প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত- সৈয়দ মবনু
- Update Time : ০৫:১২:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সৈয়দ মবনু :
আমার বাবা আলহাজ্ব সৈয়দ আতাউর রহমানের খুব দীর্ঘ সময়ের ঘণিষ্ট বন্ধু, সিলেট জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার মাদরাসার প্রিন্সিপাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান গতকাল ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাত অনুমানিক ১২টার দিকে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন।
প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান একটি আলোচিত নাম, স্বসময়ে ইতিহাসের একটি অধ্যায়। বাংলাদেশের অনেক আলোড়ন সৃষ্টিকারি আন্দোলনের স্থপতি। তাঁর সবচে বড় কৃতিত্ব সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার মাদরাসা। সুরমা নদীর তীরে পেয়াজহাটা মসজিদে যখন তিনি ইমাম ও খতিব ছিলেন তখন নদীর তীর ঘেষে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই মাদরাসা। সময়ের ব্যবধানে তা সম্প্রসারিত হয়ে বিশাল প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এই মাদরাসাকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে তিনি নিজের জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত ব্যয় করেছেন। মুখোমুখি হয়েছেন অনেক হামলা এবং মামলার। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় তিনি আপোষ করলেও জামেয়া মাদানিয়াকে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখতে কোনদিন আপোষ করেননি।
প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের জন্ম ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৮ জুলাই সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার হাজিপুর গ্রামে। হাজিপুর ‘ঘনশ্যাম’ নামেও অনেকের কাছে পরিচিত। তাঁর বাবা ছিলেন মাওলানা মাহমুদ আলী। তিনি সিলেট শহরের হাওয়াপাড়া মসজিদে দীর্ঘদিন ইমাম ছিলেন। মা ছিলেন আছিয়া খাতুন। প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের শিক্ষা জীবনের শুরু ফুলবাড়ির বইটিকর প্রাইমারী স্কুল থেকে। পরে কিছুদিন রুস্তুমপুর কওমি মাদরাসায় পড়ে ভর্তি হন ফুলবাড়ি আজিজিয়া আলিয়া মাদরাসায়। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে কৃতিত্বের সাথে ফাজিল এবং ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে সিলেট আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করেন।
সুরমা নদীর তীরে কাজির বাজার পেয়াজহাটা মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসাবে তিনি ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি মসজিদের পাশে একেবারে নদীর টানআইলে প্রতিষ্ঠা করেন জামেয়া মাদানিয়া মাদরাসা। প্রথমে তা মক্তব মাদরাসা হলেও পরবর্তিতে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ, সাধনা বিনিময় মাদরাসাটি বিরাট আকার ধারণ করে।
ছাত্র জীবন থেকেই তিনি তাঁর বাবার সূত্রে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। পরে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর হযরত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (র.) কর্তৃক খেলাফত আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এতে যোগ দেন। খেলাফত আন্দোলন ভেঙে শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক কর্তৃক খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এতে যোগদিয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব আদায় করেন। মৃত্যুকালিন সময় তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীরের দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়াও ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে সিলেট এমসি কলেজের অধ্যাপক সর্দার আলাউদ্দিন কর্তৃক পবিত্র কোরআন অবমাননা, ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে ভারতে বাবরী মসজিদ ভাঙা, ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে সাহাবাদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলাম কর্তৃক অবমাননা, ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে বিতর্কিত লেখিকা তাসলিমা নাসরিন কর্তৃক ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে কটাক্ক করে বই লেখা ইত্যাদির বিরুদ্ধে গর্জে উঠা আন্দোলনে প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান রাজনীতি এবং শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখিও করতেন। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অনুমানিক ২০টির মতো বই রয়েছে। অধ্যাত্মিকতায় তিনি ছিলেন শায়খুল ইসলাম আল্লামা সৈয়দ হোসেন আহমদ মাদানী (র.)-এর অন্যতম খলিফা আল্লামা আব্দুল জলিল বদরপুরী (র.) শিষ্য।
আজ ১৯ অক্টোবর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসার মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করে সবাইকে তাঁর জানাজায় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরুদ করছি।



















