বাউল কামাল পাশা ও দুর্বিন শাহ কে স্বীকৃতি দানের প্রতিশ্রুতি দিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি
- Update Time : ০৫:১৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট ২০২৩
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেছেন, জঙ্গীবাদ,গুজব ও অপসংস্কৃতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মহাণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। প্রতিমন্ত্রী সোমবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত নৃত্য ও আবৃত্তি মিলনায়তনে সংগীতের রাজধানী খ্যাত সিলেট অঞ্চলের ৩ গুণী মরমী সাধক আরকুম শাহ,গানের সম্রাট বাউল কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) এবং জ্ঞানের সাগর দুর্বিন শাহ স্মরণে বাংলাদেশ সংস্কৃতি ফোরাম’ আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন,বর্তমান সরকারের আমলেই দেশে-বিদেশে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী ও সমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতি যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে এবং প্রচার-প্রসার ঘটেছে। তিনি বলেন,বাউল কামাল পাশা কে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদানের জন্য মন্ত্রণালয়ে ৮ বার প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে এটা আমার নজরে ঠিকমতো পড়েনি। আমরা চেষ্টা করবো বাউল কামাল পাশা ও দূর্বিণ শাহ এর মতো নক্ষত্রতূল্য মরমী সাধকরা যাতে আগামীতে মূল্যায়ন ও সরকারের স্বীকৃতি পান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি,জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী,নাবিহা এক্সপ্রেস এর চেয়ারম্যান সেলিনা চৌধুরী,সংগীত শিল্পী আকরামুল ইসলাম প্রমুখ। বাংলাদেশ সংস্কৃতি ফোরামের সভাপতি মফিজ উদ্দিন আহমেদ (আহমেদ ফরিদ) এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোকাম্মেল হোসেন চৌধুরী মেনন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সুফীসাধক আরকুম শাহ এর জীবন দর্শন নিয়ে সিলেট জেলা বাউল সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন রাসেল,বাউল কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) এর জীবন ও দর্শন নিয়ে বাউল সাংবাদিক আল-হেলাল ও দূর্বিণ শাহের স্মৃতিচারণ করে কবিপুত্র আলম শাহ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়েছুর রহমান চৌধুরী, উৎস প্রকাশনের স্বত্বাধীকারী মোস্তফা সেলিম, জালালাবাদ সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জয়ন্ত কুমার দেব মাধব, জালালাবাদ সংস্কৃতি পরিষদের সমন্বয়ক মাহবুব আলম মালু, জালালাবাদ সংস্কৃতি পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক নেওয়াজ চৌধুরী, সাংবাদিক জাকির হোসেন, আ ফ ম সিরাজুল ইসলাম শামীম, গীতিকার আব্দুল কাইয়ুম, স্বপ্নীল সংগঠন এর সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম টিপু,পালকী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি অভিনেতা এবি বাদল, ঢাকা সংগীত একাডেমির সভাপতি রোজান ইসলাম দিলীপ, বাংলাদেশ সংস্কৃতিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ আখন্দ,সাংবাদিক সালমা আক্তার লিজা ও সংগঠক রাজীব রায়সহ প্রমুখ। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠাণে ৩ সাধকের গান পরিবেশন করেন সুনামগঞ্জ জেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি বাউল শাহজাহান সিরাজ, বাউল কামাল পাশা সংস্কৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক বাউল আল-হেলাল,শিল্পী নুনু আল গাজী,কন্ঠশিল্পী মেহেরুন আশরাফ,সুমি সরকার,রঞ্জিত কুমার তালুকদার,মুকুল কান্তি দে, অজিত কুমার রায়,বুলবুল আহমেদ, রওনক বিশাকা শ্যামলী, আরিফুর রহমান,হীরা ও আল আমিন। সংগীত শিল্পীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নারগীস নীলা, মেঘলা অন্তরা, মাহমুদা আক্তার মুক্তিসহ আরও অনেকেই। আগত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করেন মেঘলা সুমী, মিস্টি সুবাস, এড ছালমা আক্তার ও ঐশী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন তাসনীম বিনতে শেখ। অনুষ্ঠানে আরকুম শাহ রচিত কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে ফুলে পাইলা ভ্রমরা,সোনারও পিঞ্জিরা আমার করিয়া গেলায় খালিরে,বাউল কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) রচিত দিন দুনিয়ার মালিক খোদা দিলকি দয়া হয়না,প্রেমের মরা জলে ডুবেনা ও প্রেম করতে দুইদিন ভাঙ্গতে একদিন এমন প্রেম আর কইরোনা,নৌকা আগে আগে চলেরে ঐ নৌকাটা শেখ মুজিবের এবং দূর্বিণ শাহ রচিত প্রেমসেল বিন্দিল বুকে মরি হায় হায় আমার অন্তরায় ও নির্জনও যমুনার কুলে বসিয়া কদম্বতলে বাজায় বাঁশি বন্ধু শ্যামরায়সহ ৩ মরমী সাধকের কালজয়ী গান পরিবেশন করা হয়। এর আগে প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৩ এর পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন একাডেমির সচিব সালাহউদ্দিন আহাম্মদ। উল্লেখ্য, জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ৬৪ জেলা থেকে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারী এবং ঢাকা মহানগর থেকে শুধু ১ম স্থান অধিকারীসহ মোট ১৩৬৫ জন প্রতিযোগিকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৩। পঞ্চগীতি কবির গান, লোকসঙ্গীত, দেশাত্ববোধক গান, সাধারণ নৃত্য, শাস্ত্রীয় নৃত্য, একক আবৃত্তি এবং একক অভিনয়সহ মোট সাতটি বিভাগের আওতায় ২১ টি শাখায় চূড়ান্তভাবে সর্বমোট ৬৩ জন প্রতিযোগী বিজয়ী হয়। গত ২৭ জুলাই প্রথমবারের মতো উপজেলা সাহিত্যমেলার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়।



















