পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন কারাবন্দি সেই মা
- Update Time : ০৩:০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন কারাবন্দি সেই মা।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি হত্যা মামলার আসামি সুমাইয়া (২০) সন্তান জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলেসন্তানের জন্ম দেন তিনি। এ খবরে জেলা কারাগারের বন্দিদের মধ্যে মিষ্টি মুখ করা হয়েছে। নবজাতকের দেখাশোনা করছেন নারী কারারক্ষীরা। সুমাইয়া তাঁর স্বামী আরিফ হোসেনের প্রথম স্ত্রীর ঘরের ছেলে মো. ইয়াসিন (৭) হত্যা মামলার একমাত্র আসামি। ছয় মাস আগে সৎছেলেকে হত্যা মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সুমাইয়া। পরে আদালতে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় ইয়াসিন হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সুমাইয়া। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় সুমাইয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার ফরিদ উদ্দিন রুবেল জানান, বেলা ১১টার দিকে প্রসব বেদনা ওঠে সুমাইয়ার। পরে তাঁকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে সিজার (অস্ত্রোপচার) করা হয়। এ সময় তিনি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। ফরিদ উদ্দিন রুবেল আরো জানান, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জেলা কারাগার সুমাইয়ার সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল ও ওষুধ বাবদ খরচ মেটায়।
এদিকে, দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়ার কারাবন্দি অবস্থায় সন্তান জন্ম দেওয়ার খবর পেয়ে ছুটে আসেন স্বামী আরিফ হোসেন। তিনি একজন সেনাসদস্য। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেওয়ার সুখবরটি তাকে দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপরই তিনি সন্তানের মুখ দেখার জন্য হাসপাতালে ছুটে আসেন। আরিফ হোসেন আরো জানান, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এক বছর আগে তিনি সুমাইয়াকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তাঁদের ইয়াসিন নামে একটি ছেলেসন্তান ছিল।
সুমাইয়া ও আরিফ হোসেনের বাড়ি জেলার সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগদি গ্রামে।
চলতি বছরের মে মাসে বয়রাগাদি গ্রামে ইয়াসিনকে হত্যার পর পুকুরের কচুরিপানার ভেতর গুম করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ইয়াসিনের সৎমা সুমাইয়াকে আটক করে। পরে পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সুমাইয়া। ইয়াসিনের বাবা আরিফ হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।



















