বাল্যবিবাহ রুখতে প্রধান শিক্ষকের সাহায্য চাইলো স্কুলছাত্রী
- Update Time : ০৭:০৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৯
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর হাজী উস্তাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী (শ্রাবনী কর (১৬)। বাল্য বিবাহ রুখতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছে। বাবা শমশেরনগর চা বাগানের দরিদ্র চা শ্রমিক রাম গড়। বাবা অপ্রাপ্ত বয়সে মেয়ের বিয়ে দিতে পাত্রপক্ষকে নিয়ে রোববার (২৮ এপ্রিল) আলোচনায় বসবেন। ছাত্রীটি আরও লেখা পড়া করে প্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করতে চায়। বিষয়টি বাবাকে বোঝালেও কোন কাজ হচ্ছে না।
অবশেষে নিজেই বাল্যবিবাহ রোধ করতে ও বিবাহের হাত থেকে রক্ষা করার সাহায্য চেয়ে শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন করে। ছাত্রীর আবেদন পেয়ে হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো, নুরে আলম সিদ্দিক শনিবার দুপুরেই দ্রুত পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ সদস্যদের ডেকে এনে আলোচনাক্রমে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, তিনি সরকারি কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিষয়টি তিনি শুনেই বর্তমানে কমলগঞ্জের নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমী আক্তারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশনা দিয়েছেন।
হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলম সিদ্দিক বলেন, ছাত্রীর আবেদন পেয়ে পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমী আক্তারের ফোন পেয়ে তিনি (প্রধান শিক্ষক) নিজে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে গিয়ে ছাত্রী আবেদনটি দিয়ে এসেছেন।
ছাত্রীর বাবা রাম কর বলেন, সুযোগমত একটি ভাল বর পেয়েছেন। তাই বিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এটি একটি বাল্যবিবাহ হবে আর বাল্য বিবাহ আইননত দন্ডনীয় অপরাধ বলতে তিনি বলেন, বিয়ে ঠিক করে রেখে দিবেন। পরে মেয়ের বিয়ে দিবেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমী আক্তার বাল্যবিবাহের চেষ্টার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রোববার ছাত্রীর বাড়িতে বরপক্ষ আসলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।





























