বাল্যবন্ধুর স্মৃতি : কর্ণেল সৈয়দ অালী অাহমদ
- Update Time : ০৪:১৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মনটা খুব খারাপ। আমার বাল্যবন্ধু পাশের গ্রামের শাহজাহান (সাজন মিয়া) মারা গেলো। ক্লাস সিক্স এ আমরা সৈয়দপুর জুনিয়র স্কুলে ভর্তি হই ১০ এপ্রিল ১৯৬৩। খাতায় নাম তোলা হয়। ১। সৈয়দ আলী আহমদ ২। সৈয়দ তৈফুর আহমদ ৩। মোহাম্মদ শাহজাহান ৪। সৈয়দ হাফিজ আলী সহ মোট ১৭ বা ১৮ জন। সেভেনে সৈয়দ মিজানুর রহমান, সৈয়দ নজমুল হোসেন, সৈয়দ সালেহ আহমদ, সৈয়দ নুরুল ইসলাম সর্দার সহ ১২ / ১৩ জন। শুরুতে অষ্টম শ্রেণী ছিলনা। সেভেনের সিরিয়াল মনে নেই। জুনমাসে সঠিক ছাত্র হাজিরা খাতা তৈরি হয়।
১৩ এপ্রিল স্কুল উদ্বোধন করেন পীর বাড়ির মাস্টার সৈয়দ বশিরুল হক (আছকির মিয়া)। চৌধুরী বাড়ির দুশো বছরের পুরনো বাংলাতে বাঁশের চাটাই দিয়ে পার্টিশন দিয়ে ক্লাস আলাদা করা হলো। আমি আর শাজাহান দুই স্কুলের দুই ফার্স্ট বয় একত্রে বসতাম। আফরাজ কোরেশি শাজাহানের সংগে ইয়ারানা করে একত্রে বসতে চায়। ৩০ এপ্রিল বৃত্তির পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে আমি ২ মে আমার পঞ্চমশ্রেণীর মূল টিসি নিয়ে জগনাথপুর হাইস্কুলে ভর্তি হই। আবাসিক বৃত্তির টাকা অনুমোদিত স্কুলে পাওয়া যায়না। বর্ষার জন্য সুনামগঞ্জ জুবিলি স্কুলে যেতে পারিনি।
দুই সপ্তাহ ক্লাস করে আমি ক্লাসে প্রাধান্য রেখেছি।শাজাহান, আতাউর রহমান তেঘরি থেকে আসতো। আতাউর পরে সম্ভবত পাইলগাও চলে যায়।
শাজাহান আফরাজকে ইয়ার আর আমাকে বন্ধু বলতো। এসএসসি পাশ করে সিলেট এমসি কলেজে মানবিকে ভর্তি হলাম। শাজাহান ও ভর্তি হলো। পাশাপাশি রুমে থাকতাম।
আমার তখন কবি ও ছড়াকার হিসাবে বেশ ভালো পরিচিতি। যুগভেরী এবং ঢাকার আজাদ পত্রিকায় ও জাহানে নও তে ছড়া ও পদ্য ছাপা হত। শাজাহান গল্প লিখতো। তার সব গল্পের নায়িকার নাম এক। পাঠক এবং শ্রোতা ছিলাম আমি। আর কেউ তার বিশ্বস্ত ছিলোনা। যদি হাসাহাসি করে। আমি যেহেতু তার বিচারে ভালো লেখক তাই আমার কাছে নি:সঙ্কুচ। এইচএসসি পাশ করে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে ভর্তি হই। শাজাহান সরকারি কলেজে বিএ পড়ে।
চাকুরিজীবনে আমি বগুড়া, চট্টগ্রাম, যশোর, ঢাকা, কুমিল্লায় দৌড়াই আর শাজাহান কম পয়সায় চাকুরি পোষাবেনা বলে বাড়িতেই থাকে। একবার অর্থকষ্টের সময় তাকে প্রাইমারি তে ঢুকাতে চাই। সে মিসকিন হতে রাজী হয়নি।
অসাধারন কথাবার্তা বলতো। আমার মাকে একবার বললো, সে মশাকে গায়ে বসিয়ে ভিটামিন খাওয়ায়। আর একবার বললো, পুছ করে ছেলেমেয়ে হয়ে যায়। কী খেতে পাবে তা না জেনেই বাচ্চারা পৃথিবীতে চলে আসে।
জীবনে কখনো ধার বা সাহায্য চাইলোনা। প্রবল আত্মবিশ্বাস ও প্রচন্ড আত্মসম্মান বোধ নিয়ে ৬৮ বছর বেঁচে থাকলো। কখনো কোথাও মাথা নত করেনি।
শাজাহান, সৎ নির্লোভ অহংকারি বন্ধু আমার। এভাবেই চলে গেলো। সেপ্টেম্বর মাসে ওর বাড়িতে গিয়েছিলাম। আড্ডা দিলাম। চা খেলাম। সে ডাক্তারি করতো। হোমিওপ্যাথি ধরেছিলো। জানতে চাইলাম, নবযৌবন শালসা বেচে কিনা। বললো, খরিদার আগে পাইনি। এখন পেলাম, দেখবো। চমৎকার উপস্থিত বুদ্ধি ও রসবোধ। ভালো থেকো বন্ধু। ইমানদার ও তাকওয়াবান বন্ধু আমার। আল্লাহ তোমাকে নাজাত দান করুন। আমীন।
লেখক: লে. কর্ণেল অব. সৈয়দ অালী অাহমদ: জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ, সিলেট।





























