০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক বদলি নীতিমালায় আবার ও পরিবর্তন আসছে

  • Update Time : ০৪:০৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি নীতিমালায় আবারও পরিবর্তন আনছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের বদলিতে আরেকটু শিথিল করে ২০১৫ সালের বদলি নীতিমালার কিছু ধারা পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। এতে বছরের যে কোনো সময় শিক্ষক বদলি করার সুযোগ থাকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায়, কোনো নারী শিক্ষিকাকে তার স্বামীর কর্মস্থলে (সিটি করপোরেশন ছাড়া) বদলি, তফসিলভুক্ত ব্যাংক এবং ইনডেক্সধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ সুযোগ চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ দুইবার নিতে পারবে। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর এ বিষয়ে সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। সুপারিশ ও মতামত দেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আরেকটি সভা করে সংশোধিত বদলি নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল  বলেন, শিক্ষক বদলির কিছু জটিলতা ছিল। এটার দূর করতেই নীতিমালায় সংশোধন আনা হচ্ছে। শিক্ষক বদলির কিছু ধারায় নতুন প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নীতিমালা চূড়ান্ত হলে শিক্ষক বদলি আরও সহজতর হবে। চাকরি ছেড়ে দেওয়া বা ঝুঁকি নিয়েই চাকরি করার প্রবণতাও কমে যাবে। খসড়ার ওপর মতামত দিতে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। সবার মতামত পাওয়ার পর ডিসেম্বরের মধ্যে এটি কার্যকর করা যাবে।

প্রণীত খসড়ার ৩-এর ৯ ধারায় বলা হয়েছে, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকারা স্বামীর কর্মস্থল এলাকা বা এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বদলি (পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে) হতে পারবেন। আগে স্বামীর নিজ জেলায় শিক্ষিকারা বদলি হতে পারলেও স্বামীর কর্মস্থল এলাকায় বদলিতে অনেক জটিলতা পোহাতে হতো, যা ছিল অনেকটা দুঃসাধ্য সাধনের কাজ। এই পরিবর্তন হলে মানবিক কারণসহ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে সারা বছর বদলির আবেদন করা যাবে। ফলে স্বামীর সঙ্গেই থাকতে পারবেন প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকারা। ২০১৫ সালে শিক্ষকের স্ত্রী/স্বামী সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি করলে সেখানে কর্মস্থলে বদলির করা যেত। আধাসরকারি ধারায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ‘আধাসরকারি’ শব্দটি বাদ দিয়ে নতুন করে তফসিলভুক্ত ব্যাংক ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কর্মস্থলে বদলি হওয়া যাবে বলে ধারায় বলা হয়খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, চাকরি পাওয়ার পর নারী শিক্ষকদের বিয়ে হলে স্বামীর কর্মস্থলের পার্শ্ববর্তী স্কুলে বদলি হতে পারবেন।

প্রতিবন্ধী শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানার পার্শ্ববর্তী এলাকার স্কুলে বদলি করা যাবে। স্বামী মারা গেলে বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সুবিধামতো স্থানসহ বিশেষ কোনো কারণে বছরের যে কোনো সময় বদলি হওয়া যাবে। দুর্গম এলাকায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা চাকরির মেয়াদ ১০ বছরের পরিবর্তে ৫ বছর পর নিজ এলাকায় বদলি হতে পারবেন। জাতীয়করণ অনেক শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা প্রেষণে নিজ জেলায় বদলি হতে পারবেন। তবে, সাধারণ বদলির ক্ষেত্রে বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আবেদনের সময় নির্ধারিত রয়েছে। আগের মতো শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হলে বদলি আবেদন করতে পারবেন। আর দুই বছরের মধ্যেই নিজ জেলায় বদলি আবেদন করতে পারবেন। এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বদলির আবেদন করা যাবে না। তবে বিশেষ কারণে যেকোনো সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক, প্রাথমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিভাগীয় উপ-পরিচালকের সুপারিশে সুবিধামতো স্থানে বদলি হওয়া যাবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক বদলি নীতিমালায় আবার ও পরিবর্তন আসছে

Update Time : ০৪:০৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি নীতিমালায় আবারও পরিবর্তন আনছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের বদলিতে আরেকটু শিথিল করে ২০১৫ সালের বদলি নীতিমালার কিছু ধারা পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। এতে বছরের যে কোনো সময় শিক্ষক বদলি করার সুযোগ থাকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায়, কোনো নারী শিক্ষিকাকে তার স্বামীর কর্মস্থলে (সিটি করপোরেশন ছাড়া) বদলি, তফসিলভুক্ত ব্যাংক এবং ইনডেক্সধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ সুযোগ চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ দুইবার নিতে পারবে। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর এ বিষয়ে সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। সুপারিশ ও মতামত দেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আরেকটি সভা করে সংশোধিত বদলি নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল  বলেন, শিক্ষক বদলির কিছু জটিলতা ছিল। এটার দূর করতেই নীতিমালায় সংশোধন আনা হচ্ছে। শিক্ষক বদলির কিছু ধারায় নতুন প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নীতিমালা চূড়ান্ত হলে শিক্ষক বদলি আরও সহজতর হবে। চাকরি ছেড়ে দেওয়া বা ঝুঁকি নিয়েই চাকরি করার প্রবণতাও কমে যাবে। খসড়ার ওপর মতামত দিতে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। সবার মতামত পাওয়ার পর ডিসেম্বরের মধ্যে এটি কার্যকর করা যাবে।

প্রণীত খসড়ার ৩-এর ৯ ধারায় বলা হয়েছে, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকারা স্বামীর কর্মস্থল এলাকা বা এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বদলি (পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে) হতে পারবেন। আগে স্বামীর নিজ জেলায় শিক্ষিকারা বদলি হতে পারলেও স্বামীর কর্মস্থল এলাকায় বদলিতে অনেক জটিলতা পোহাতে হতো, যা ছিল অনেকটা দুঃসাধ্য সাধনের কাজ। এই পরিবর্তন হলে মানবিক কারণসহ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে সারা বছর বদলির আবেদন করা যাবে। ফলে স্বামীর সঙ্গেই থাকতে পারবেন প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকারা। ২০১৫ সালে শিক্ষকের স্ত্রী/স্বামী সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি করলে সেখানে কর্মস্থলে বদলির করা যেত। আধাসরকারি ধারায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ‘আধাসরকারি’ শব্দটি বাদ দিয়ে নতুন করে তফসিলভুক্ত ব্যাংক ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কর্মস্থলে বদলি হওয়া যাবে বলে ধারায় বলা হয়খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, চাকরি পাওয়ার পর নারী শিক্ষকদের বিয়ে হলে স্বামীর কর্মস্থলের পার্শ্ববর্তী স্কুলে বদলি হতে পারবেন।

প্রতিবন্ধী শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানার পার্শ্ববর্তী এলাকার স্কুলে বদলি করা যাবে। স্বামী মারা গেলে বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সুবিধামতো স্থানসহ বিশেষ কোনো কারণে বছরের যে কোনো সময় বদলি হওয়া যাবে। দুর্গম এলাকায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা চাকরির মেয়াদ ১০ বছরের পরিবর্তে ৫ বছর পর নিজ এলাকায় বদলি হতে পারবেন। জাতীয়করণ অনেক শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা প্রেষণে নিজ জেলায় বদলি হতে পারবেন। তবে, সাধারণ বদলির ক্ষেত্রে বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আবেদনের সময় নির্ধারিত রয়েছে। আগের মতো শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হলে বদলি আবেদন করতে পারবেন। আর দুই বছরের মধ্যেই নিজ জেলায় বদলি আবেদন করতে পারবেন। এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বদলির আবেদন করা যাবে না। তবে বিশেষ কারণে যেকোনো সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক, প্রাথমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিভাগীয় উপ-পরিচালকের সুপারিশে সুবিধামতো স্থানে বদলি হওয়া যাবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ