন যে ঢালো কড়ি, মাখো তেল। যে টাকা দেবে পেয়ে যাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে দলের এই অবস্থা তারা গণতন্ত্র উদ্ধার করবে! যাদের জন্মই হয়নি গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে। জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের পকেট থেকে। হ্যাঁ, সেই দল কিছু রাজনীতি শিখেছে আমাদের কাছে যৌথ আন্দোলন করে। কারণ এরশাদবিরোধী আন্দোলন যখন আমরা করি ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কিছু শিখেছে। এটা হলো বাস্তব কথা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দারিদ্র্যের হার কমে গেছে। মানুষের খাবারের অভাব নেই। প্রচুর পরিমাণে খাবার আছে। আল্লাহর রহমতে উৎপাদনও ভালো হয়েছে। প্রত্যেকটা জিনিস আমরা আগে থেকে লক্ষ রাখি, ব্যবস্থা নিই।’

তিনি বলেন, ‘আমি ইংল্যান্ডের কথা জানি, দোকানে গেলে একটা পরিবার এক প্যাকেটের বেশি পাউরুটি কিনতে পারবে না। একটার বেশি ডিম খেতে পারবে না। সবকিছুই রেশন। বিদ্যুতের দাম দেড়শ’গুণ বাড়িয়েছে। একটি রুমের মধ্যে পরিবারের সবাই হিটার জ্বালিয়ে বসে থাকে। ওই ঠান্ডায় হিটার না জ্বালিয়ে তো আর টিকতে পারে না। কাজেই ওভাবে তাদের থাকতে হয়। সেই অবস্থায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, অর্থাৎ মন্দা দেখা দেয়—তার ধাক্কাটা আমাদের দেশে লাগবেই। কাজেই আমাদের আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে। খাদ্য যেমন উৎপাদন করতে হবে বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি তেল সবকিছু ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা, সেই ধাক্কা যেন বাংলাদেশে না লাগে। এদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে।’
গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকে টাকার কোনও সমস্যা নেই। দেশের প্রতিটি ব্যাংকে টাকা আছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি কথা আমি বলতে চাই, কিছু গুজব ছড়াচ্ছে। ব্যাংকে টাকা নাই, টাকা নাই বলে মানুষ টাকা তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমি আগেও বলেছি—ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ঘরে রাখলে চোরের পোয়া বারো। চোর চুরি করে খেতে পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি এসডিজি সচিব, অর্থ সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। আজ সকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের কোনও সমস্যা নেই, প্রতিটি ব্যাংকেই টাকা আছে। কাজেই আমি বলবো—গুজবে কেউ কান দেবেন না। এসব মিথ্যা কথা বলে একটা শ্রেণি বিভ্রান্ত করতে চায়। কারণ মিথ্যা কথায় তারা পারদর্শী।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগবিরোধী অপপ্রচারের যথাযথ জবাব দিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছিলাম বলে ঘর ভরে গেছে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এর উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, জবাবটা বেশি কিছু না, ওরা যখন আমাদের বিরুদ্ধে যেটা লেখে তার জবাবে ওদের অপকর্মটা যদি কমেন্টে ছেড়ে দেওয়া যায়, তাহলেই ওরা ওটা বন্ধ করে দেবে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে ভালো। ওরা যা বলবে বিএনপি ক্ষমতায় থেকে কি করেছে, তাদের অগ্নিসন্ত্রাস, তাদের খুন, কাকে কাকে মেরেছে, তাদের ভোট চুরি, ডাকাতি- এগুলো তুলে দিলেই যথেষ্ট। আমার মনে হয় ছাত্রলীগ এই কাজটা করতে পারবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাংকে টাকা নাই বলে কিছু গুজব ছড়ানো হচ্ছে। টাকা নেই বলে অনেকে টাকা তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকের থেকে টাকা নিয়ে ঘরে রাখলে চোরের পোয়াবারো, তারা চুরি করে খেতে পারবে। সে ব্যবস্থা করে দিচ্ছে কেউ কেউ, এদের সঙ্গে চোরের সখ্য রয়েছে কি না- সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতকাল রাতে তিনি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণবিষয়ক বৈঠক করেছেন এবং অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গেও কথা বলেছেন। আজ সকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও এ ব্যাপারে আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমাদের কোথাও কোনো সমস্যা নাই। প্রতিটি ব্যাংকেই টাকা আছে। কাজেই আমি বলব গুজবে কেউ কান দেবেন না। এটাই সবার কাছে আমার অনুরোধ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিথ্যে কথা বলে মানুষকে তারা বিভ্রান্ত করতে চায়। একটা শ্রেণি আছে তারা এটা করবেই আমি জানি। কারণ মিথ্যে কথায় তারা পারদর্শী। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি আর সেটাকেই আমাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগায় তারা। কাজেই এদিকে সবার বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দোয়া ও আশীর্বাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকেরই, যারা মেধাবী তাদের নিজেদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা যেমন নিজেদের করতে হবে, কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষাও দিতে হবে। কারণ, আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হলে দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থার দরকার। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনীতিও যেমন দরকার আবার সেইভাবে আমাদের প্রশাসন বা কারিগরি সব ধরনের শিক্ষার দরকার রয়েছে বলে জানান তিনি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ