অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান : এত প্রাণখোলা আড্ডাবাজ মানুষ তা জানা ছিলো না- সৈয়দ মবনু
- Update Time : ০৩:০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জানুয়ারি ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান : এত প্রাণখোলা আড্ডাবাজ মানুষ তা জানা ছিলো না
সৈয়দ মবনু
আমি তাঁর গ্রাম শান্তিগঞ্জে বিভিন্ন কারণে বেশ কবার গিয়েছি। তাঁর নির্বাচনি এলাকা জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর হলো আমার বাপ-দাদার বাড়ি। এসব সূত্রে আমি জানতাম তিনি সৎ এবং ভালো মানুষ। তবে এত প্রাণখোলা আড্ডাবাজ মানুষ তিনি, তা জানা ছিলো না। মন্ত্রী হওয়ার আগে আমলা ছিলেন, অহংকার থাকার কথা। অথচ তাঁর ব্যবহারে মন্ত্রীরও অহংকার নেই। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে দাওয়াত করতে সংসদের সিনিয়র সহসভাপতি আ.ন.ম শফিকুল হকের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ সিলেট সার্কিট হাউসে যাই বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান-এর সাথে মোলাকাতে। আমি ছাড়াও এই গ্রুপে ছিলেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ-সভাপতি, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আজিজ আহমদ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, সদস্য সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের।
মন্ত্রী গাড়ী থেকে নেমেই আ ন ম শফিক সাহেবকে ‘নেতা’ সম্বোধন করে জড়িয়ে ধরেন। আমাদের সাথে হাত মিলান। পুলিশের সালাম গ্রহণ করেন। ফিরে এসে আমাদেরকে নিয়ে সার্কেট হাউসের লিফটে উঠেন। লিফট ছোট হওয়ায় মন্ত্রীর সাথে আ ন ম শফিক সাহেব, আমি ও মন্ত্রীর সচিব লিফটে উঠেন। লিফটেই শফিক সাহেব মন্ত্রীর সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি আমার কাধে হাত রেখে বলেন, তুমি সৈয়দ ফারুকের সন্দিক। বললাম, হ্যাঁ। সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। লিফট থেকে বেরুতেই দেখি মন্ত্রীর সাথে দেখা করতে প্রচুর লোক এসেছেন। মন্ত্রী আমার হাত আর ছাড়লেন না, আমাদেরকে নিয়ে তিনি তাঁর শয়নকক্ষে প্রবেশ করলেন। অনুভব করলাম, সৈয়দ ফারুকের সাথে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে কিংবা এই আত্মিকতা আওয়ামীলীগের সাবেক জেলা সভাপতি আ ন ম শফিকুল হকের সম্মানার্থে। বাকিদেরকে বললেন, ওয়াইটিংরোমে অপেক্ষা করতে। সিলেটের সাহিত্য এবং সংস্কৃতি বিষয়ক দীর্ঘ গল্প হয়। সাধারণত মন্ত্রী বা আমলাদের সাথে কথা বলা যায় না। কিন্তু তাঁর সাথে আমরা সবাই কথা বলি একেবারে আড্ডার মেজাজে। দেওয়ান মাহমুদ রাজা তাঁর বাড়ি দোয়ালিয়া বললে তিনি জানতে চান দেওয়ান মুহাম্মদ আজরফের মেয়ে পরাগ বেগম-এর কথা। দেওয়ান মাহমুদ রাজার সম্পর্কে ফুফু।
আ ন ম শফিক সাহেব কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য সম্মেলনের দাওয়াত দিলে তিনি গ্রহণ করে বিনয়ের সাথে বলেন, ‘আমি কি এসবের যোগ্য? তবু আসবো।’ তারিখ দেন ১২ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ। তিনি জানান, ‘জীবনের প্রথম ম্যাগাজিনের সাথে পরিচয় ঘটে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের আল-ইসলাহের মাধ্যমে।’ তিনি তাঁর সেক্রেটারীকে ডেকে বললেন, শফিক সাহেব আমাদের নেতা, তাঁকে যেনো আর যোগাযোগ করতে হয় না। তোমরা নিজেরা যোগাযোগ রাখবে।
এখন বিদায়ের পালা। সবাই বিদায় নিলাম। দরজা খোলা হলে প্রচুর লোক প্রবেশ করলেন। কেউ কেউ মন্ত্রীর হাতে হাত রেখে আওয়ামীলীগে যোগ দিলেন। আমরা বেরিয়ে হাটতে থাকি। মন্ত্রী বেরিয়ে লিফটে ওঠেন। নীচে আসার পর পুলিশ আবার আনুষ্ঠানিক সালাম জানাতে চাইলে মন্ত্রী আপত্তি করে বলেন, এত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই, বরং আপনাদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম। মন্ত্রী হাত উঠিয়ে পুলিশদেরকে সালাম করে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে ওঠেন।



















