প্রতিপক্ষের নির্যাতনে বাড়িছাড়া অসহায় পরিবার
- Update Time : ০৭:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০২৪
- / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :: প্রতিপক্ষের জুলুম, অত্যাচার ও নির্যাতনে বাড়িছাড়া হয়েছে ৭ সদস্যদের একটি স্বচ্ছল পরিবার। বসতঘর ভাংচুর, পুকুরের মাছ ও বৃক্ষরাজি নিধন, নগদ অর্থকড়ি ও মূল্যবান আসবাবপত্র লুটে নিয়ে রক্তাক্ত জখম করে একটি নিরীহ পরিবারকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের দাঁঙ্গাবাজ লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের পল্লীতে।
সম্প্রতি নির্মম লোমহর্ষক এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নরসিংপুর ই্উনিয়নের পুরান সিরাজপুর গ্রামে। স্ত্রী, এক কন্যা ও চার পুত্রসন্তান নিয়ে ওই গ্রামের মৃত ইর্শাদ মড়লের পুত্র কাঠমিস্ত্রি সিরাজ আলীর সংসার। বাবার মৃত্যুর পর থেকে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল গ্রামের প্রভাবশালী পরিবারের সঙ্গে। শেষমেষ প্রতিপক্ষের নির্যাতন ও গলাধাক্কায় সব হারিয়ে নি:স্ব হয়ে বাড়ি ছেড়ে ৭ সদস্য নিয়ে অন্যের বাড়িতে কোনোমতে মাথাগোঁজার ঠাই করেছে ওই নির্যাযিত পরিবারটি।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় বছর খানেক পূর্বে গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে আব্দুছ ছালামের ব্যটারীচালিত অটোরিকশাটি সিরাজ আলীর বাড়ির মিটার থেকে প্রতিদিন চার্জ দিতে বায়না ধরে। সিরাজ আলী এত রাজি না হলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আব্দুছ ছালাম গংরা। বাড়িঘর ভাংচুর, গাছ-গাছালি ও পুকুরের মাছ নিধনসহ পরিবারের সবাইকে প্রাণে মারার হুমকি গ্রদান করে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি সিরাজ আলী বাদি হয়ে আব্দুছ ছালামকে প্রধান করে গং ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে দোয়ারাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করে। এতে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে বিবাদী আব্দুছ ছালাম গংরা কাঠমিস্ত্রি সিরাজ আলীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশে হাকডাক ও গালমন্দ করলে সিরাজ আলী ঘর থেকে বের হলে তাকে এলাপাথারি কিলঘুসি ও লাথি মেরে আহত করে। এসময় স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী রাকিয়া বেগম এগিয়ে এলে এলোপাথারি কিলঘুসিম, লাথি মেরে রামদা দিয়ে বুকের বামপাশে কোপ দিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় রক্তাক্ত রাকিয়া বেগমকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে তার স্বামী সিরাজ আলীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরদিন আব্দুছ ছালামকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে দোয়ারাবাজার থানায় মামলা নং (০৫/১৯) দায়ের করেন। যার ধারা- ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৫৪/৪২৭/৩৮০/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড। ওই মামলায় আসবাবপত্র, ঘর ভাংচুর ও নগদ অর্থসহ সোয়া তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিয়ার রহমান।
এদিকে মমিলার প্রধান আসামি আব্দুছ ছালামকে গ্রেফতার করে কোর্টে চালান দেয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে বাদি সিরাজ আলীর অভিযোগ। ওই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি মোবারক আলীর নেতৃত্বে তার ছেলেপেলেসহ গ্রামের দাঁঙ্গাবাজ লোকজনের মারমুখি আচরণে স্ত্রী,কন্যা ও চার পুত্র সন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানান বাদি সিরাজ আলী।
সিরাজ আলীর আহত স্ত্রী রাকিয়া বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “নিজেদের বাড়িঘর হারিয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে আজ পরের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছি। নিরাপত্তাহীনতায় দুটি ছেলে সুদুর ঢাকা শহরে পেটের তাগিদে ছুটে যায়। এদিকে অর্থাভাবে মামলা মোকদ্দমা পরিচালনা করাতো দূরের কথা সন্তানদের মুখে দু‘মুঠো অন্ন জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বামী বেচারা। আমাদের বাড়িঘর, আসবাবপত্র ও নগদ অর্থকড়িসহ হারানো সবকিছু ফিরিয়ে দেওয়াসহ রক্তাক্ত জখমের পূর্ণ বিচার চাই।”
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিয়ার রহমান জানান, মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে আছে।



























