০৬:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসনের নির্বাচনী হালচাল

  • Update Time : ০৬:১৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

উমর ফারুক শাবুল, বানিয়াচং থেকে :: বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে হবিগঞ্জ-২ আসন গঠিত। বানিয়াচংয়ে উপজেলায় ১৫টি ও হাওরবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জ ৫টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা রয়েছে এ আসনটিতে। আসনটিতে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার ভোটার রয়েছে। এ আসনটি আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত।

 

 

 

 

১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোট ছাড়া বাকি সব নির্বাচনেই জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। গত ১০ বছর ধরে এ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ।

 

 

২০০৮ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে এক লাখ ২২ হাজার ২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ৬৭ হাজার ৬৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।
২০১৪ সালের নির্বাচনেও এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর পালকে হারিয়ে বিজয়ী হন। বর্তমানেও এমপি আব্দুল মজিদ খান নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের আরও একাধিক প্রার্থী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মাঠে সক্রিয়।

 

 

নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শরীফ উদ্দিন আহমেদ। ১৯৯৬ সালেও তিনি এমপি হন। তার মৃত্যুর পর ১৯৯৭ সালে উপনির্বাচনে এমপি হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা বর্ষীয়ান নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

 

২০০১ সালের ভোটে এমপি হন আওয়ামী লীগের শিল্পপতি নজমুল হাসান জাহেদ।

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের আশায় মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসন মাস্টার। এ ছাড়াও মাঠে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েল। জাতীয় সংসদের সাবেক আইন কর্মকর্তা ব্যারিস্টার এনামুল হক। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিশু ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহ্ফুজা বেগম সাঈদা এবং হবিগঞ্জ জেলা কৃষক লীগ সভাপতি হুমায়ূন কবির রেজা। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নওশাদ উদ্দীন সুজন।

 

 

এদিকে, আগামী নির্বাচনে আসনটি দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি। নির্বাচন ঘিরে মাঠ পর্যায়ে জোড়েশোড়ে কাজ করছে বিএনপি নেতারা। ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পাওয়ার পর দলে কার্যক্রম দ্রুতগতিতে বৃদ্দি পেয়েছে। এই প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সৌদি আরব বিএনপি সভাপতি আহমেদ আলী মুকিব আব্দুল্লাহ।

 

 

জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর পাল দলীয় নেতা কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। তার হাত ধরেই জাতীয় পার্টি আজ অনেকটা শক্তিশালী। কেন্দ্রীয় ছাত্রসমাজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদিকুর মিয়া তালুকদারও মাঠে সক্রিয়। মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রের সঙ্গে জোর লবিং চালাচ্ছেন জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবিদ আলী চৌধুরীর মেয়ের জামাতা অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম।

 

 

এদিকে, বিশ দলীয় জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আল্লামা আব্দুল বাছিত আজাদ নিয়মিত নির্বাচনীয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে কমিটি গঠন করে নির্বাচনী কাজ করে যাচ্ছেন। এখানে তার অবস্থানও খুব ভালো বলে জানিয়েছেন জন সাধারণ। তার অগনিত ছাত্র শিক্ষক রয়েছে এ আসনটিতে। বিশ দলীয় জোটের কাছে যে কয়টি আসন দাবি করবে তার মধ্যে এ আসটিও দাবি করবে খেলাফত মজলিস।

 

 

জামায়াতের কার্যক্রম চোখে না পড়লেও উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রাজ্জাক খান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী কাজ করছেন বলে একটি সুত্র জানিয়েছেন। দলীয় প্রতিক ও নিবন্ধন বাতিল হলেও দলীয় কার্যক্রমে রয়েছে সক্রিয়তা।

 

 

কেন্দ্রীয় জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী দলীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নির্বাচনী কাজ করে যাচ্ছেন। তারাও বিশ দলীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এ আসনের জন্য দাবি জানাবেন।

 

সাংবাদিক আফসার আহমদ রূপক এ আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সব মিলিয়ে এ আসনের নির্বাচনে এবার চমক থাকবে বলে মনে করেন ভোটাররা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসনের নির্বাচনী হালচাল

Update Time : ০৬:১৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮

উমর ফারুক শাবুল, বানিয়াচং থেকে :: বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে হবিগঞ্জ-২ আসন গঠিত। বানিয়াচংয়ে উপজেলায় ১৫টি ও হাওরবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জ ৫টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা রয়েছে এ আসনটিতে। আসনটিতে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার ভোটার রয়েছে। এ আসনটি আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত।

 

 

 

 

১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোট ছাড়া বাকি সব নির্বাচনেই জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। গত ১০ বছর ধরে এ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ।

 

 

২০০৮ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে এক লাখ ২২ হাজার ২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ৬৭ হাজার ৬৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।
২০১৪ সালের নির্বাচনেও এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর পালকে হারিয়ে বিজয়ী হন। বর্তমানেও এমপি আব্দুল মজিদ খান নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের আরও একাধিক প্রার্থী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মাঠে সক্রিয়।

 

 

নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শরীফ উদ্দিন আহমেদ। ১৯৯৬ সালেও তিনি এমপি হন। তার মৃত্যুর পর ১৯৯৭ সালে উপনির্বাচনে এমপি হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা বর্ষীয়ান নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

 

২০০১ সালের ভোটে এমপি হন আওয়ামী লীগের শিল্পপতি নজমুল হাসান জাহেদ।

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের আশায় মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসন মাস্টার। এ ছাড়াও মাঠে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েল। জাতীয় সংসদের সাবেক আইন কর্মকর্তা ব্যারিস্টার এনামুল হক। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিশু ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহ্ফুজা বেগম সাঈদা এবং হবিগঞ্জ জেলা কৃষক লীগ সভাপতি হুমায়ূন কবির রেজা। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নওশাদ উদ্দীন সুজন।

 

 

এদিকে, আগামী নির্বাচনে আসনটি দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি। নির্বাচন ঘিরে মাঠ পর্যায়ে জোড়েশোড়ে কাজ করছে বিএনপি নেতারা। ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পাওয়ার পর দলে কার্যক্রম দ্রুতগতিতে বৃদ্দি পেয়েছে। এই প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সৌদি আরব বিএনপি সভাপতি আহমেদ আলী মুকিব আব্দুল্লাহ।

 

 

জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর পাল দলীয় নেতা কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। তার হাত ধরেই জাতীয় পার্টি আজ অনেকটা শক্তিশালী। কেন্দ্রীয় ছাত্রসমাজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদিকুর মিয়া তালুকদারও মাঠে সক্রিয়। মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রের সঙ্গে জোর লবিং চালাচ্ছেন জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবিদ আলী চৌধুরীর মেয়ের জামাতা অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম।

 

 

এদিকে, বিশ দলীয় জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আল্লামা আব্দুল বাছিত আজাদ নিয়মিত নির্বাচনীয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে কমিটি গঠন করে নির্বাচনী কাজ করে যাচ্ছেন। এখানে তার অবস্থানও খুব ভালো বলে জানিয়েছেন জন সাধারণ। তার অগনিত ছাত্র শিক্ষক রয়েছে এ আসনটিতে। বিশ দলীয় জোটের কাছে যে কয়টি আসন দাবি করবে তার মধ্যে এ আসটিও দাবি করবে খেলাফত মজলিস।

 

 

জামায়াতের কার্যক্রম চোখে না পড়লেও উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রাজ্জাক খান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী কাজ করছেন বলে একটি সুত্র জানিয়েছেন। দলীয় প্রতিক ও নিবন্ধন বাতিল হলেও দলীয় কার্যক্রমে রয়েছে সক্রিয়তা।

 

 

কেন্দ্রীয় জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী দলীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নির্বাচনী কাজ করে যাচ্ছেন। তারাও বিশ দলীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এ আসনের জন্য দাবি জানাবেন।

 

সাংবাদিক আফসার আহমদ রূপক এ আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সব মিলিয়ে এ আসনের নির্বাচনে এবার চমক থাকবে বলে মনে করেন ভোটাররা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ