প্রেমের সম্পর্ক ফাঁস করায় শিশুকে স্বাসরোধে হত্যা
- Update Time : ০৪:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আইলাবই গ্রামের আলোচিত তাকমিনা আক্তার লিজা (৯) ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), হবিগঞ্জ। ২০২১ সালের ২১ জুলাই ঈদ-উল-আযহার দিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সেলিনা বেগম তার মেয়ে তাকমিনা আক্তার লিজাকে পাশের গন্ধব্যপুর গ্রামের একটি দোকান থেকে নুডুলস ও প্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্য সামগ্রী কিনে আনার জন্য পাঠায়। পরবর্তীতে তার মেয়ে নুডুলস নিয়ে বাড়ীতে ফিরে না আসলে আশেপাশের সম্ভাব্য সকল স্থানে ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে খোঁজাখুজি করে মেয়ের কোন সন্ধান না পেয়ে সেলিনা বেগম মাধবপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন। পরবর্তীতে ২৫ জুলাই সকাল ১১ টার দিকে দু’জন মহিলা গ্রামের বাঁশ ঝাড়ের ভিতরে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে ভিকটিম লিজার অর্ধ-গলিত মৃতদেহ দেখতে পান এবং ভিকটিমের মা সেলিনা বেগমকে সংবাদ দেন। তাৎক্ষনিকভাবে সেলিনা বেগম ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে তার মেয়ের অর্ধ-গলিত মৃতদেহ শনাক্ত করেন।
লাশ উদ্ধারের পর লিজার বাবা বহরা ইউপি’র সদস্য মো. সাগর আলী বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ক্লুলেস হওয়ায় পিবিআই হবিগঞ্জ ইউনিটকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহনেওয়াজ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমেিতিন আসামি বাহার উদ্দিন, খাদিজা আক্তার তাজরীন ও আমেনা খাতুন আঞ্জুকে গ্রেফতার করেন। মামলাটি তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য প্রমানে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামি খাদিজা আক্তার তাজরেনের ছোট ভাই তাকবীর হাসানের(২০) সাথে পার্শ্ববর্তী বাড়ীর জনৈক সিরাজের মেয়ে শান্তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।সম্পর্ক চলাকালীন সময় একদিন সন্ধ্যায় তাদের বাড়ীর পাশে শান্তা এবং তাকবীর দেখা করার সময় লিজা তাদের দেখে ফেলে। পরবর্তীতে লিজা ঘটনাটি শান্তার মাকে জানায়। শান্তার মা বিষয়টি জানার পর শান্তাকে গালি-গালাজ করে এবং শান্তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। একপর্যায়ে শান্তার সাথে তাকবীরের প্রেমের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে তাকবীর ভিকটিম লিজার উপর ক্ষুদ্ধ হয় এবং তাকে শায়েস্তা করার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২১জুলাই সকাল ৭টার দিকে লিজা পাশের গন্ধব্যপুর গ্রামের দোকান থেকে নুডুলস ও জর্দ্দার কৌটা কিনে বাড়ি ফেরার পথে তাকবীর নির্জন জায়গায় তাকে মামা ওয়েফার নামক চকলেটের লোভ দেখিয়ে ভুলিয়ে তাদের বাড়ির মাটির ঘরে নিয়ে গিয়ে গলা টিপে হত্যা করে। হত্যার পর লিজার লাশ সে তার পরিবারের সহায়তায় বস্তাবন্দি করে বসতঘর সংলগ্ন গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখে। হত্যার ৪ দিন পর ২৪ জুলাই মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে তাকবীর তার পরিবারের লোকজন ও আসামি বাহার উদ্দেনের সহায়তায় রাতের আঁধারে মৃত দেহটি আইলাবই গ্রামের একটি বাঁশ ঝাড়ের ভিতরে ফেলে দেয়। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গ্রেফতারকৃত আসামি বাহার উদ্দিন ও খাদিজা আক্তার তাজরীনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহনেওয়াজ।




























